০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
লেখক-সাংবাদিক, সম্পাদক, অর্থকাগজ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে কিছু বৈপ্লবিক আইনি ও কারিগরি সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু গত দেড় দশকের জমে থাকা পাহাড়সম আস্থার সংকট কি শুধু কাগুজে নীতি দিয়ে দূর করা সম্ভব?
১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে ১৭ বার সুযোগ দিয়েও অর্থনীতির মূলধারায় ফেরানো যায়নি সিংহভাগ অপ্রদর্শিত অর্থ, সোজা কথায় যাকে বলা হয় কালো টাকা। উল্টো বেড়েছে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, নিরুৎসাহিত হয়েছেন সৎ করদাতারা।
চোরের বিল মেটাতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের—এ হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতের এক নির্মম বাস্তবতা। উন্নত বিশ্বে যেখানে বিদ্যুৎ অপচয় মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা ১০ শতাংশের বেশি! এই হরিলুটের লোকসান মেটাতে বারবার কেন কোপ পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে?
জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকে ঢাকা শহর অস্ট্রেলিয়ার সিডনির চেয়ে বেশি। ফ্রান্সের প্যারিসে বিদেশিদের বসবাস করা যতটা ব্যয়বহুল, ঠিক সমপরিমাণ ব্যয় হয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবসম্পদ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্সার প্রকাশিত একটি তালিকায় এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুসংগঠিত পুঁজিবাজার অপরিহার্য হলেও তা এখনো গড়ে ওঠেনি। চরম তারল্য সংকটে গত ১৫ বছরে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও বাজার মূলধনেও ব্যাপক পতন হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক মুদ্রায় বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটনে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল অনেক আগেই। একচেটিয়া একটি মুদ্রাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমাদের আমাদানিনির্ভর বাণিজ্যের শোচনীয় অবস্থা দৃশ্যমান।