Published : 15 Jul 2026, 07:47 PM
তলানির তিন দলকে নিয়ে ‘সুপার সিরিজ।’ গ্রুপ পর্বের শীর্ষ দলগুলিকে নিয়ে ‘সুপার সেভেন।’ আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেখা যাবে এই দুই সংযোজন। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে ফাইনালের আগেই থাকছে চারটি ধাপ। বদলে ফেলা হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটও।
সম্প্রতি স্কটল্যান্ডে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার নতুন এই কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মতে, টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘গুরুত্ব বাড়ানোর’ এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে আগামী আসরে ১৪টি করা হলেও সব দল বিশ্বকাপের মূল স্রোতে মিশতে পারবে না। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১২, ১৩ ও ১৪তম স্থানে থাকা তিন দলের মধ্যে হবে একটি ‘সুপার সিরিজ।’
এখান থেকে দুটি দল বাদ পড়বে, শীর্ষ দল জায়গা করে নেবে গ্রুপ পর্বে।
গ্রুপ পর্বে ১২টি দল দুটি ভাগে ভাগ হয়ে লড়বে। প্রতি দল খেলবে ৫টি করে ম্যাচ।
এই দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরের সর্বোচ্চ স্থানে থাকা দল, এই সাত দলকে নিয়ে হবে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব। এখান থেকে শীর্ষ চারটি দল খেলবে সেমি-ফাইনালে।
নিয়মরক্ষার ম্যাচ অনৈক বেশি হওয়া এবং দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামের শঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর আইসিসি সভায় এই পুনর্গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনেক ম্যাচের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় এবং টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়ে আরও উত্তেজনা নিশ্চিত করতে, আইসিসি দলের সংখ্যা পরিবর্তন না করে, নকআউট পর্ব আরও আগে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “এই কাঠামোটি টুর্নামেন্টের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক আবহকে শক্তিশালী করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সুপার সেভেন পর্বে বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ সাতটি দল সেমি-ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য রাউন্ড-রবিন পর্ব পার করবে।”
খেলাটি বেশ কয়েক বছর ধরে তার এই প্রধান আসরের আকার এবং বিন্যাস নিয়ে বারবার পরিবর্তন এনেছে; ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ১৪টি দল গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলেছিল (এবং ২০১১ সালে ১৬টি দল), এরপর ১০ দলের আসর চালু হয়, যেখানে প্রতিটি দল একে অপরের সাথে খেলে। এই সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আইসিসির প্রসারের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে, কিন্তু ৫০ ওভারের সংস্করণ সম্প্রসারণের দাবি কখনও থেমে যায়নি।
টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত কাঠামো এবং সূচি আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির সভায় নিশ্চিত করা হবে, যেখানে পরবর্তী ভবিষ্যৎ সফরসূচীও পেশ করা হবে। ২০২৭ বিশ্বকাপের সূচির প্রাথমিক বণ্টনে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হবে বলে আশা করা হচ্ছে না। বেশিরভাগ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকায়, প্রায় দশটি জিম্বাবুয়েতে এবং কয়েকটি নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্বকাপে দুটি অতিরিক্ত নকআউট ম্যাচ যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে এই কাঠামোয় টুর্নামেন্ট হবে।
২০ দলের এই টুর্নামেন্টটি আগের মতো ৫৫ ম্যাচই হবে। তবে নতুন ফরম্যাটে প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সংখ্যা ৪০ থেকে ৩০-এ কমানো হয়েছে, দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচের সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ এবং সেমি-ফাইনালের আগে দুটি ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচ যোগ করা হয়েছে, যা কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনাল।
প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ পর্বকে পাঁচটি করে দলের চারটি গ্রুপ থেকে পরিবর্তন করে চারটি করে দলের পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল পরবর্তী পর্বে যাবে। পাঁচটি করে দলের শীর্ষ দুটি গ্রুপ নিয়ে একটি ‘সুপার টেন’ (আগে ছিল সুপার এইট) দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ পর্ব তৈরি হবে।
দুই গ্রুপের শীর্ষ দল সরাসরি সেমি-ফাইনালে যাবে, কিন্তু প্রতিটি গ্রুপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী দলকে একটি ক্রস-পুল ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচ খেলতে হবে এবং সেখানে প্রতি ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ চারে জায়গা করে নেবে।
আইসিসি বিবৃতিতে জানায়, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ আসরে “উদীয়মান দলগুলোর পারফরম্যান্স’-এর কারণে দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য বাছাইপর্বের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইসিসি বলেছে, “এটি সুপার টেন পর্যায়ে ক্রিকেটের উদীয়মান দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব প্রসারিত করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার মানও উন্নত করবে।”