Published : 15 Jul 2026, 01:43 AM
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নাকি ‘ফার্মের মুরগি’। ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিলে মিছিলে ঝড় তুলেছেন। তারা স্লোগান তুলেছেন, ‘তুমি কে, আমি আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’! শিক্ষার্থীরা কেন সেধে ফার্মের মুরগি হতে চাইছেন? কারণ ক্ষোভ।
আমাদের বিজ্ঞ, অতি-উৎসাহী এবং সর্বদা কৌতুকপ্রিয় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গেল ১৩ জুলাই শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। এতেই চটেছেন শিক্ষার্থীরা! এখন তাদের সাফ কথা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, নয়তো পদত্যাগ করতে হবে। জিপিএ-৫ এর লোভে দিনরাত পড়ালেখা করা ছেলেমেয়েরা যে এভাবে ‘কক কক’ করে রাজপথে নেমে আসবে, তা বোধহয় মন্ত্রী মহোদয় তার দিবাস্বপ্নেও ভাবেননি। অবশেষে তিনি এই ফার্মের মুরগিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে খবরে প্রকাশ পেয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ানোই যেন তার নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একজন মেয়েকে দেখলাম, তাকে ‘স্ট্রেস মন্ত্রী’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাকে থামানোর আবেদন করছেন।
এই ‘চাপমন্ত্রী’ এর আগে এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় মনে রাখেননি, তার ইচ্ছে অনুযায়ী জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা হতেই পারে। হওয়া উচিত। কিন্তু এবারই কেন? সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করার আগে পাঠ্যবই বিতরণের ক্ষেত্রে যে ওই গতি ছিল না তা একবারের জন্যও ভেবে দেখেননি। তার ঘোষণা সত্যি হলে, আসছে বছর জানুয়ারিতে যারা এসএসসি পরীক্ষা দেবেন, তাদের বই পাওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু সেই বই ঢাকায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে এবং ঢাকার বাইরে জুন-জুলাইয়ে বিতরণ শেষ হয়েছিল। তখন এহছানুল হক মিলন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন না। তাই বলে বই বিতরণে বিলম্বের দায় তো এড়াতে পারেন না। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের সময় তিনি ওই বিষয়টি মাথায় রাখেননি। বই দিতে দেরি হওয়ার পরও যদি ২০২৫ সালেই জানিয়ে দেওয়া হতো পরীক্ষা হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, তাহলে পরীক্ষার্থীরা হয়তো নিজেদের মতো করে প্রস্তুত হতে পারত। এহছানুল হক মিলন যখন ঘোষণা করলেন এসএসসি পরীক্ষা হবে জানুয়ারিতে, তখন এপ্রিলে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্ততি নেওয়া ছোট ছোট বাচ্চাগুলো হতভম্ব হয়ে পড়েছে। আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নেমেছে মাঠে, অন্য কোনোদিন যে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নামবে না, তার নিশ্চয়তা কে দিচ্ছে আমাদের মন্ত্রী মহোদয়কে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার এই চাপমন্ত্রীকে সামলান, ভুলে যাবেন না, আমাদের স্কুল-পড়ুয়া ছেলেমেয়েরাই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় রাজপথে নেমে আওয়ামী লীগ সরকারের ভিত ধরে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। পরীক্ষার রুটিনে পর্যাপ্ত বিরতি না রাখা, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া, পাঠ্যসূচির বাইরে প্রশ্নের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য, এসব বিষয় শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। অনেকের কাছে এটি শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা ও মর্যাদাকে খাটো করার মতো মনে হয়েছে।
