Published : 14 Jul 2026, 11:05 AM
১৬ ওভার শেষে বল হাতে পেলেন জেডেন লেনক্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন বেশ ভালো অবস্থানে। প্রথম ওভারেই এই বাঁহাতি স্পিনার দলকে এনে দিলেন উইকেট। পরে সেটিই হয়ে উঠল নিয়মিত চিত্র। সঙ্গত ধরলেন মাইকেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল স্যান্টনারও। তিন স্পিনারের রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল নিউ জিল্যান্ড।
গায়ানায় তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানদের ৫ উইকেটে হারাল কিউইরা।
ম্যাচের শুরুর সঙ্গে পরের ভাগের মিল নেই সামান্যও। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৩ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপরই কিউই স্পিনারদের ছোবলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ইনিংস। গুটিয়ে যায় তারা স্রেফ ১৩৮ রানেই।
একটি রান আউট ছাড়া বাকি ৯ উইকেটই নেন স্পিনাররা। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এই প্রথম এক ম্যাচে ৭ উইকেটের বেশি নিতে পারলেন স্পিনাররা।
সবার পরে আক্রমণে আনা যায় যাকে, তিনিই হয়ে ওঠেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন। ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে ১৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন লেনক্স। নিউ জিল্যান্ডের কোনো স্পিনারের এটি ওয়ানডেতে তৃতীয় সেরা বোলিং কীর্তি।
স্টাম্প সোজা আঁটসাঁট বোলিং করে তার ৫ উইকেটের ৪টিই বোল্ড, বাকিটি এলবিডব্লিউ।
এই বছরই অভিষিক্ত এই স্পিনার আগের ছয় ওয়ানডেতে দুই উইকেটের বেশি পাননি কোনো ম্যাচে।
নিউ জিল্যান্ডের ষষ্ঠ বোলারের ৫ উইকেট শিকারের নজির আগে ছিল মোটে একটি, সেই ১৯৯৩ সালে যেটি করেছিলেন রড ল্যাথাম, এখনকার দলের তারকা টম ল্যাথামের বাবা তিনি।
লেনক্সের পাশাপাশি দুটি করে উইকেট শিকার করেন মিচেল স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভালো শুরু এনে দেন জন ক্যাম্পবেল ও আকিম ওগিস। শেষ করে ক্যাম্পবেল ছিলেন আগ্রাসী।

পেসারদের ব্যর্থতার পর ৬৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ব্রেসওয়েল। পয়েন্টে ধরা পড়েন ওগিস (১৮)। পরের ওভারেই চোখধাঁধানো আর্মারে ক্যাম্পবেলের (৪১ বলে ৪৩) অফ স্টাম্প উপড়ে দেন স্যান্টনার।
লেনক্স আক্রমণে এসেই বোল্ড করে দেন আগের ম্যাচে ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা শেই হোপকে (৭)। বাঁহাতি স্পিনারের পরের ওভারে বোল্ড হয়ে যান শেরফেন রাদারফোর্ডও (৮)। আগের ম্যাচে ৯৫ রানে ফেরা কেসি কার্টিকে এবার ১৮ রানে থামান স্যান্টনার।
ছয়ে নামা আমির জাঙ্গু (২৪) ছাড়া পরের দিকে ভালো করতে পারেননি আর কেউ। ক্যারিবিয়ানদের শেষ ৫ ব্যাটসম্যান মিলে করেন ১০ রান!
শেষ ৭ উইকেট হারায় তারা ৪১ রানে।
স্পিন সহায়ক উইকেটে কিউইদের রান তাড়া খুব মসৃণ ছিল না। তবে লক্ষ্য বড় ছিল না বলে খুব সমস্যাও হয়নি তাদের।
৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ২৮ রান করে আউট হন উইল ইয়াং। তিনে নেমে তার্ক চ্যাপম্যান শূন্যতে রান আুট হন। এরপর হেনরি নিকোলসও (১৭) আউট হলে একটু চাপে পড়ে তারা। তবে ড্যারিল মিচেল ও টম ল্যাথাম এগিয়ে নেন দলকে।
মিচেলকে ২৮ রানে ফেরানোর পর খ্যারি পিয়ের শূন্য রানে বিদায় করেন ডিন ফক্সক্রফটকে। তবে ল্যাথাম (৩৭*) ও ব্রেসওয়েল (২৪*) মিলে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন দলকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৮ ওভারে ১৩৮ (ক্যাম্পবেল ৪৩, ওগিস ১৮, কার্টি ১৮, হোপ ৭, রাদারফের্ড ৮, জাঙ্গু ২৪, মোটি ১, ফোর্ড ১, পিয়ের ৭*, জোসেফ ১, লজ ০; ডাফি ৩-০-১৩-০, ফিশার ৪-০-১৭-০, ব্রেসওয়েল ৯-০-৫১-২, ফক্সক্রফট ৫-০-১৬-০, স্যান্টনার ৭-০-২১-২, লেনক্স ৮-০-১৯-৫)।
নিউ জিল্যান্ড: ৩২.৪ ওভারে ১৪১/৫ (নিকোলস ১৭, ইয়াং ২৮, চ্যাপম্যান ০, মিচেল ২৮, ল্যাথাম ৩৭*, ফক্সক্রফট ০, ব্রেসওয়েল ২৪*; পিয়ের ৯-১-৩৩-২, ফোর্ড ৩-০-১৩-০, জোসেফ ৪-০-২৩-১, মোটি ৯.৪-২-৩২-১, লজ ৭-০-৪০-০)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জেডেন লেনক্স।