Published : 12 Jun 2026, 10:28 AM
উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার শহর ছিল শিল্পবিপ্লবের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। তুলা, রেলপথ ও কলকারখানার শহর হিসেবে এটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল। তখন শ্রমিকদের অবসর বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে শহরটিতে ফুটবল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় আজকের বিশ্বের বিখ্যাত দুটি ক্লাব—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উত্থান ম্যানচেস্টার শহরকে বৈশ্বিক মানচিত্রে তুলে আনে।
কিন্তু ১৯৫৮ সালে ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ৬ ফেব্রুয়ারি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যুগোস্লাভিয়ার ‘রেড স্টার বেলগ্রেড’ দলের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কাপের ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডে ফিরছিল। বিমানটি জার্মানির মিউনিখে জ্বালানি নেওয়ার জন্য থামে। তুষারাচ্ছন্ন রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের তৃতীয় চেষ্টায় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় মোট ২৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৮ জন খেলোয়াড় ছিলেন। তখনকার কোচ ম্যাট বাসবি তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি অসাধারণ দল গড়েছিলেন, যাদেরকে ভালোবেসে ‘বাসবি বেইবস’ বলা হতো। ধারণা করা হতো, এরাই ইংল্যান্ড ফুটবলের ভবিষ্যৎ; কিন্তু সেই দুর্ঘটনা সব স্বপ্ন চুরমার করে দেয়।
অনেকে ভেবেছিলেন, এই ক্লাব আর আগের জায়গায় ফিরতে পারবে না; কিন্তু বাসবি নতুন করে শুরু করেন। দুর্ঘটনার ১০ বছর পর, ১৯৬৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইউরোপিয়ান কাপ জিতে ইউরোপের সেরা ক্লাব হয়। এটি ছিল মিউনিখে হারিয়ে যাওয়া খেলোয়াড়দের স্মৃতির প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এরপর ঘটতে থাকে দারুণ এক ঘটনা। লাখ লাখ পর্যটক ম্যানচেস্টারে আসতে শুরু করে। ‘ওল্ড ট্রাফোর্ড’ শহরের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হয়ে ওঠে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও খুচরা ব্যবসা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৮ সালে আবু ধাবি-ভিত্তিক বিনিয়োগকারীরা ম্যানসিটি কিনে নেওয়ার পর ঘটে নাটকীয় ঘটনা। ইতিহাদ স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে পূর্ব ম্যানচেস্টারের একটি বড় অংশ পুনর্গঠিত হয়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, গড়ে ওঠে নতুন নতুন বাড়িঘর এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়তে থাকে।
অনেক বিদেশি পর্যটকের কাছে ম্যানচেস্টারের প্রথম পরিচয় হয়ে ওঠে ফুটবল, পরে শহর। যেমনটা ঘটেছে স্পেনের শহর বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রে। এই দুই ক্লাব বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘ফুটবল পর্যটন’ কেন্দ্রের অন্যতম। বার্সেলোনা ক্লাবের নিজস্ব মাঠ ও জাদুঘর দেখতে প্রতিবছর অন্তত ২০ লাখ মানুষ ভিড় করে, ফলে এটি স্পেনের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শিত জাদুঘরগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। অনেক পর্যটকের বার্সেলোনায় আসার অন্যতম কারণই হলো ক্লাব ও স্টেডিয়াম দেখা। একই ঘটনা রিয়াল মাদ্রিদের বেলাতেও। সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম দেখতে বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষ এই শহরে ভিড় করে।
একই জোয়ার দেখা যায় লন্ডনের ক্লাব আর্সেনালের বেলাতেও। আর্সেনালের ঘরের মাঠ ‘এমিরেটস স্টেডিয়াম’ এবং তাদের ক্লাব মিউজিয়াম দেখতে প্রতিবছর লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমী লন্ডনে ভিড় জমান। বিশেষ করে ম্যাচ ডে-গুলোতে স্টেডিয়ামের ম্যাচ টিকিট, অফিশিয়াল মার্চেন্ডাইজ ও জার্সি বিক্রি থেকে শুরু করে উত্তর লন্ডনের স্থানীয় অর্থনীতিতে আর্সেনাল একাই শত শত মিলিয়ন পাউন্ডের জোগান দেয়। উত্তর লন্ডনের পর্যটন ও হোটেল ব্যবসা এখন অনেকটাই এই গানার্সদের ম্যাচ সূচির ওপর নির্ভর করে। ফলে এসব পর্যটককে ঘিরে গড়ে উঠেছে বহু দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ এবং আবাসিক হোটেলের বিপুল অর্থনীতি।
এই যদি হয় ফুটবল ক্লাবের গল্প, তাহলে বিশ্বকাপ ঘিরে কী হয়, সেটি নিশ্চয়ই অননুমেয় নয়?
এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনে খরচ কত?
