Published : 15 Jul 2026, 11:39 AM
রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ। এই সহজ সত্যটি যত বেশি নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়, ততই একটি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী, প্রশাসন দক্ষ এবং উন্নয়ন টেকসই হয়ে ওঠে। আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই সংকট আরও গভীর, কারণ একদিকে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো, যেমন সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো, গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা স্থগিত রাখা এবং পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রেষণের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটির বিষয়টি বিবেচনা করা, এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়নের দাবি রাখে।
প্রথম দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপকে অনেকেই সরকারি সুযোগসুবিধা সংকোচনের উদ্যোগ হিসেবে দেখতে পারেন। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। সরকারি অর্থব্যবস্থাপনায় একটি বহুল স্বীকৃত নীতি হলো, জনসম্পদের প্রতিটি ব্যবহারকে এমনভাবে পরিচালিত করতে হবে যাতে একই অর্থে সর্বোচ্চ জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ ব্যয় কমানোই লক্ষ্য নয়; ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি করাই মূল উদ্দেশ্য। যখন বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, তখন সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি খাত পুনর্মূল্যায়ন করাকে একটি স্বাভাবিক এবং দায়িত্বশীল প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও গত কয়েক বছরে নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ৯ শতাংশের আশপাশে অবস্থান করেছে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থূল রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থাকলেও আমদানি ব্যয়, ঋণ পরিশোধ এবং বৈদেশিক লেনদেনের চাপ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগকে শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে নির্দিষ্ট হারে ব্যয় প্রদান করা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় সেই ব্যয়ের যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ইঙ্গিত করে যে সরকার পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক খাত এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অধিক অগ্রাধিকার দিতে চায়। এ কেবল ব্যয় সংকোচনের নীতি নয়; সম্পদের পুনর্বিন্যাসেরও প্রয়াস।
একইভাবে পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষা ছুটির বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্তও অর্থনৈতিক যুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যখন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোনো কর্মকর্তার টিউশন ফি, আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পূর্ণ বহন করে, তখন একই সময়ে রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে পূর্ণ বেতন প্রদান কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন নতুন নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন ক্ষেত্রে শিক্ষা ছুটি বা আংশিক আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে উচ্চশিক্ষার সুযোগও বজায় থাকে এবং সরকারি অর্থের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমে।
তবে এই ব্যয় পুনর্বিন্যাসের আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা চলছে। বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন পে স্কেল অতিশিগ্রই কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন এবং অন্যান্য কাঠামোগত সুবিধায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রভাব ব্যক্তিগত পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে, যদি সেই সংস্কার একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামোর অংশ হয়।
বিশ্বের সফল রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা দেখলে বোঝা যায়, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কেবল ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্জিত হয় না; আসলে তা দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির সমন্বিত সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভব হয়। সিঙ্গাপুর স্বাধীনতার পর প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতি সত্ত্বেও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, দক্ষ প্রশাসন এবং প্রতিযোগিতামূলক সরকারি বেতন কাঠামোর সমন্বয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম কার্যকর সরকারি প্রশাসনের উদাহরণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু জাতীয় আয় বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে একটি, আর তার পেছনে অন্যতম ভিত্তি ছিল সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবহার।
এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতাও সমানভাবে শিক্ষণীয়। স্বাধীনতার পর সীমিত সম্পদ নিয়ে দেশটি ডিজিটাল রাষ্ট্র গঠনের পথে হাঁটে। বর্তমানে দেশটির ৯৯ শতাংশের বেশি সরকারি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হয় এবং অধিকাংশ করদাতা মাত্র কয়েক মিনিটে ডিজিটালভাবে কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। এর ফলে প্রশাসনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হয়েছে এবং দুর্নীতির সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। অর্থাৎ তারা শুধু ব্যয় কমায়নি, ব্যয় ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ করেছে।
