Published : 15 Jul 2026, 01:21 AM
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন মিশর কোচ হোসাম হাসান। দুই হাত কোনাকুনি ধরে দেওয়া সঙ্কেতের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
গত ৭ জুলাই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ম্যাচটিতে একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ দিকে ১৩ মিনিটের মধ্যে তিন গোল খেয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বসে আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসান ও তার কোচিং স্টাফের সদস্যরা। এক পর্যায়ে রেফারির মুখোমুখি হয়েও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে দেখা যায় তাদের।
এসবের মধ্যেই টাচলাইনের পাশে দাঁড়িয়ে দুই হাত দিয়ে ‘X’ অক্ষরের মতো চিহ্ন দেখান হাসান। বেশ কিছুক্ষণ ধরে ডাগআউটের সামনে ঘুরে ঘুরে সহকারী রেফারিদের সামনে গিয়ে সেই সঙ্কেত দেখাতে থাকেন তিনি। মাঠের রেফারির দিকেও দেখান। সহকারী রেফারিরা তখন মাঠের রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রেফারি ফঁসোয়া লুতেকসিয়ে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখান মিশরের কোচকে।
ফিফার বৈষম্যবিরোধী প্রোটোকল অনুযায়ী, ম্যাচের সময় বর্ণবাদী আচরণ বা বৈষম্যের শিকার হলে খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তারা উভয় বাহু দিয়ে 'X' চিহ্ন তৈরি করে অভিযোগ জানাতে পারেন।
সেদিন ম্যাচের পর ওই সঙ্কেত নিয়ে হাসান বলেছিলেন, “সাধারণ জীবন, স্বাভাবিক জীবনে বৈষম্য থাকে, ঠিক আছে। কিন্তু খেলাধুলায় কোনো ন্যায্যতা নেই কেন? এখানে কেন বৈষম্য থাকবে? ফুটবলে কেন বৈষম্য থাকবে?”
এক সপ্তাহ পর আবার বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ।
“অঙ্গভঙ্গিটি বর্ণবাদ নিয়ে ছিল না। আমি তাকে (রেফারি) বলেছিলাম, ‘আপনি ন্যায্য আচরণ করছেন না’।”
সেদিন মেসির সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, সেটিও বললেন হাসান।
“সে আমার কাছে এসে বলছিল, ‘কেন?, কেন?, কেন?’ এরপর আর কী কী বলেছিল, জানি না। ম্যাচে খুব কমই তাকে এমন তর্কে জড়াতে দেখেছি, তার মধ্যে সেদিন ছিল একটা। শেষ পর্যন্ত সে কেঁদে ফেলেছিল, কারণ সে মানসিকভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল।
“মিশর খুবই কঠিন দল ছিল এবং আমরা তাদের চাপে ফেলেছিলাম। তার (মেসির) ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান রেখে, তাকে কোনো জবাব না দেওয়ার এবং আমাদের মধ্যে কথার লড়াই এড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম আমি।”