আধুনিক বিশ্বে ফুটবল শুধু মাঠের লড়াই নয়; বরং বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যা পর্যটন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে স্বাগতিক দেশ ও শহরগুলোর অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফা যে আর্থ-সামাজিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে এবারের বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশ নেবে এবারের বিশ্বকাপে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আসরটি আয়োজন করছে। ১৬টি শহরে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে মাঠে বসে খেলা দেখবেন প্রায় ৬৫ লাখ দর্শক।
এই আয়োজনের পেছনে ব্যয় হবে অন্তত ১৩.৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে পর্যটকদের ব্যয়ই সর্বাধিক, প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে আছে ফিফার খরচ, স্বাগতিক শহরগুলোর খরচ, আছে অবকাঠামাগোত বিনিয়োগও।
ব্যয়ের পাশাপাশি আয়ও কম নয়
ফিফার গবেষণা বলছে, এবারের বিশ্বকাপ থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৮০.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক উৎপাদন এবং জিডিপিতে প্রায় ৪০.৯ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে। সবচেয়ে বেশি লাভ হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের অর্থনীতিতে অন্তত ৩০.৫ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হবে। জিডিপিতে যোগ হবে ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই আয়ের বড় অংশ আসবে পর্যটন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন, খুচরা বাণিজ্য, নির্মাণ, বিজ্ঞাপন, সম্প্রচার এবং বিশ্বকাপ-সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবাখাত থেকে।
এই টাকার অঙ্কটি কত বড় সেটি বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। সোমালিয়ার সারা বছরের বাজেট ১.৩৮ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ, একটি বিশ্বকাপের আয় সোমালিয়ার মতো দেশের সারা বছরের বাজেটের প্রায় ৬০ গুণ। বাংলাদেশের সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রায় ৭৮ বিলিয়ন ডলারের যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, একটি মাত্র ফুটবল বিশ্বকাপের সম্ভাব্য মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন সেটিকেও ছাড়িয়ে যায়।
তৈরি হবে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ
এ বছরের বিশ্বকাপ বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮ লাখ ২৪ হাজার ফুলটাইম চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করবে, এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তৈরি হবে ১ লাখ ৮৫ হাজার চাকরি। এসব চাকরি থেকে যে আয় আসবে, সেটা আবার অর্থনীতিতে নতুন করে ভোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর সঙ্গে আছে পার্টটাইম কাজের সুযোগ। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট যতটা স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রভাব ফেলে, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, খুচরা বিক্রয়, বিমান পরিবহন এবং রিয়েল এস্টেট খাত তার চেয়ে বেশি লাভবান হয়। বিশ্বকাপ শেষ হতে হতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও খাদ্য খাত আয় করবে ২.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
বিশ্বকাপের আরেকটি বড় শক্তি হলো পর্যটন। গবেষণায় দেখানো হয়েছে, মাঠে বসে খেলা দেখা মোট দর্শকের ৪০ শতাংশই বিদেশি; তারা গড়ে ১২ দিন অবস্থান করবে। প্রতিদিন গড়ে ৪১৬ ডলার ব্যয়ের ভিত্তিতে শুধু পর্যটন থেকেই সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে।
সামাজিক প্রভাবও কম নয়
তবে বিশ্বকাপের গুরুত্ব শুধুমাত্র অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। এই ধরনের মেগা ইভেন্ট দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের ভাবমূর্তিকে উন্নত করে, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করে এবং পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপ-পরবর্তী কয়েক বছর পর্যন্ত পর্যটনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব বজায় থাকে।
এছাড়া এর সামাজিক প্রভাবও কম নয়। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, শারীরিক সক্রিয়তা, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং বিনোদনমূলক মূল্য—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সামাজিক মূল্য ৮.২৮ বিলিয়ন ডলার; কিন্তু খেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে দলবেঁধে বড় পর্দায় খেলা দেখা, র্যালি, সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোল, পরিবারের সবাই মিলে হইচই, রান্নাবান্না এবং নিজের দল জিতলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সামাজিক মূল্য কি আর হিসেবে করা যায়?
জার্সি-পতাকার রমরমা ব্যবসা
মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন বিশ্বকাপে তার প্রিয় দল জার্মানিকে সমর্থন জোগাতে এবারও সাড়ে ৭ কিলোমিটারের পতাকা বানিয়েছেন, এর পেছনে খরচ করেছেন কয়েক লাখ টাকা। পতাকার টাকা জোগাতে বিক্রি করেছেন ৩০ শতাংশ জমি!