নিউজিল্যান্ড সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় ফলাফলভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। সেখানে কোনো মন্ত্রণালয় কত টাকা ব্যয় করেছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় সেই ব্যয়ের বিনিময়ে জনগণ কী সেবা পেয়েছে। এই কর্মসম্পাদনভিত্তিক মূল্যায়নের ফলে অকার্যকর প্রকল্প দ্রুত শনাক্ত হয় এবং জনসম্পদের অপচয় কমে আসে। একই ধরনের পদ্ধতি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও অনুসৃত হচ্ছে।
রুয়ান্ডার উদাহরণও উল্লেখযোগ্য। গণহত্যার ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর দেশটি পুনর্গঠনের সময় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দুর্নীতি দমনকে সমান গুরুত্ব দেয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত দুই দশকে দেশটি ধারাবাহিকভাবে আফ্রিকার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই তারা এই অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। শুধু ব্যয় সংকোচন কখনোই দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না, যদি একই সঙ্গে দুর্নীতি, প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, অনিয়ম, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার অব্যাহত থাকে। বিশ্বব্যাংক এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বহুবার উল্লেখ করেছে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়। ফলে একদিকে ছোটখাটো ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয় করা হলেও অন্যদিকে যদি বৃহৎ প্রকল্পে অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে সামগ্রিক আর্থিক সংস্কারের সুফল অনেকটাই হারিয়ে যায়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সীমা অতিক্রম এবং প্রকল্প সংশোধনের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বহু প্রকল্প একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে, যার ফলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের কর জিডিপি অনুপাত এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম, যা সরকারি অর্থায়নের সক্ষমতাকে সীমিত করে। এমন বাস্তবতায় ব্যয় পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপচয় রোধ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অবৈধ অর্থপাচার প্রতিরোধের বিষয়টিও এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবৈধ অর্থপ্রবাহ রোধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করে আসছে। কারণ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সাশ্রয়মূলক নীতি গ্রহণ করেও যদি বিপুল অঙ্কের সম্পদ অবৈধভাবে বিদেশে চলে যায়, তাহলে সেই সাশ্রয়ের সুফল সীমিত হয়ে পড়ে। তাই আর্থিক শৃঙ্খলা মানে শুধু ভাতা কমানো নয়, এর প্রকৃত অর্থ হলো রাষ্ট্রের প্রতিটি আর্থিক প্রবাহকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
অর্থনীতিবিদদের মতে একটি শক্তিশালী সরকারি অর্থব্যবস্থার ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর। প্রথমত ব্যয়ের যৌক্তিকতা, অর্থাৎ যে ব্যয় করা হচ্ছে তা জনস্বার্থে কতটা প্রয়োজনীয়। দ্বিতীয়ত স্বচ্ছতা, যাতে জনগণ জানতে পারে তাদের করের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে। তৃতীয়ত জবাবদিহি, যাতে কোনো অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দায় এড়াতে না পারে। চতুর্থত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, যা পুরো ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখে। এই চারটি বিষয় একসঙ্গে কার্যকর না হলে কোনো আর্থিক সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না।
বাংলাদেশ এখন উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগোনোর লক্ষ্য, স্মার্ট প্রশাসন গঠন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে। এই যাত্রায় কৃচ্ছ্রসাধনকে কেবল ব্যয় কমানোর সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে একটি বৃহত্তর আর্থিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রশাসন সম্প্রসারণ, কর আহরণ শক্তিশালী করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি অর্থের মালিক জনগণ। সেই অর্থের প্রতিটি ব্যবহার জনগণের কল্যাণে ব্যয় হওয়াই রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই কৃচ্ছ্রসাধন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা কেবল কিছু ভাতা বা সুবিধা পুনর্বিন্যাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পরিণত হবে সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি সর্বজনীন নীতিতে। বিশ্বের সফল রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে দেখায় যে সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান একসঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হলেই টেকসই উন্নয়নের ভিত মজবুত হয়। বাংলাদেশের বর্তমান উদ্যোগ যদি সেই সমন্বিত সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে পারে, তবে ব্যক্তি, প্রশাসন, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্র, সকলেই দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক সুফল ভোগ করবে।
খালিদুর রহমান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক। ই-মেইল: [email protected]