মন্তব্যটি করে মন্ত্রী মহোদয় যে ‘জ্যাম’ পাকিয়েছেন, তা ছাড়াতে এখন খোদ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনেরও মাথা খারাপ হওয়ার দশা। এমনিতেই তিনি এ দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে কখনো ‘ভিলেন’, আবার কখনো নিখাদ ‘কমেডিয়ান’ হিসেবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন। হেলিকপ্টারে বা গেরিলা যোদ্ধার কায়দায় নকল ধরতে যাওয়া কিংবা লাইভ ক্যামেরার সামনে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানপরীক্ষা নেওয়ার যে রোমাঞ্চকর অতীত তার রয়েছে, তাতে নতুন করে এই ‘ফার্মের মুরগি’ নামক জটিল উপমাটি না আমদানি করলেও পারতেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই বাজারে এমন একটি ‘খুচরা মন্তব্য’ করা মোটেও লাভজনক কোনো বিনিয়োগ ছিল না। এটি উল্টো শেয়ার বাজারের ধসের মতো মন্ত্রীর ইমেজ সূচককে মাইনাসে নামিয়ে এনেছে।
এতদিন আমরা ভাবতাম, শিক্ষার্থী হলো সম্ভাবনার প্রতীক, ভবিষ্যতের নাগরিক, স্বপ্নের বাহক। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় তাদের একটি উন্নত জাতের পোল্ট্রি প্রজাতির উপমা দিয়ে ফেসে গেছেন। এতদিন আমরা জানতাম, ফার্মের মুরগি হলো সেই প্রাণী, যাকে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট ওজন হলে বাজারে পাঠানো হয়। তার ডানা আছে, কিন্তু উড়ার সুযোগ নেই। তার জীবনচক্র পরিকল্পিত, জন্ম, খাবার, মোটা হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত বাজারের তালিকায় স্থান পাওয়া। পরীক্ষার্থীদের সেই একই প্রজাতির আখ্যা দিয়ে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন!
মন্ত্রী মহোদয় হয়তো গভীর দার্শনিক চিন্তা থেকেই এই উপমা দিয়েছেন। হয়তো তিনি বলতে চেয়েছেন, শিক্ষার্থীরা যেন কৃত্রিম পরিবেশে বেড়ে ওঠা, অতিরিক্ত যত্ন পাওয়া এক প্রজন্ম। কিন্তু সমস্যা হলো, যে সময়ে তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথা, সে সময়ে তাদের যদি বলা হয়, ‘তোমরা ফার্মের মুরগি’, তাহলে তারা স্বাভাবিকভাবেই ভাববে, তাদের ডানা কেটে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে হয়তো। একালের সন্তানকে ‘সিংহ হও’ বলার বদলে যদি বলা হয় ‘তুমি তো মুরগি’, তাহলে সন্তানটি প্রথমে নিজের আত্মবিশ্বাস নয়, নিজের ডানা খুঁজতে শুরু করবে। যিনি এমন কথা বলেছেন, তার পাখা ধরে ডান ধরে টান দিলে আমাদের মতো আমজনতার কী করার থাকবে। শিক্ষামন্ত্রীর সৌভাগ্য যে তার পড়াশোনা, পিএইচডি অর্জন ইত্যকার বিষয় নিয়ে ছেলেমেয়েরা যা যা বলছে, সেই সবের সবকিছু প্রকোশ্যে আসছে না এবং আমরা অভিভাবকরা শুনতে পেলেও মন্ত্রী মহোদয়কে সবকিছু শুনতে হচ্ছে না।

এখানেই আধুনিক শিক্ষা দর্শনের সঙ্গে পুরোনো মানসিকতার সংঘর্ষ। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরা সেই পুরোনো যুগের ছাত্র নয়, যারা মাথা নিচু করে শুধু বলবে, ‘স্যার যা বলেছেন, তাই ঠিক।’ এখন তারা প্রশ্ন করে। তারা যুক্তি দেয়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করে। তারা জানে, পরীক্ষা কঠিন হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার্থীকে অপমান করার অধিকার কোনো পরীক্ষার সিলেবাসে লেখা নেই।
এখানে মনে রাখা দরকার যে, মানুষ আর মুরগির মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। মুরগি কথা বলতে পারে না। মানুষ পারে। আর মানুষ যখন কথা বলা শুরু করে, তখন খাঁচার মালিকদের একটু অস্বস্তি হওয়াই স্বাভাবিক। ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যটি তাই শুধু একটি শব্দ নয়; এটি যেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আয়নায় ধরা পড়া একটি অস্বস্তিকর ছবি। প্রশ্ন হলো, যদি শিক্ষার্থীরা মুরগি হয়, তাহলে এই খামারের মালিক কে? কে বানিয়েছে সেই খাঁচা? কে তৈরি করেছে সেই খাদ্য তালিকা, যেখানে বছরের পর বছর মুখস্থ বিদ্যা খাইয়ে, পরীক্ষার ভয় দেখিয়ে, জিপিএ নামের ডিম উৎপাদনের যন্ত্র বানানো হয়েছে? কে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে যেখানে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে, সে কত নম্বরের ডিম পাড়তে পারবে?
