Published : 13 Jul 2026, 02:49 PM
বার্সেলোনার জার্সিতে যে দায়িত্বে দেখা যায় পেদ্রিকে, স্পেনের হয়ে তাকে সেই ভূমিকায় দেখা যায় না। লুইস দে লা ফুয়েন্তের মতে, দুই দলের খেলার ধরন ও কৌশলগত দিক আলাদা হওয়ায় এই মিডফিল্ডারকে ভিন্ন দুই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তবে এটাকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখেন না স্পেনের কোচ। পেদ্রির বহুমাত্রিক সামর্থ্যই স্পেনকে ম্যাচভেদে ভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেয় বলে মনে করেন তিনি।
লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের হয়ে মাঝমাঠ সামলান পেদ্রি। নিচ থেকে আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়া, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, সঙ্গে রক্ষণেও সহায়তা করা; কাতালান ক্লাবে এসব দায়িত্ব থাকে তার।
কিন্তু স্পেন দলে রদ্রির মতো অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার থাকায়, পেদ্রির ভূমিকা বদলে যায়। স্প্যানিশদের হয়ে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে দেখা যায় তাকে। প্রতিপক্ষের বক্সের আশাপাশে থাকা, রক্ষণচেরা পাস দিয়ে অ্যাসিস্ট করা, নিজে গোল করার সুযোগ তৈরি করা; এসব করে থাকেন তিনি স্পেনের হয়ে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের আগে এক অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে, পেদ্রির ভূমিকা নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে।
“বার্সার হয়ে পেদ্রি যেভাবে খেলে, আমাদের জন্য সেভাবে খেলতে পারবে না। আমাদের খেলার ধরন আলাদা। কিছু মিল থাকলেও দর্শনটা ভিন্ন। আমাদের রদ্রি ও (মার্তিন) সুবিমেন্দির মতো খেলোয়াড় আছে, আর তার (পেদ্রি) সঙ্গে যে-ই খেলুক, ওই খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলে। ক্লাবে সে যেভাবে খেলে, এখানে সেভাবে খেলতে পারে না, কারণ আমাদের চাওয়া ভিন্ন, আমাদের ফুটবলীয় দর্শনও আলাদা।
“সামর্থ্য ও প্রতিভার কারণে পেদ্রি ৬, ৮ কিংবা ১০ নম্বর হিসেবে খেলতে পারে। আমার তার সঙ্গে কথা হয়েছে, আর সে নিজেও শেষ পাস দেওয়া, শট নেওয়া এবং বক্সে ঢুকে আক্রমণে অংশ নিতে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। আমরা চেষ্টা করি সবাই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে, যাতে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখাতে পারে। বার্সার হয়ে সে যেভাবে খেলে এবং জাতীয় দলের হয়ে যেভাবে খেলে—দুটিই আমার ভীষণ পছন্দ।”
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম পাঁচটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন পেদ্রি। কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে অভিজ্ঞ ফুটবলারকে শুরুর একাদশে না রেখে চমক দেন দে লা ফুয়েন্তে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা ২৩ বছর বয়সী পেদ্রিকে নিয়ে সেদিন কী পরিকল্পনা ছিল স্পেনের?
“বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশে না রাখার কারণ তার খারাপ ফর্ম নয়। ওই ম্যাচে আমাদের ফাবিয়ার (রুইস) শক্তি জায়গা কাজে লাগানো বেশি প্রয়োজন ছিল। এছাড়া এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম যে, ম্যাচের পরিস্থিতি যখন বদলে যাবে, তখন পেদ্রির প্রতিভা ব্যবহার করে আমরা বল আরও বেশি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারব। আমরা চেয়েছিলাম সে যেন শান্ত থাকে, আর ম্যাচে ঠিক সেভাবেই খেলা হয়েছে যেভাবে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম।”
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পেদ্রিকে শুরুর একাদশে রাখেন কিনা কোচ, সেটা সময়ই বলবে। আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে ফরাসিদের মুখোমুখি হবে স্পেন।