Published : 15 Jul 2026, 10:50 PM
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ইরানের ওপর নতুন দফায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার কথা জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বুধবার ইটি সময় সকাল ৬টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১০টা) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ইরানে দফায় দফায় বিমান হামলা শুরু করেছে।
“হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর জন্য ইরান যে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে এসেছে তা গুঁড়িয়ে দেওয়াই এই হামলা চালানোর লক্ষ্য।”
ইরানে টানা চতুর্থ রাতের মতো হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ হামলা প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে। এই হামলায় ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম ও উৎক্ষেপণস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবারেও হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের কাছে কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ৭ ঘন্টা বিমান হামলা চালায়। হামলার তীব্রতা বাড়ানো এবং সামনের দিনগুলোতে আরও বিধ্বংসী হামলারও পরিকল্পনা করেছেন ট্রাম্প।
বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারেই হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে নিজের শীর্ষ নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন ট্রাম্প। তিন সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আগামী তিনদিন ইরানে কঠোর আঘাত হানবে। এরপর উল্লেখযোগ্যভাবে হামলার তীব্রতা বাড়নো হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প মঙ্গলবারেই হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি আলোচনা শুরু না করে তাহলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুর মত বেসামরিক কাঠামোগুলোকে মার্কিন বাহিনী হামলার নিশানা করবে।
তিনি বলেন, “আমি জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে একেবারে শেষ সময়ের জন্য রেখে দিচ্ছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেগুলোতে আঘাত হানব।”
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ইরানি আলোচকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে তাদেরকে একথা বলার জন্য যে, “আপনাদের জন্য (ইরান) একটি চুক্তি করে ফেলাই ভাল হবে।”
মঙ্গলবার মার্কিন সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, “বর্তমানে আমরা ইরানে খুব কঠিনভাবে আঘাত করছি। সাগরতীরে এবং সাগরে তাদের যত সামরিক স্থাপনা আছে সব লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আমি যতক্ষণ পর্যন্ত না থামাব, ততক্ষণ হামলা চলতেই থাকবে।”
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার পরিকল্পনা আছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেছিলেন, “শেষ পর্যন্ত হয়ত আমাদের সেটিই করতে হবে।”
বুধবার এবং পরের দিনেও হামলা চলবে জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “এরপর আগামী সপ্তাহটি ইরানের জন্য খুব খারাপ হতে চলেছে। কারণ, তখন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো হামলার নিশানা হিসেবে সামনে আসবে। তারা আলোচনার টেবিলে না এলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব সেতুতে আঘাত করব।”