Published : 14 Jul 2026, 11:44 PM
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটিকে আইনিভাবে দেখার কথা বলেছে ভারত।
মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আপনারা ভালো করেই জানেন , যেকোনো প্রত্যর্পণের বিষয়টি একটি আইনি বিষয় প্রক্রিয়া সেই অনুযায়ী এটি মোকাবিলা করা হবে।"
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন।
সেখানে তিনি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, শেখ হাসিনা শুধু নিজের কথা বলেননি, দলের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য দেশে ফেরাতে ২০২৪ সালের পর থেকে একাধিকবার নয়া দিল্লিকে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা। তবে শুরুতে এ বিষয়ে ভারতের তরফে হ্যাঁ-না কোনো জবাবই আসেনি।
সবশেষ গত এপ্রিলে নয়া দিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা ‘আইনি ও বিচারিক পন্থায়’পর্যালোচনা করা হবে।
এবারও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে সেই আইনি পন্থার কথাই শোনালেন জয়সওয়াল।
মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়ন প্রকল্প ‘বাতিল হওয়ার’ প্রসঙ্গও তোলেন এক সাংবাদিক।
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের যে উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি রয়েছে, তা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে করা হয় এবং এটি অব্যাহত রয়েছে।"