অভিভাবকদের প্রশ্ন তাই খুব স্বাভাবিক, যদি সন্তানরা ফার্মের মুরগি হয়, তাহলে সেই ফার্মের ব্যবস্থাপনা কোথায়? এদিকে পরীক্ষার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাইরে বৃষ্টি, রাস্তা পানিতে ডুবে আছে, শিক্ষার্থীরা কাদা মাড়িয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনের একটাই মহামন্ত্র: ‘পরীক্ষা হবে।’ মনে হয়, প্রকৃতি যদি সেদিন বন্যা পাঠিয়ে বলে, ‘আজ একটু বিরতি দিন’, তাহলেও উত্তর আসবে, ‘দুঃখিত, রুটিন আছে।’ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মাঝে মাঝে কাগজ মানুষের চেয়ে বড় হয়ে যায়। পরীক্ষার খাতা শুকনো থাকলেই সব ঠিক আছে। পরীক্ষার্থী ভিজল কি না, তার চোখে ভয় আছে কি না, তার মানসিক অবস্থা কেমন—এসব যেন গৌণ বিষয়। কারণ এখানে মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষা শেষ করা। শিক্ষার্থী টিকে থাকল কি না, সেটি পরের অধ্যায়।
এবার আসা যাক প্রশ্নপত্রের মহাকাব্যে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, প্রশ্নপত্রের মান ও ধরন তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। কেউ কেউ এমন অনুভব করেছে, তারা এইচএসসি পরীক্ষায় নয়, বরং কোনো উচ্চতর প্রকৌশল ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধক্ষেত্রে বসেছে। এখানে একটি প্রশ্ন করতেই হয়, বোর্ড পরীক্ষা কি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাই করবে, নাকি তাদের হৃদস্পন্দনের সর্বোচ্চ সীমা পরীক্ষা করবে? কঠিন প্রশ্ন অবশ্যই হতে পারে। কারণ জীবনও কঠিন। কিন্তু কঠিনতার নামে যদি এমন প্রশ্ন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী মনে করে—’আমি যা শিখেছি, তা দিয়ে এই যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়’, তাহলে সেটি মূল্যায়ন নয়, রীতিমতন বিভ্রান্তি।
মনে হচ্ছে, কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীর ওপর যত বেশি চাপ দেওয়া যাবে, তত বেশি প্রতিভা বের হবে। এই ধারণা অনেকটা এমন: একটি বেলুনকে যত চাপ দেওয়া হবে, তত বড় হবে। কিন্তু সবাই ভুলে যায়, অতিরিক্ত চাপ দিলে বেলুন বড় হয় না, ফেটে যায়। মানুষও তাই।
শিক্ষার্থীরা কয়লা নয় যে চাপ দিলেই হীরা হয়ে যাবে। অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় শুধু হতাশা তৈরি করে। আর সেই হতাশার ফলেই আজ ‘ফার্মের মুরগিরা’ খাঁচা ঝাঁকাতে শুরু করেছে। যারা এতদিন বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে ছিল, তারা এখন রাজপথে দাঁড়িয়েছে। তাদের হাতে এখন আর কলম নেই, আছে প্ল্যাকার্ড। তাদের প্রশ্ন এখন পরীক্ষার খাতায় নয়, রাষ্ট্রের বিবেকের সামনে। এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
যে প্রজন্মকে দুর্বল ভাবা হয়েছিল, তারাই একদিন প্রশ্ন করতে শেখে। যে মুরগিকে খাঁচায় বন্দি ভাবা হয়েছিল, তারাই একদিন ডানা ঝাপটায়। আর ইতিহাস বলে, ডানা ঝাপটানো শব্দকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা যায় না। তাই শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি ছোট্ট অনুরোধ, নতুন নতুন উপাধি আবিষ্কারের আগে একটু নতুন চিন্তা আবিষ্কার করুন। শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে নয়, পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা দিতে হয়। কারণ তারা কোনো পোল্ট্রি প্রকল্পের উৎপাদন ইউনিট নয়। তারা মানুষ। তাদের স্বপ্ন আছে, পরিবার আছে, ভবিষ্যৎ আছে।
