Published : 07 Jan 2026, 02:33 PM
শীত এলেই শুরু হয় রুম হিটার ব্যবহার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য ঘরের উষ্ণতা ধরে রাখতে হিটার অনেকের কাছেই জরুরি।
তবে শীতে আরাম দেওয়া যন্ত্রটি অগ্নিকাণ্ড, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের ক্ষতি কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো ঝুঁকিও নিয়ে আসে।
তাই শীত তাড়াতে হিটার ব্যবহার করতে হবে নিরাপদে।
একটানা কতক্ষণ চালানো উচিত?
রুম হিটার একটানা দীর্ঘ সময় চালানো নিরাপদ নয়। সাধারণভাবে একটানা দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি হিটার চালানো একেবারেই উচিত নয়।
আবার রাতে ঘুমানোর সময় পুরো রাত হিটার চালু রাখা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
“দুই–তিন ঘণ্টা ব্যবহারের পর অন্তত ত্রিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হিটার বন্ধ রেখে ঘরকে স্বাভাবিক হতে দেওয়া ভালো। দীর্ঘ সময় হিটার চালালে ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। এতে শ্বাস নিতে অনেক সময় কষ্ট হতে পারে, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎজনিত ঝুঁকিও বাড়ে”- বলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত।
কখন রুম হিটার বন্ধ জরুরি?
নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় হিটার অবশ্যই বন্ধ রাখা উচিত। ঘুমানোর সময়, বিশেষ করে গভীর রাতে হিটার বন্ধ রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ। ঘরে কেউ না থাকলে হিটার চালু রাখা যাবে না।
জানালা-দরজা বন্ধ করে দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও হিটার বন্ধ বা বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। শিশু, বয়স্ক মানুষ বা পোষা প্রাণী ঘরে একা থাকলে হিটার চালু রাখা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
রুম হিটার ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
হিটারের সঙ্গে দেওয়া নির্দেশনাবলি ভালোভাবে পড়ে তবেই ব্যবহার করা উচিত। হিটারের তার ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত তার কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
“অবশ্যই সমতল ও শক্ত জায়গায় রাখতে হবে, যেন তা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে। আবার দেয়াল, পর্দা, সোফা বা বিছানা থেকে নিরাপদ দূরত্বে হিটার রাখা উচিত যেন পিছন থেকে তাপ বের হতে পারে। মাল্টিপ্লাগ বা অতিরিক্ত লোড নেওয়া এক্সটেনশন ব্যবহার করলে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়ে যায়” বলেন বৈদ্যুতিক যন্ত্র বিক্রেতা মোরশেদ হোসেন।
হিটার চালানোর সময় কক্ষের পরিবেশ
হিটার চালানোর সময় ঘরের বাতাস চলাচলও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জানালা বা ভেন্টিলেশন আংশিক খোলা রাখা উচিত, যাতে বাইরে থেকে কিছুটা বাতাস ঢুকতে পারে।
ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে কার্বন-মনোক্সাইড জমে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
“আর খুব ছোট ঘরে শক্তিশালী হিটার ব্যবহার না করাই ভালো। এতে তাপ ও স্থানের পরিমাণের ভারসাম্য থাকে না”- পরামর্শ দেন তাসমিয়া জান্নাত।
হিটার থেকে দরকার কতটুকু দূরত্ব
ত্বকের সুরক্ষার জন্য হিটার থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। সাধারণভাবে হিটার থেকে অন্তত তিন থেকে পাঁচ ফুট দূরে বসা উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব আরও বেশি রাখা প্রয়োজন।
সরাসরি শরীরের দিকে হিটার মুখ করে রাখা উচিত নয় এবং হাত, পা বা মুখ খুব কাছে নেওয়া বিপজ্জনক। অতিরিক্ত তাপে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, পোড়া দাগ এমনকি ফোস্কাও হতে পারে।
শীতে হিটার ব্যবহারে ত্বকের যত্ন
হিটার ব্যবহারে শীতে ত্বক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্বক টানটান লাগা, লালচে-ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া শুরু হলে হিটার ব্যবহারের সময় কমিয়ে দেওয়া উচিত।
“ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় ত্বক টানটান লাগে, চুলকানি হয় এবং ফাটলও ধরতে পারে। তাই নিয়মিত ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। গোসলের পর এবং হিটার ব্যবহারের আগে-পরে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক আর্দ্র থাকে”- বলেন জারা’স বিউটি লাউঞ্জ’য়ের রূপ-বিশারদ ফারহানা রুমি।
ঘরের ভেতর একটি পানিভর্তি পাত্র বা বাটি রাখলে বাতাসের শুষ্কতা কিছুটা কমে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
“চোখ ও ঠোঁটের যত্নে লিপ বাম এবং আই ক্রিম ব্যবহার করলে শুষ্কতা ও ফাটল কমে”- পরামর্শ দেন এই রূপবিশেষজ্ঞ।
দুর্ঘটনা এড়াতে যা মানতে হবে
হিটারের ওপর কখনই কাপড় শুকানো উচিত নয়। পানি ধর্মী উপাদান, পর্দা, কাগজ, কম্বলসহ দাহ্য বস্তু হিটারের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে।
“এছাড়া পুরানো বা নষ্ট হিটার ব্যবহার করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবহারের আগে ও পরে হিটারের প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ”- মন্তব্য করেন তাসমিয়া জান্নাত।
শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা তাপের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকেন। তাই শিশুদের জন্য ‘লো-হিট সেটিং’ ব্যবহার করা ভালো। আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে সরাসরি গরম বাতাস শরীরে লাগতে দেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন
শীতে যেসব যন্ত্র দেবে উষ্ণ পরশ