Published : 13 Jun 2026, 05:26 PM
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, “বাস্তবিক অর্থে আমরা একটা কঠিন সময় পার করছি। এই কঠিন সময়কে মোকাবেলা করার লক্ষ্য নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে এখানে জনগণের কল্যান ও দেশের উন্নয়নের জন্য বিশাল প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে সরকারকে।
“বাজেটকে একদিকে বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমুখী একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট বলা যায়। অন্যদিকে, এর প্রধান দুর্বলতা হলো রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অস্পষ্টতা।”
শনিবার দুপুরে গুলশানের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “নিঃসন্দেহে সার্বিক বিবেচনায়, এ বাজেট জনগণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে সরকারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।
“২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট একই সঙ্গে সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা এবং বাস্তবায়নের এক কঠিন পরীক্ষার নাম।”
অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
এসব বিষয় সুরক্ষিত না হলে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মানবাধিকার রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জাতীয় পার্টির অনেক নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে অন্যায়ভাবে অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
“আমি বিশ্বাস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবিলম্বে জাতীয় পার্টির নেতারাসহ যেসব নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে তা দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জহিরুল ইসলাম জহির, মুসলিমলীগ সভাপতি মহসিন রশীদ, ইসলামিক মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের অহেদ ফারুক।