আর সবশেষে, মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য একটি বিনীত অনুরোধ, দিন শেষে যখন বিশ্রাম নিতে যাবেন, তখন সেই পুরোনো সংলাপটি আর বলবেন না: ‘এই তোমরা কেমন আছ? ঠিকমতো পড়াশোনা কর তো? পড়তে হবে, নকল আর হবে না।’
কারণ এখনকার শিক্ষার্থীরা হয়তো পাল্টা জিজ্ঞেস করবে, ‘স্যার, আমরা পড়ছি ঠিকই। কিন্তু আপনারা কি আমাদের পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি করছেন?’
এই প্রশ্নের উত্তরই এখন আসল পরীক্ষা। এবার প্রশ্নপত্র তৈরি হবে কার জন্য, শিক্ষার্থীদের জন্য, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য? কারণ খাঁচার মুরগি যদি একদিন নিজের ডানা চিনে ফেলে, তখন সবচেয়ে বড় বিপদ হয় খাঁচার মালিকেরই।
এই পুরো ঘটনার শেষ দৃশ্যে এসে বাংলার মহান দার্শনিক ও চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের সেই অমর এবং কালজয়ী আপ্তবাক্যটির কথা মনে পড়ে যায়। অনন্ত জলিল সাহেব কিছু দিন আগে তার সেই বিখ্যাত ভাঙা-ভাঙা বাংলায় বলেছিলেন: ‘একটা মিথ্যা করলে মিথ্যা কথা বললে অনেক মিথ্যা করলে মানে অনেক একটা মিথ্যা কথা বললে ওইটা অনেকগুলা মিথ্যা আরো কথা বললে ঢাকার চেষ্টা করলে মিথ্যা মিথ্যাই থেকে যাবে।’
অনন্ত জলিলের এই উক্তির ভেতরের গভীর দর্শনটা মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। কেবলই মনে হচ্ছে, একটা গোলমেলে কথা করলে গোলমেলে কথা বললে অনেক গোলমেলে করলে মানে অনেক একটা গোলমেলে কথা বললে ওইটা অনেকগুলা গোলমেলে আরো কথা বললে ঢাকার চেষ্টা করলে গোলমেলে গোলমালই থেকে যাবে!
এখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে—শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দেওয়া। কারণ অবহেলিত ক্ষোভ কখনো কখনো এমন এক সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় রূপ নিতে পারে, যা কঠোর সিদ্ধান্তের দেয়ালও ভেঙে দিতে সক্ষম।
পুনশ্চ: শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে খবরে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি যে খুব সহজে দুঃখ প্রকাশ করেননি, তার প্রমাণ তো রাজপথে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দিয়েছেন। তাও মন্দের ভালো তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে দুঃখ প্রকাশই তো শেষ কথা নয়। মন্ত্রী মহোদয়কে বলব, শিক্ষার্থীদের চাপে ফেলার জন্য আপনাকে শিক্ষামন্ত্রী বানানো হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও সর্নিবন্ধ অনুরোধ করব, আপনি আপনার চাপমন্ত্রীকে সামলান। এসএসসি পরীক্ষার রুটিনসহ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগকারী যে সব সিদ্ধান্ত তিনি এরই মধ্যে ঘোষণা করে রেখেছেন, সেগুলো পুনির্বিবেচনা করার নির্দেশ দিন।
চিররঞ্জন সরকার লেখক ও কলামনিস্ট। ই-মেইল: [email protected]