Published : 13 Jul 2026, 02:06 PM
বিশ্বকাপ ইতিহাসের মহাকাব্যিক কিছু ম্যাচ উপহার দিয়েছে আর্জেন্টনা ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের বাইরেও স্মরণীয় কিছু লড়াই হয়েছে। রাজনৈতিক অতীতের কারণেও দুই দলের লড়াইয়ে থাকে বাড়তি উত্তেজনার রসদ। অথচ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কখনও ইংলিশদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাননি লিওনেল মেসি। এবারের ম্যাচটি নিয়ে তাই রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় আর্জেন্টাইন মহানায়ক।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও একই ম্যাচে জাদুকরী আরেক গোলের সেই ম্যাচের পর থেকেই আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই সবসময়ই তুমুল উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে বিরোধের জের ধরে ফুটবলে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক মসলাও। ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপেও এই দুই দলের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
২০০২ আসরে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ডের জয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি দুই দলের। ২০০৫ সালের পর প্রীতি ম্যাচেও আর কখনও মুখোমুখি হয়নি তারা। জেনেভায় সেবার ওই ম্যাচটিতে দুই দফায় পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জিতেছিল ইংলিশরা। মেসির ততদিনে আন্তর্জাতিক অভিষেক হলেও ওই ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে।
সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ আর পাওয়া হয়ে ওঠেনি মেসির। এবার সেই অচেনা স্বাদ তিনি পেতে চলেছেন।
এই দুই দলকে নিয়ে যে কোনো ফুটবলীয় আলোচনায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ উঠে আসা অবধারিতই। এবারও তা আসছে। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে মেসি বললেন, আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এই ম্যাচের আবেদন অন্যরকম।
“ওই ম্যাচ (১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড) নিয়ে আমি যা কিছু দেখেছি এবং মনে করতে পারি, সবই ভিডিও দেখে এবং ছবি থেকে। আর্জেন্টাইনরা প্রতিনিয়ত এসব দেখে এবং বারবার স্মরণ করে। তবে আমি মনে করি, আমাদের এই দলটি জানে কীভাবে ফুটবল খেলতে হয়, প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন।
“আমরা এটাকে এর আসল রূপেই গ্রহণ করব: একটি পরাশক্তি, একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ম্যাচ এবং আমরা আবারও চেষ্টা করব লড়াই করার জন্য সম্ভাব্য সেরা অবস্থায় পৌঁছানোর।”
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ম্যাচের ওজন নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এই ম্যাচ মেসির কাছে আরও শেষ কিছু হয়ে উঠছে প্রতিপক্ষের কারণেও।
“স্বাভাবিকভাবেই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ কিছু, কারণ তারা শক্তিশালী দল এবং এমন দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ সবসময়ই স্পেশাল হয়। ব্যক্তিগতভাবে, তাদের বিপক্ষে আমি এই প্রথম খেলতে যাচ্ছি। ইংল্যান্ড ছাড়া সবার বিপক্ষেই খেলেছি, এই কারণেও ম্যাচটি ভালো লাগবে।”
মেসির এই রোমাঞ্চ স্পর্শ করছে তার সতীর্থদেরও। রদ্রিগো দে পল যেমন বললেন, এর মধ্যেই ব্যাপারটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে তাদের।
“হ্যাঁ, আমরা জানি (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম খেলবেন মেসি)। আমরা এক পর্যায়ে এটা নিয়ে কথা বলেছিলাম। দারুণ ম্যাচ হবে, কিন্তু স্কালোনি যেমনটা বলেছেন, এটি স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ। তবে সেমি-ফাইনাল হওয়ায় এর বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু আমরা প্রস্তুত।”