Published : 15 Jul 2026, 01:32 AM
বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর পেরিয়ে গেছে এক সপ্তাহের বেশি সময়। কিন্তু, ফোলারাইন বালোগনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা যেভাবে স্থগিত করেছিল ফিফা, তা নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। এবার এই ফরোয়ার্ড নিজেই বললেন, ফিফার হুট করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্ত যে বিতর্কের জন্ম দেবে, তা তিনি আন্দাজ করতে পেরেছিলেন এবং তা তার সতীর্থদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল, সেটাও বুঝতে পারছিলেন তিনি।
শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগন। ৬৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের তারিক মুহারেমোচকে ফাউল করে বহিষ্কার হন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।
লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায়, শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারতেন না বালোগন। কিন্তু ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর দুই দিন আগে তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসতে থাকে যে, ‘নিষেধাজ্ঞা বাতিল’ করার জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিকোকে ফোন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই, স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই ফুটবলারের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে ফিফা।
তাতে, বেলজিয়াম ম্যাচে খেলার ছাড়পত্র পেলেও, তুমুল সমালোচনা আর বিতর্কিত এক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন বালোগন। ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় ফুটবল জগতের অনেকে। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাও দেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অনেক আইনপ্রণেতা।
আর এবার, মঙ্গলবার সকালে ‘ফেয়ার স্কয়ার’ নামের হিউম্যান রাইটস গ্রুপ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্করক্ষায় তিনি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছেন দাবিতে আন্তজার্তিক অলিম্পিক কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।
পরে অবশ্য ট্রাম্প নিজেই ‘বালোগনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য’ ইনফান্তিনোকে ফোন করার কথা স্বীকার করেন। আর ট্রাম্পের ফোন পেয়েই, নিষেধাজ্ঞা বাতিলের কোনো নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও তাই করে ফিফা।
ওই ঘটনা প্রসঙ্গে সিবিএসকে বালোগন বলেছেন, “(নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায়) দলে ফিরতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। তবে যখন আমি পুরো ঘটনায় নজর দিলাম, তখন বুঝতে পারলাম, বিষয়টা অনেক বিতর্ক তৈরি করবে এবং এর ফলে আমার সতীর্থদের ওপর যে একটা মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটাও বুঝতে পারছিলাম। কারণ এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।”
সত্যিই তাই, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবশেষ এমন কিছু ঘটেছিল সেই ১৯৬২ সালে। সেবার সেমি-ফাইনালে চিলির বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেছিলেন ব্রাজিলের গারিঞ্চা। তবে তাকে ফাইনালে খেলার অনুমতি দিয়েছিল ফিফা।
ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর বিতর্কিত কাণ্ডে বেলজিয়ামের বিপক্ষে বালোগন খেলার সুযোগ পেলেও ম্যাচটা একদমই সুখকর হয়নি যুক্তরাষ্টের জন্য। ম্যাচটিতে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা।
তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের কারণে তৈরি হওয়া বিরূপ পরিস্থতির কারণে দল যে বেশ চাপে পড়েছিল, তা লুকাননি বালোগন।
“ম্যাচের সময় যত এগিয়ে আসছিল, আমি ততই ফুটবলে বেশি করে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তা বেশ কঠিন ছিল। বাইরে অনেক কথাবার্তা হচ্ছিল এবং সেসব উপেক্ষা করাও কঠিন ছিল।”
তবে সেই কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় তার সতীর্থরা পাশে ছিলেন বলেও জানালেন বালোগন। এখন তার কাছে মনে হচ্ছে, ওই সময়টাই ছিল দুর্ভাগ্যজনক, যা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
আর মাঠের যে ঘটনা নিয়ে এত কিছু, সেই ঘটনায় তার লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল না বলেও মনে করেন বালোগন।
“আমি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলাম। এটা এমনকি কোনো ট্যাকলও ছিল না। আমি পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, আপনারা আমার প্রতিক্রিয়ায় দেখেছিলেন। কিন্তু আমাকে সিদ্ধান্তটা মেনে নিতেই হতো এবং দলের জন্য সেখানে আমার থাকতে হতো।
“যখন কোনো কিছু (ফাউল) ইচ্ছাকৃত না হয়, তখন সেটা কোনোভাবেই লাল কার্ড হওয়া উচিত নয়। সেটা ছিল অনিচ্ছাকৃত একটা পরিস্থিতি এবং আমার মনে হয়, এটা স্বাভাবিকের চেয়ে আমাদের ওপর অনেক চাপ তৈরি করেছিল।”