কোথায় মাগুরা আর কোথায় জার্মানি? অথচ বিশ্বকাপের উন্মাদনা এমন যে, সেই অদেখা দেশকে সমর্থন করার জন্য জমি বিক্রি করে পতাকা বানানো যায়! শুধু আমজাদ হোসেন নন, বিশ্বকাপ এলে সারা দেশের লাখো বাড়ির ছাদে, জানালায়, ড্রয়িংরুমে উড়তে থাকে প্রিয় দলের পতাকা, গায়ে থাকে জার্সি।
কিন্তু কোনো একটা বিশ্বকাপ ঘিরে সারা পৃথিবীতে ঠিক কত টাকার জার্সি ও পতাকা বিক্রি হয়, তার কি কোনো হিসাব আছে? না, নেই। কারণ অনানুষ্ঠানিক এই বাজারের প্রায় গোটাটাই ফিফার নেটওয়ার্কের বাইরে, মানে নকল পণ্য; যার বড় অংশই স্থানীয় দোকানপাট বা অনলাইনে কেনাবেচা হয়।
তবে ২০২২ বিশ্বকাপকে ঘিরে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি ও বাজারজাতকরণ থেকে ২০১৯–২০২২ চক্রে মোট প্রায় ৭৬৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল ফিফা, যার বড় অংশই এসেছিল বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি থেকে। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অফিসিয়াল ও রেপ্লিকা জার্সি বিক্রি হয়েছে অন্তত সোয়া দুই কোটি। প্রতি জার্সির দাম গড়ে ৮০–১০০ ডলার ধরলে, শুধু জার্সি বিক্রি থেকেই আয় হয়েছে প্রায় ১.৫–২ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে পতাকা, স্কার্ফ, টুপি, স্টিকার, সংগ্রহযোগ্য কার্ড, ব্যাজ ও অন্যান্য স্মারক যোগ করলে মোট বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ডাইজ বাজার দাঁড়াবে কয়েক বিলিয়ন ডলারে।
তবে লাভের গুড় পিঁপড়েও খায়
হ্যাঁ, বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু লাভ আর লাভ নয়; আছে বিরাট অঙ্কের অর্থনৈতিক লোকসানের ঝুঁকিও—অর্থনীতিতে যেটি ‘শ্বেতহস্তী প্রভাব’ নামে পরিচিত। যেমন—বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে বিপুল অর্থ খরচে নির্মিত অবকাঠামো পরে পর্যাপ্ত ব্যবহার না হওয়ায় দেশের জন্য বোঝায় পরিণত হয়।
সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ সম্ভবত ২০১৪ সালে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের শহর মানাউসে নির্মিত ‘আরেনা ডি আমাজোনিয়া’ স্টেডিয়াম। এটি নির্মাণে শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ হলেও শহরটিতে বড় ফুটবল ক্লাব বা নিয়মিত লিগ না থাকায় বর্তমানে অব্যবহৃত পড়ে আছে সেই স্টেডিয়াম। কাতার বিশ্বকাপের জন্যও একাধিক নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছিল; কিন্তু দেশটির তুলনামূলক কম জনসংখ্যা এবং স্থানীয় লিগে সীমিত দর্শকের কারণে এসব স্টেডিয়াম পুরোপুরি ব্যবহার হয় না, অথচ ব্যবস্থাপনার পেছনে খরচ হয় বিপুল অঙ্কের টাকা। ফলে কিছু স্টেডিয়াম আংশিকভাবে ভেঙে ফেলা, ছোট করা বা অন্য কাজে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এসব উদাহরণ থেকে আন্দাজ করা যায় যে, বিশ্বকাপ মানে শুধুই লাভের গুড় নয়, বরং সেই গুড় পিঁপড়ে খেয়ে নেওয়ারও যথেষ্ট নজির আছে। তবে যেসব দেশে আগে থেকেই ভালো অবকাঠামো থাকে (যেমন—যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি) এবং যাদের ফুটবল ইকোসিস্টেম ভালো, তাদের লাভের সম্ভাবনা বেশি। আর যেখানে শুধু টুর্নামেন্টকে মাথায় রেখে নতুন স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো বানাতে হয়, সেখানে লাভের হিসাব অনিশ্চিত।
তাহলে প্রতি গোলের দাম কত পড়ল?
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অর্থনীতির চাকা যখন এভাবে ঘুরতে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে যে, তাহলে ‘প্রতি গোলের দাম কত পড়ল?’ আসলে এটি বের করার জন্য অর্থনীতিতে কোনো প্রচলিত পদ্ধতি নেই। তবে বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক প্রভাব বোঝার জন্য একটা হিসাব তো করা যেতেই পারে।
ফিফার হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মোট অর্থনৈতিক প্রভাব হলো ৪০.৯ বিলিয়ন ডলার এবং মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন ৮০.১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের রেকর্ড। ধরে নিচ্ছি, এবারও সমানসংখ্যক গোল হবে। এখন এই টাকার অঙ্ককে গোলের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে প্রতি গোলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গিয়ে দাঁড়ায় ৪৬৬ মিলিয়ন ডলারে। অবশ্যই এটি বাস্তবিক অর্থে গোলপ্রতি দাম নয়, কারণ অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি হয় দর্শক ও পর্যটকের ব্যয়, হোটেল ও পরিবহন খাত, সম্প্রচার অধিকার, স্পন্সরশিপ, জার্সি ও মার্চেন্ডাইজ বিক্রি, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ দিয়ে; গোল দিয়ে নয়।
কিন্তু দিনশেষে ফুটবল তো গোলেরই খেলা!
রাজু নূরুল উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ও লেখক। বর্তমানে সোমালিয়া সরকারের অর্থ, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত। যোগাযোগ: [email protected]