Published : 27 Nov 2025, 04:43 PM
মাসের পর মাস পড়ে থাকা নানান খাবার, বরফে জমে থাকা প্যাকেট, নাম ছাড়া কৌটা কিংবা ভেঙে যাওয়া কনটেইনার- সব মিলিয়ে অদৃশ্য বিশৃঙ্খলার জায়গা হয়ে ওঠে ফ্রিজ।
ফলে প্রয়োজনের সময়ে জায়গা কম পড়ে। আবার পুরানো খাবারের কারণে নষ্টও হয় ভালো খাবার।
নামহীন জমা খাবার
ফ্রিজারের একটি বড় সমস্যা নামহীন খাবারের কৌটা। কোন বাটিতে মাংস, কোনটাতে ঝোল, কোনটাতে রান্না করা ভাত- বেশিরভাগ সময়ই বোঝা যায় না।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “নামহীন বা ফ্রিজে পড়ে থাকা খাবার সরাসরি ফেলে দেওয়াই ভালো।”
রান্না করা খাবার তিন মাসের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। অন্যদিকে কাঁচা মাংস বা সবজি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
তবে নাম না থাকা বা তারিখ লেখা না থাকলে খাবারের বয়স বোঝা কঠিন হয়, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
ফ্রিজারে খাবার রাখার আগে স্থায়ীভাবে তারিখ ও নাম লিখে রাখার অভ্যাস করতে হবে। এতে খাবার ব্যবহারের সময়সূচি জানা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমে।
মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার: জমাট থাকলেই যে ভালো থাকবে তা নয়
ফ্রিজে জমিয়ে রাখা মানেই যে খাবার দীর্ঘদিন ভালো থাকবে এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “অনেকেই ভাবেন ফ্রিজারে রাখা খাবারের কোনো মেয়াদ থাকে না। তবে অনেক খাবারই সময়ের সাথে স্বাদ ও গুণগত মান হারায়।”
পরিষ্কার শুরু করতে হবে পুরো ফ্রিজার খালি করে। তারপর দেখা উচিত কোন খাবার কতদিন ধরে সেখানে আছে।
যেগুলোর মেয়াদ পেরিয়ে গেছে বা যেগুলো বরফের আস্তরণে ঢেকে গেছে সেগুলো আর রাখা উচিত নয়।
আবার ফ্রিজার সাজানোর সময় পুরানো খাবারগুলো সামনে রাখতে হবে, যাতে সেগুলো আগে খাওয়া হয় এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
অল্প-বাকি আইসক্রিম
ফ্রিজারের কোণে পড়ে থাকা অল্প-বাকি আইসক্রিম বা পুরানো মিষ্টান্ন অনেক সময় স্থান দখল করে রাখে। উৎসবের সময় জায়গার অভাব হলে এসব অল্প-বাকি খাবারই ফেলে দিতে হবে বা শেষ করে ফেলা উচিত।
ফ্রিজারে জমে থাকা এমন শেষ চামচ খাবারগুলো সাধারণত কেউ খায় না। আর থেকে যায় মাসের পর মাস। ফলে জায়গা নষ্ট হয় এবং নতুন খাবার ঢোকাতে অসুবিধা হয়।
এসব খুঁটিনাটি খাবার চিহ্নিত করে শেষ করে ফেলা বা ফেলে দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
অতিরিক্ত কেনা খাবার: যত আছে সব রাখা নয়
ফ্রিজার পরিষ্কার করা মানেই সবকিছু ফেলে দেওয়া নয়। বরং যেসব খাবার অতিরিক্ত কিনে রাখা হয়েছে বা যেগুলো খুব কম ব্যবহার হয় সেগুলো আগে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করাও পরিষ্কারের একটি অংশ।
যদি বড় ব্যাগভর্তি জমাট সবজি কিনে রাখা হয় এবং পরিবারের কেউ খেতে না চায়, তাহলে সেটা দিয়ে স্যুপ বা খিচুড়ি বানিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
খাবার ছাড়া অন্য জিনিস
ফ্রিজারে শুধু খাবারই নয়, নানান ধরনের জিনিস জমে থাকে। বিশেষ করে বরফের ব্যাগ, জেল–প্যাক, ব্যথানাশক ঠাণ্ডা প্যাক ইত্যাদি।
তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “এসব জেল প্যাক নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে- এগুলো ছিঁড়ে গেছে কি-না বা আকার হারিয়েছে কি-না। নষ্ট প্যাক ফেলে দিতে হবে। মাত্র এক বা দুই সেট বরফ প্যাক ফ্রিজারে রাখলেই যথেষ্ট।”
পুরানো খাবার সংরক্ষণ পাত্র
খাবার রাখার পাত্রও সময়ের সাথে ভেঙে যায়, বাঁকা হয় বা ঢাকনা ঠিকমতো বন্ধ হয় না।
এমন পাত্রে খাবার রেখে দিলে ফ্রিজে জায়গা কমে এবং স্বাদ নষ্ট হয়।
তাই এসব পাত্র বাদ দিয়ে নতুন পাত্র ব্যবহার করাই ভালো। নতুন পাত্র শুধু খাবার সতেজ রাখে না, ফ্রিজারের ভেতরের অংশকেও সাজানো-গোছানো দেখায়।
আরও পড়ুন
ফ্রিজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণকারী ড্রয়ারে রাখতে হবে যেসব খাবার