১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লর্ডসে রেকর্ড দর্শকের ঐতিহাসিক টেস্টে ভারতের স্মরণীয় জয়

ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসের প্রথম নারী টেস্টে ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে অসাধারণ এক জয় পেয়েছে হারমানপ্রিত কৌরের দল।

লর্ডসে রেকর্ড দর্শকের ঐতিহাসিক টেস্টে ভারতের স্মরণীয় জয়
ঐতিহাসিক টেস্ট জিতে উল্লসিত ভারতীয় দল। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2026, 07:29 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে সঞ্চালকের প্রশ্ন, “এর চেয়ে ভালো চিত্রনাট্য কি আপনি নিজেও লিখতে পারতেন?” চওড়া হাসিতে হারমানপ্রিত কৌর বললেন, “কোনোভাবেই না! ঈশ্বর আরও ভালো লেখক। তিনি এটা খুব ভালোভাবে লিখেছেন!” অবিস্মরণীয় এক জয়ের পর ভারতীয় অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া এমনই হওয়ার কথা। তিনি বা তার দল হয়তো ভাবতেও পারেনি, ঐতিহাসিক ম্যাচটি এতটা দারুণভাবে রাঙাবেন তারা!

সেই ১৮৮৪ সালের জুলাইয়ে প্রথম টেস্ট ম্যাচ হয়েছিল লর্ডসে। একসময় এই মাঠের প্যাভিলিয়ন ও ড্রেসিং রুমে নারীদের প্রবেশেই ছিল নিষেধাজ্ঞা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা শিথিল হয়েছে বা উঠে গেছে। একসময় মেয়েদের আন্তজার্তিক ক্রিকেট হয়েছে এখানে। এবার একটি মাইলফলক হয়ে গেল। ১৪২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার নারী টেস্ট হলো ক্রিকেট তীর্থ বলে খ্যাত মাঠে। ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে গুঁড়িয়ে সেই টেস্ট স্মরণীয় করে রাখল ভারত।

জয়ের ক্ষেত্র আগের দিনই তৈরি করে রেখেছিল ভারত। শেষ দিনে সোমবার প্রয়োজন ছিল স্রেফ চারটি উইকেট। প্রথম সেশনেই তা আদায় করে নেয় হারমানপ্রিতের দল। 

টেস্টের চার দিনে দর্শক সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৮৪৬ জন। নারী টেস্টের ১৫৩ ম্যাচের ইতিহাসে এক ম্যাচে এত দর্শক হয়নি আগে।

এই টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি ট্যামি বাউমন্ট ও হিদার নাইট। শেষটা ভালো হয়নি তাদের। দল হেরেছে, পারফর্ম করতে পারেননি তারা নিজেরাও 

লর্ডসের টেস্ট অনার্স বোর্ডে নাম লেখানো প্রথম নারী ক্রিকেটার ক্রান্তি গৌড় জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। ছবি: রয়টার্স।

লর্ডসের টেস্ট অনার্স বোর্ডে নাম লেখানো প্রথম নারী ক্রিকেটার ক্রান্তি গৌড় জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও

টেস্টের প্রথম দিনেই জয়ের ভিত রচনা করেছিল ভারত। পেস সহায়ক কন্ডিশন ও উইকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামনে হয়েছিল তাদের। স্মৃতি মান্ধানার ব্যাটে শুরুর সেই চ্যালেঞ্জ পার হয় দল।

আরেক ওপেনার শেফালি ভার্মা শূন্যতে ফিরলেও মান্ধানার ব্যাট থেকে আসে ১০৮ বলে ৮৩ রানের নান্দনিক ইনিংস। হারমানপ্রিত করেন ৫৮, দিপ্তি শার্মা ৫৭। ভারত প্রথম ইনিংসে তোলে ২৮৫ রান।

১১ রানে শেষ ৪ উইকেট হারালেও ভারতের সেই সংগ্রহ যে যথেষ্টই বড় ছিল, তা প্রমাণ হয় পড়ে। ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় ১৭০ রানে। একমাত্র ফিফটি আসে কিপার-ব্যাটার অ্যামি জোন্সের (৫২) ব্যাট থেকে।

৫ উইকেট নিয়ে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসের বিখ্যাত টেস্ট অনার্স বোর্ডে নাম লেখান ভারতের ২২ বছর বয়সী পেসার ক্রান্তি গৌড়। 

১১৫ রানের লিড পাওয়া ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হৃষ্টপুষ্ট করে লিড। মান্ধানা আবার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে উপহার দেন ৭০ রানের ইনিংস। শেফালি করেন ৩৩ রান। 

তবে ইতিহাস গড়েন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। লর্ডসের প্রথম নারী টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হয়ে ব্যাটারদের অনার্স বোর্ডে নাম তোলেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার। ১৫৮ বলে ১১৩ রান করেন এই বাঁহাতি। 

রিচা ঘোষ অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ৫০ করে। ভারত দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৩৪১ রানে।

১১৮ রানে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার সোফি এক্লেস্টোন।

৪৫৭ রানের জয়ের লক্ষ্য ছিল ইংলিশদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেভাবে লড়াই জমাতেও পারেনি তারা। ৫৯ রানেই ৫ উইকেট হারানোর পর কেবল ব্যবধান কমানোর চেষ্টাই চলছিল।

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি করে জোন্স (৫৪)। প্রথম টেস্ট ফিফটির স্বাদ পান আটে নামা এক্লেস্টোন (৫০)। ১৮৬ রানে শেষ হয় ইংলিশদের ইনিংস।

ভারতের অফ স্পিনার স্নেহ রানা শিকার করেন ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসের ৫টি সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২ শিকার যোগ করে প্লেয়ার অব দা ম্যাচ ক্রান্তি।