Published : 12 Jun 2026, 05:05 AM
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার (প্রায় ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে, যা আগের অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বড় এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। সরকার এ বাজেটে ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) প্রায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৩.১৬ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩.৬ শতাংশ। বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি’ গড়ে তোলা।
এই বাজেটে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ; কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় প্রতি বছরই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। গত অর্থবছরে এনবিআরের সংশোধিত রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ৩.৭ লাখ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ের ঐতিহাসিক প্রবৃদ্ধি সাধারণত ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য রাজস্ব খাতে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। ফলে এই লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
অন্যদিকে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম এবং রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাও এখনও রয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই অতিরিক্ত রাজস্ব কোথা থেকে আসবে? লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ভ্যাট ও অন্যান্য পরোক্ষ কর বৃদ্ধি, করের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কর প্রশাসনের বিস্তার এবং ব্যবসা ও ভোক্তা পর্যায়ে নতুন কর আরোপের প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—উভয় পর্যায়েই করের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে সরকার দেশীয় ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে প্রায় ১.৩৫ লাখ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১.১৬ লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়লে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়বে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রায় ১.২৭ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ।
উল্লেখ্য, বৈদেশিক ঋণের এই লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৪ শতাংশ এবং শেখ হাসিনা সরকারের সময়কার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। অথচ বাস্তবতা হলো, বিদেশি ঋণনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড় দীর্ঘদিন ধরেই ধীরগতির। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১.০১ লাখ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে মে মাস পর্যন্ত অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক ঋণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জনযোগ্য, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে সুদের হার আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বেসরকারি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রায় ১.৫ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে মাসে আড়াই হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত আটটি নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিও যুক্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এ বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ফলে বাজেটের একটি বড় অংশ জনকল্যাণমূলক ব্যয়ে বরাদ্দ হলেও এর অর্থায়নের টেকসই উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি সরকার কিছু খাতে কর ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও নিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত পণ্য, পেট্রল ও ডিজেলচালিত যানবাহন এবং কিছু বিলাসপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। যদিও ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের ওপর আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে, তবুও নতুন করের চাপ প্রধানত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপরই পড়তে পারে। কারণ পরোক্ষ করের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে।
অন্যদিকে বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেলেও উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় ও ঋণের সুদ পরিশোধের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি, সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য ভর্তুকিজনিত ব্যয়ের কারণে স্থায়ী ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাজেটে অর্থনীতিকে চাঙা করার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তক হতে পারে। বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে। পাশাপাশি রপ্তানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এ বাজেট একটি উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাজেট। রাজনৈতিকভাবে এটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা, আর অর্থনৈতিকভাবে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ। যদিও রাজস্ব ও ঋণের ওপর এর নির্ভরতা অনেক বেশি, তবুও অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি সুস্পষ্ট প্রয়াস এতে লক্ষ্য করা যায়।
বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তক ও পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ প্রদান এবং কর্মসংস্থাননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন থ্রাস্ট সেক্টর চিহ্নিত করে বন্ডেড সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, এই বাজেট শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক উন্নয়নের নয়; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় এতে প্রতিফলিত হয়েছে। বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই অর্থমন্ত্রী নিজেও এটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটের শিরোনামও রাখা হয়েছে—‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।
নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় এতে কয়েকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রথমত, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় বিভিন্ন খাতে সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসংস্থানমুখী ব্যয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই সমর্থকরা একে ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বাজেট’ বলে অভিহিত করছেন।
তবে বিএনপির এই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বিরোধী দলগুলো গ্রহণ করছে না। বড় আকারের ব্যয়, ঋণ, ঘাটতি, কর ও শুল্কনির্ভর এই বাজেটকে ঘোষণার দিনই ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
রাজনৈতিক দলগুলো এই বাজেটকে যেভাবেই মূল্যায়ন করুক না কেন, এর বাস্তবায়নের প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সুশাসন নিশ্চিত করা। বাজেটে যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণ, ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার গুণগত মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কাঙ্ক্ষিত শক্তি ও দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের কার্যকর প্রক্রিয়া এখনও দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতি, পক্ষপাত এবং অবিচারের সংস্কৃতি গভীরভাবে প্রোথিত। ফলে অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যে সংস্কৃতি বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে প্রয়োজন উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরপেক্ষতা এবং নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব; কিন্তু সেই ধরনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যে কোনো রাজনৈতিক সরকারের জন্যই একটি জটিল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের স্বার্থ প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায় এবং ক্ষমতা ও সম্পদের কেন্দ্রীভবন সীমিত কিছু গোষ্ঠীর হাতে সঞ্চিত হয়।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, বড় আকারের বাজেট প্রায়ই বড় আকারের দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং বৈষম্যের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ী, আমলা ও রাজনীতিবিদের একটি প্রভাবশালী অংশ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকায় স্বার্থের সংঘাত রাষ্ট্র পরিচালনার একটি স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ফলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনস্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠীগত স্বার্থ অধিক গুরুত্ব পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ক্ষমতায় যে সরকারই এসেছে, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা বিদ্যমান লুণ্ঠনমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার পরিবর্তে আরও গতিশীল করেছে। ফলে প্রায় প্রতিটি নতুন বাজেটই অসাধু ব্যবসায়ী, আমলাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক অভিজাতদের সুবিধা বণ্টনের এক বৃহৎ আয়োজন হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। প্রতিটি সরকারের আমলেই নতুন নতুন ধনী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে, যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। এবারও যে তার ব্যতিক্রম ঘটবে, সেই ধরনের রাজনৈতিক সুশাসনের সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনও দৃশ্যমান নয়।
এ কারণেই বাজেটের দার্শনিক ভিত্তি, নীতিনির্ধারকদের স্বপ্ন, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা কৌশলগত নথিতে যত আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতিই থাকুক না কেন, কার্যকর ও নীতিনিষ্ঠ সুশাসন ছাড়া সেগুলোর বাস্তব মূল্য সীমিত। দূরদর্শী, সৎ, দক্ষ এবং জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব ছাড়া কোনো বাজেটই তার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। তাই এই বাজেটকে জনকল্যাণমুখী বা জনতুষ্টির বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও, শেষ পর্যন্ত তা সাধারণ মানুষের জীবনমান কতটা উন্নত করতে পারবে—সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মূলত এর বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের ওপর।
শুভ কিবরিয়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। যোগাযোগ: [email protected]