Published : 15 Jul 2026, 10:14 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপর গ্রেপ্তার হওয়া চার সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত বন্ধ করে তাদের মুক্তির দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসসহ (সিপিজে) পাঁচটি সংগঠন।
বুধবার সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “আইনি ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের বিচারকাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর একটি ভীতিকর প্রভাব তৈরি করে।”
সংস্থাগুলো বলেছে, “কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ঘটনার সংবাদ কীভাবে প্রচার করা হবে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করা তো দূরের কথা।
“এমন আচরণ আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল হতে পারে বলে যে ধারণা দেওয়া হচ্ছে, তা আইনগতভাবে ভুল।”
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও সিপিজে ছাড়াও আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিবৃতি দিয়েছে।
সেখানে বলা হয়, “২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পরিচালিত নিরাপত্তা অভিযানের সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে রুপা ও বাবুর বিরুদ্ধে আইসিটিতে তদন্ত চলছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তারা নিহতের সংখ্যা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়িয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ভূমিকা রেখেছেন।
“গত ১৪ মে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের আইনজীবীদের কাছে কোনো অভিযোগপত্র বা তদন্তের প্রমাণ দেওয়া হয়নি।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “আইসিটিতে নেওয়া এই পদক্ষেপ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানে নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলাগুলোতে এই চার সাংবাদিক বিচার শুরুর আগেই ২০২৪ সালের অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন।
“সাবেক সরকারের সমর্থক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হাজারো হত্যা মামলার মধ্যে এগুলো অন্যতম, যার অনেকগুলোরই কোনো জ্ঞাত প্রমাণ নেই। সংবাদ প্রচারের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কীভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, তারও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।”
গত ১১ মে হাই কোর্ট রুপা ও শাকিলকে অধিকাংশ মামলায় জামিন দিলেও আপিল বিভাগ সেই আদেশ স্থগিত করে।
আন্তর্জাতিক এ সংস্থাগুলো বলছে, হত্যা মামলায় জামিনের সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, আইসিটির এই মামলাটি এমন একটি পৃথক পথ তৈরি করেছে, যার ফলে রুপা ও বাবু কারাগারেই থেকে যাচ্ছেন।
এ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি তুলে ধরা হয় বিবৃতিতে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সময়ে এই চার সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে গতবছরের ৮ অগাস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ২১ অগাস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরায় ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কয়েক দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল বাবুকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে দেওয়া এক চিঠিতে সিপিজে কারাবন্দি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।