Published : 13 Jun 2026, 02:56 PM
ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। কিন্তু এই সম্পর্ক সবসময় সরলরৈখিক ছিল না। সীমান্তহত্যা, অভিবাসন, নদীর পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন দেখা গেছে বহুবার। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক চরম অস্বস্তিকর পর্যায়ে প্রবেশ করেছিল। দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল তা পুরোপুরি কাটেনি।
পরে এ বছর নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায় এবং বিএনপির ক্ষমতারোহণের পর সম্পর্ক যখন স্বাভাবিক হতে যাচ্ছিল, তখনই সামনে এল ‘পুশ-ইন’। বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর উভয় দেশই বাস্তববাদী অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হয়েছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষই বুঝতে পারে যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এমন সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে হিন্দুত্ববাদী দল রাজ্য সরকার গঠনের পরপরই পুশ-ইন বা সীমান্ত দিয়ে মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে এবং প্রতিবেশী দেশ দুটির সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়।
যখন কোনো মানুষকে জোরপূর্বক এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে ন্যূনতম মানবিকতা থাকে না। রাতের অন্ধকারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাই করছে। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি তা ঠেকাচ্ছেও কোথাও কোথাও এবং যেখানে ঠেকাতে পারছে, সেখানকার ঘটনাগুলোই সংবাদমাধ্যমের সূত্রে আমরা জানতে পারছি। তার বাইরে কিছু ঘটছে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
কেননা, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের মোট স্থল সীমান্ত প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত। এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২,২১৭ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা ও নদীয়া জেলা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার সঙ্গে মিলেছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চল রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সঙ্গে সীমানা তৈরি করেছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়ি অঞ্চল বাংলাদেশের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
আসাম রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার, যা দুটি আলাদা অংশে বিভক্ত। আসামের কাছাড় ও করিমগঞ্জ অঞ্চল সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, আসামের ধুবড়ী অঞ্চল কুড়িগ্রাম জেলার সঙ্গে।
অন্যান্য রাজ্যগুলোর মধ্যে ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। ত্রিপুরার পশ্চিম ত্রিপুরা (আগরতলা), সিপাহীজলা (সোনামুড়া), খোয়াই ও উনকোটি (কৈলাশহর) অঞ্চল বাংলাদেশের কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সঙ্গে মিলেছে। বিশেষ করে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও বিজয়নগর অঞ্চলের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত।
মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ৪৪৩ কিলোমিটার। মেঘালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম খাসিয়া পাহাড়, জয়ন্তিয়া পাহাড় এবং পূর্ব ও পশ্চিম গারো পাহাড় অঞ্চল বাংলাদেশের শেরপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার সঙ্গে মিলেছে।
মিজোরামের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৩১৮ কিলোমিটার। মিজোরামের মামিত ও লাংটলাই জেলা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের সঙ্গে সীমানা ভাগ করেছে।
বিস্তৃত সীমান্তের কোথায় যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কী করছে, তা বলা কঠিন। বিশেষ করে আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি রাজ্য সরকারের ক্ষমতা পাওয়ার বিষয়টায় সীমান্ত পরিস্থিতি আরও অননুমেয় হয়ে পড়েছে। আমরা দেখছি, দলে দলে মানুষকে বন্দুকের নলের মুখে বাংলাদেশের সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অনুমান করা যায়, তখন সেই সব দলে থাকা অবুঝ শিশুরা স্তব্ধ হয়ে যায় ভয়ে। তারা বোঝে না তাদের অপরাধ কী, কেন তাদের চেনা পরিবেশ থেকে উচ্ছেদ করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপে, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে কর্দমাক্ত মাটিতে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত শিশুরা যখন মা-বাবার হাত ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ হয়ে থাকে, তখন তা মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একই অবস্থা প্রবীণদেরও। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল এই মানুষগুলোকে পশুর মতো তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, পুশ-ইনের শিকার এই প্রবীণরা গুরুতর অসুস্থ। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত এই মানুষদের জন্য সীমান্তের শূন্যরেখায় কোনো চিকিৎসার সুযোগ নেই। উন্মুক্ত আকাশের নিচে, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে দিনের পর দিন পড়ে থাকতে দেখছি তাদের। এই অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট শুধু তাদের শারীরিকভাবেই পঙ্গু করছে না, মানসিকভাবেও চিরতরে ভেঙে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত যেখানে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রকাশের প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে পুশ-ইনের ঘটনা এটিকে পরিণত করেছে রাষ্ট্রহীনতার নির্মম যন্ত্রণাগারে।
শূন্যরেখায় আটকে পড়া যে ছোট ছোট শিশুরা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না, তারা জানে না দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা চলছে। একজন বৃদ্ধ মানুষ, যিনি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটু শান্তি আর নিরাপত্তা চান, তার কাছেও স্পষ্ট নয় কোন দেশের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তাকে রাতের অন্ধকারে সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে এনে দাঁড় করিয়েছে।
মানুষের এই দুর্দশা শুধু মানবিক বেদনা নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নও উত্থাপন করে। ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষণাপত্র প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তার অধিকারের কথা বলেছে। ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি (আইসিসিপিআর) চুক্তি (আইসিসিপিআর) মানুষের মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষিত করার কথা বলে। আন্তর্জাতিক আইনের বহুল স্বীকৃত ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি অনুযায়ী, কোনো মানুষকে এমনভাবে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো যাবে না, যাতে তার জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য না হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মৌলিক নীতিগুলো থেকে তারা বিচ্ছিন্ন নয়। রাষ্ট্রের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে, কিন্তু সেই অধিকার মানবিক মূল্যবোধের ঊর্ধ্বে নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাকে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে এবং যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় পুশব্যাক করার কথা। কিন্তু বিএসএফ সেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একতরফা পুশ-ইন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
অবশ্যই কোনো রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া হতে হবে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে। নাগরিকত্ব যাচাই, কনস্যুলার যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি ছাড়া একতরফাভাবে মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই পুশ-ইন বা সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই সংকট এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে।
বিজিবি-বিএসএফের বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে বলেছে, এ ধরনের পুশ-ইন অবৈধ, মানবাধিকারবিরোধী এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, কাউকে ফেরত দিতে হলে নাগরিকত্ব যাচাই ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দিতে হবে। অন্যদিকে ভারতের দাবি, তারা নিজস্ব আইন এবং বিদ্যমান পদ্ধতি অনুসরণ করেই অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে। ভারতের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তালিকা দেওয়ার পরও প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। কিন্তু বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২০ জন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন। যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তাহলে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতার মিল আছে। বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ বা ‘থ্রি-ডি’ নীতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে ইতিহাস বলে, অভিবাসন ও সীমান্ত প্রশ্নকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে সাময়িক রাজনৈতিক লাভ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা প্রতিবেশীদের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দুটি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে সেটি আরও বেশি সত্য।
পুশ-ইন ইস্যুর পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশ্ন। কিন্তু নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা কখনোই মানবিক বিবেচনাকে অস্বীকার করতে পারে না।
দুই দেশের সামনে এখন একটি সুযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের অগাস্ট-পরবর্তী সম্পর্কের মধ্যে জমা শীতলতা অতিক্রম করে যে নতুন সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে আরও শক্তিশালী করা দরকার। কারণ বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের জন্য শুধু প্রতিবেশী নয়; তারা অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক এবং কৌশলগত বাস্তবতায় একে অপরের অপরিহার্য অংশীদার।
শাহেদ কায়েস কবি ও মানবাধিকার কর্মী। ই-মেইল: [email protected]