Published : 14 Jul 2026, 11:04 PM
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পাহারা দেওয়ার জন্য ২০ শতাংশ টোল বা ফি আদায়ের প্রস্তাব থেকে পিছিয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, টোলের পরিবর্তে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করার চেষ্টা করবেন।
তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প হরমুজে ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেন এবং এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী অন্যান্য জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
প্রস্তাবিত এই ফি গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে তা চালুর ঠিক পাঁচ ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরান ছাড়া বাকি সব দেশের নৌ-চলাচলের জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “পশ্চিম এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনার পর আমি ২০ শতাংশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ফেরতের ফি’ আদায়ের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। এর বদলে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করবে।”
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে, যা মঙ্গলবারের শুরুর দিকে বেশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে হামলা-পাল্টা হামলা জোরদার হওয়ায় গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে স্থায়ী বিরতি আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। পাশাপাশি বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরানের একটি আকাশপথের হামলা নস্যাৎ করেছে।
বাহরাইনেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান নৌঘাঁটি অবস্থিত। জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইরানের চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ভূপাতিত করেছে এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রতিদিন এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
যুক্তরাষ্ট্র যদি এখানে ২০ শতাংশ টোল কার্যকর করত, তবে প্রতিদিন তাদের প্রায় ২৪ কোটি ডলার রাজস্ব আয় হত।
তবে জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল বিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে ব্যবহৃত প্রণালিগুলোতে যেকোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রণালি পারাপারে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক টোল আদায়ের কোনও আইনি ভিত্তি নেই।