Published : 14 Jul 2026, 08:18 AM
লড়াইটা ফ্রান্স ও স্পেনের। তবে এই লড়াইয়ের ভেতরে থাকছে আরেক লড়াই। কিলিয়ান এমবাপে বনাম লামিন ইয়ামাল। সবুজ আঙিনায় আরও একবার মুখোমুখি হচ্ছেন সময়ের সেরা দুই ফুটবলার।
চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। বিশ্ব মঞ্চে প্রথমবার মুখোমুখি হবেন এমবাপে ও ইয়ামাল। তবে সব মিলিয়ে আগে ১০ ম্যাচে একে অপরের বিপক্ষে খেলেছেন বার্সেলোনা উইঙ্গার ও রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

ফ্রান্স বনাম স্পেন: এগিয়ে ইয়ামাল
নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে দুইবার একে অপরের বিপক্ষে খেলেছেন এমবাপে ও ইয়ামাল, আর দুটিই ছিল সেমি-ফাইনাল। ২০২৪ ইউরোয় মিউনিখে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারায় স্পেন। যেখানে দুর্দান্ত একটি গোল করেন ইয়ামাল।
এক বছর পর জার্মানির মাটিতেই স্টুটগার্টে উয়েফা নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হয় তারা। দিদিয়ে দেশোঁর দলকে আবারও হারায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। সেই ম্যাচে ৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্প্যানিশদের জয় ৫-৪ ব্যবধানে। ইয়ামাল করেন জোড়া গোল। স্কোরশিটে নাম লেখান এমবাপেও।
ওই ম্যাচের পর টিভিই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামালকে প্রশংসায় ভাসান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
“লামিনের জন্য আমি খুবই খুশি। আজ সত্যিই একটি বার্তা দিয়েছে সে।”

পিএসজি বনাম বার্সেলোনা: এগিয়ে এমবাপে
এমবাপে ও ইয়ামাল প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হন ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল, প্যারিসে পিএসজি ও বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে। সেদিন কেউই গোল করতে পারেননি। ৩-২ গোলের দারুণ এক জয় পায় বার্সেলোনা।
তবে ফিরতি লেগটি ছিল এমবাপের দিন। তার জোড়া গোলে বার্সেলোনাকে তাদের মাঠেই ৪-১ গোলে হারিয়ে, দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলের অগ্রগামিতায় সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নেয় পিএসজি।

রেয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা: ইয়ামালের আধিপত্য
২০২৪ সালের জুনে এমবাপে রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাব পর্যায়ে এই দুই খেলোয়াড় ছয়বার একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন। কাপ প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে রেয়ালের বিপক্ষে আধিপত্য দেখিয়েছেন ইয়ামাল ও বার্সেলোনা। সৌদি আরবের জেদ্দায় দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল জিতেছে কাতালানরা: ২০২৫ সালে ৫-২ ও ২০২৬ সালে ৩-২ গোলে।
২০২৫ সালের কোপা দেল রে ফাইনালে এমবাপে আবারও ছিলেন পরাজিত দলের সদস্য, যেখানে তার একটি ফ্রি-কিক গোলও দলের জন্য যথেষ্ট হয়নি। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইয়ামালের বার্সেলোনা।
ফরাসি ও স্প্যানিশ তারকা লা লিগার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছেন তিনবার। নিজের প্রথম ক্লাসিকোয় ৪-০ গোলে হারের তেতো অভিজ্ঞতা হয় এমবাপের। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে দলের বড় জয়ের ওই ম্যাচে একটি গোল করেন ইয়ামাল।
পরের বছর লা লিগায় এই জুটি আবার যখন মুখোমুখি হন, তখন অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতা হয় এমবাপের। তার হ্যাটট্রিকের পরও বার্সেলোনার মাঠে ৪-৩ গোলে হেরে যায় রেয়াল। বার্সেলোনার হয়ে একটি গোল করেন ইয়ামাল।
স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে এই দুজনের সবশেষ সাক্ষাৎ হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। সেই ম্যাচে এমবাপে আবারও গোল করেন, এবার বার্সেলোনার বিপক্ষে লা লিগায় প্রথম জয়ের স্বাদও পান তিনি। ম্যাচটি রেয়াল জেতে ২-১ গোলে।

এমবাপে বনাম ইয়ামাল: নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
সব মিলিয়ে এই দুজনের ১০ বারের দেখায় আটটিতে জয়ী হয়েছেন ইয়ামাল। তবে এই ম্যাচগুলোতে বেশি গোল করেছেন এমবাপে, ইয়ামালের ছয়টি গোলের বিপরীতে ফরাসি তারকা করেছেন ৯টি।
২০২৬ বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচ খেলার সুবাদে, ১৮ বছর বা এর কম বয়সী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় পাঁচটির বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। প্রতিটি ম্যাচে বেশ ভালো খেললেও, তিনি গোল করতে পেরেছেন কেবল একটি, গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে।
তবে গোল করতে না পারায় তার যে কোনো আক্ষেপ নেই, সেটি বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনাল জয়ের পর বলে দেন ইয়ামাল।
“গোল করতে না পারাটা আমাকে সত্যিই হতাশ করে না। আমি একটি গোল করেই ২০২৪ ইউরো জিতেছি। যদি বিশ্বকাপও জিতি, তাহলে আমি গোল করেছি কি না, তা নিয়ে মানুষ খুব বেশি মাথা ঘামাবে বলে আমার মনে হয় না।”
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের সময় এমবাপের বয়স ছিল ১৯ বছর। সেবার সাত ম্যাচ খেলে চারটি গোল করেন তিনি। শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও তিনি জিতে নেন তখন।
চার বছর পর, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ আসরের সর্বোচ্চ আট গোল করেন এমবাপে। কিন্তু শিরোপা লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে যায় তার দল।
চলতি বিশ্বকাপেও এখন পর্যন্ত যৌথভাবে সর্বোচ্চ আট গোল করেছেন এমবাপে। ফরাসি অধিনায়ক এবার নিশ্চয় ইয়ামালের সঙ্গে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যবধান ঘোচাতে চাইবেন, আর স্প্যানিশ তারকা চাইবেন অভিষেক আসরে শিরোপা জিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর সাফল্যের সমকক্ষ হতে।