Published : 15 Jul 2026, 08:28 PM
সরকারের কাছে উন্নয়ন কার্যক্রমের ‘সুষম বণ্টন’ প্রত্যাশা করে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে যেন সাধারণ জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের বিষয়ে ‘উদ্বেগ’ ও ‘কষ্টের’ কথা ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, “সরকারি ও বিরোধী দল সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত। কিন্তু ইতোমধ্যেই সরকারের গৃহীত বিভিন্ন আর্থিক পদক্ষেপের মধ্যে আমরা যারা বিরোধীদলীয় সদস্য আছি, আমাদের প্রতি যেন ইনসাফ করা হয়।”
বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি যোগ করেন, “আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি কিন্তু সঠিক মাধ্যমে জানতে পারি না। শেষ মুহূর্তে গিয়ে তাড়া করে আমাদেরকে কিছু দেওয়া হয়। আমাদের অনুরোধ, জনগণের জন্য আপনারা জনগণের অংশটা দিয়ে দেন। আমাদের কারণে আমাদের আসনগুলোর জনগণ যেন বঞ্চিত না হয়।
“কারণ বিএনপি তার ৩১ দফা এবং তার নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের কথা বলেছে। আমরা সে সুষম বণ্টন চাই।”
সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বিরোধী দলীয় নেতা তার বক্তব্যে সরকারি অর্থ অপচয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নামফলকের বিষয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সরকারি টাকায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে স্থাপনার নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট করে নামফলক পরিবর্তনের এই অপরাজনীতি দেশের জন্য চরম ক্ষতি ডেকে আনে।
“কারো যদি নিজের নামের মোহ থাকে, তবে তিনি নিজের টাকা ও জমিতে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দিতে পারেন, তাতে কারো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু জনগণের টাকায় কোনো আত্মপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।’
শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই বিগত বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নিহত, আহতদের স্মরণ করেন।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “সম্প্রতি একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হয়েছে, যা দেশের স্বার্থে, বেকারত্ব দূরীকরণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জরুরি ছিল। কিন্তু বিলটির ওপর মনের মত করে বিস্তারিত আলোচনা ও অংশগ্রহণ করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ থেকে বিরোধী দল বঞ্চিত হয়েছে।”
বিরোধী দলীয় নেতা ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা না রেখে বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।