Published : 15 Jul 2026, 07:09 PM
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথের ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি বিতর্কিতও। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের আগে ঘুরে ফিরে আসছে সেসব প্রসঙ্গ। তবে অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে নারাজ টমাস টুখেল। ইংল্যান্ডের কোচ বলেছেন, স্রেফ আসছে ম্যাচেই সব মনোযোগ দিচ্ছেন তারা।
১৯৬৬ সালে নিজেদের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ড ৬০ বছরের খরা কাটানোর অভিযানে আছে। সেই পথচলায় সেমি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পেয়েছে তারা। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় ১৬ জুলাই ১টায় (এএম) শুরু মাঠের লড়াই।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ ঐতিহাসিক এক দ্বৈরথ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ উপহার দিয়েছে দুই দল। যার মধ্যে অন্যতম, ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো মারাদোনার সেই কুখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও বিখ্যাত ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি’ গোল দুটি হয়েছিল।
আরেকটি হলো, ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের একমাত্র গোল ব্যবধান গড়ে দেয়। আর্জেন্টিনার দাবি ওই গোল ছিল অফসাইড, তাদের কাছে ইংল্যান্ডের ওই জয় ‘শতাব্দীর সেরা ডাকাতি।’
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালের আগে, যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও আসছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টাইনদের কাছে মালভিনাস নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে এখানে সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ ও তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন। সেই সময় থেকে আজও দুই দেশের মধ্যে ওই প্রসঙ্গ খুব সংবেদনশীল।
দুই দলের কোচ ও ফুটবলাররা যতই ম্যাচটিকে ফুটবলের সাধারণ একটি লড়াই বলছেন, তাতে খুব একটা বদলাচ্ছে না বাস্তবতা। এর পেছনে কাজ করছে অতীতের নানা ইতিহাস, আবেগ-অনুভূতি।
তবে এসব থেকে দলকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করছেন টুখেল। জার্মান এই কোচের মতে, আসছে ম্যাচটি নিজেই স্মরণীয় এক লড়াই। তাই অতীত নয়, সামনে তাকাতে চাইছেন তারা।
“এটাকে (অতীত ইতিহাস) আমি অপ্রাসঙ্গিক বলতাম, কিন্তু এমনটা বলা ঠিক হবে কিনা আমি নিশ্চিত নই। আমার মনে হয়, উভয় দেশ এবং তাদের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব কী, খেলোয়াড়রা তা খুব ভালো করেই জানে। একটি দ্বৈরথ যদি এত এত স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দিয়ে থাকে, তবে আপনি এটিকে স্রেফ আরেকটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না।”
“তবে একজন কোচ হিসেবে আমরা ঠিক সেটাই করি; আমরা যে বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করতে পারি, সেগুলোর ওপর মনোযোগ দিই। আমরা আসলে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো নিয়ে কথা বলি না। কোনো স্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা করি না। এই ম্যাচটি নিজেই যথেষ্ট স্মরণীয় এবং এর প্রতি সবার মনোযোগও অনেক।”