০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

যেসব কাপড় গরম পানিতে পরিষ্কার করা ভালো

গরম পানিতে পরিষ্কার করলেও, কিছু বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jun 2026, 05:33 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:23 PM

কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানিই বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ এতে বিদ্যুৎ, গ্যাস সাশ্রয় হয়, কাপড়ের রং দীর্ঘদিন ভালো থাকে। আর সূক্ষ্ম তন্তুর ক্ষতির আশঙ্কাও কমে।

তবে সব ধরনের কাপড় বা ব্যবহার্য জিনিসের জন্য ঠান্ডা পানি সমান কার্যকর নয়। কিছু জিনিস আছে, যেগুলো পরিষ্কার করতে গরম পানির বিকল্প নেই।

ময়লা, ঘাম, তেলচিটে আস্তরণ, জীবাণু কিংবা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান দূর করার ক্ষেত্রে গরম পানি অনেক বেশি কার্যকর।

“নির্দিষ্ট কিছু জিনিস নিয়মিত গরম পানিতে ধোয়া না হলে, সেগুলো দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও আসলে এতে জীবাণু ও ময়লা জমে থাকে”, বলেন পরিষ্কারক প্রতিষ্ঠান ব্যান্ড বক্স সাভার শাখার ব্যবস্থাপক রিপন মিয়া।

সাদা তোয়ালে পরিষ্কারে গরম পানির গুরুত্ব

“দিনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জিনিসগুলোর মধ্যে তোয়ালে একটি। প্রতিদিন গোসলের পর ভেজা শরীর মুছতে ব্যবহৃত হওয়ায় এতে আর্দ্রতা, শরীরের তেল, মৃত কোষ এবং নানান ধরনের জীবাণু জমা হয়”, বলেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল হাসান।

সাদা তোয়ালে গরম পানিতে ধুলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী অণুজীব দূর হয় এবং জমে থাকা তেল ও ময়লা ভেঙে যায়। ফলে তোয়ালের পানি শোষণ ক্ষমতাও বজায় থাকে।

অনেক সময় ধোয়ার পরও তোয়ালে থেকে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ আসে। এর কারণ হল, পর্যাপ্ত তাপমাত্রার পানি ব্যবহার না করা।

অতিরিক্ত গরম পানি প্রয়োজন না হলেও, মাঝারি থেকে তুলনামূলক গরম পানি তোয়ালে পরিষ্কার যথেষ্ট কার্যকর।

অসুস্থতার পর ব্যবহৃত কাপড়ের আলাদা যত্ন

পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে, তার ব্যবহৃত বিছানার চাদর, বালিশের খোল, রাতের পোশাক কিংবা তোয়ালে সাধারণ নিয়মে ধোয়া যথেষ্ট নাও হতে পারে।

এই চিকিৎসকের মতে, “উচ্চ তাপমাত্রার পানি বিভিন্ন জীবাণু, ভাইরাস ও পরজীবী ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তাপ জীবাণুর গঠন নষ্ট করে দেয় এবং তাদের বেঁচে থাকার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়।”

সর্দি, জ্বর বা অন্য সংক্রামক রোগের পর, ব্যবহৃত কাপড় গরম পানিতে ধোয়ার অভ্যাস পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

পোষা প্রাণীর বিছানা ও খেলনা

অনেক পরিবারেই বিড়াল বা কুকুর ঘরের সদস্যের মতোই থাকে। তাদের ব্যবহৃত কম্বল, বিছানা, নরম খেলনা কিংবা কাপড়ে লোম, ত্বকের ক্ষুদ্র কণা এবং শরীরের তেল জমে যায়।

এসব জিনিস নিয়মিত পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে এবং অ্যালার্জির সমস্যাও বাড়তে পারে।

প্রাণীপালক ফারজানা ইসলাম বলেন, “পোষা প্রাণীর ব্যবহৃত কাপড়জাত সামগ্রী অন্তত মাসে একবার, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহ পরপর গরম পানিতে ধোয়া উচিত। এতে শুধু ময়লাই দূর হয় না, উকুন বা ক্ষুদ্র কীটের ঝুঁকিও কমে আসে। একই সঙ্গে প্রাণীদের জন্যও পরিষ্কার ও আরামদায়ক পরিবেশ পাওয়া যায়।”

পরিষ্কার করার কাপড়ও বিশেষ পরিষ্কার

রান্নাঘর কিংবা ঘর মোছার কাপড় সবচেয়ে বেশি ময়লা জমায়। এসব কাপড়ে তেল, খাবারের কণা, ধুলাবালি এবং অসংখ্য জীবাণু জমে থাকে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনারশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাতের মতে, “ঘর পরিষ্কার করার কাপড় যদি গরম পানিতে ধোয়া না হয়, তাহলে সেগুলো পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। বরং পরে ব্যবহার করলে জীবাণু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।”

তিনি আরও পরামর্শ দেন, “এসব কাপড় সাধারণ পোশাকের সঙ্গে না ধুয়ে আলাদা ধুতে হবে। আর ব্যবহারের পর ভেজা অবস্থায় গাদাগাদি করে না রেখে শুকিয়ে রাখা উচিত, যাতে ছত্রাক জন্মাতে না পারে।”

ছত্রাক বা ক্ষতিকর উপাদানে আক্রান্ত জিনিস

কখনও কখনও কাপড় বা বিছানাপত্রে ছত্রাক, ধুলিকণা-জাত অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান কিংবা ক্ষুদ্র পোকামাকড় দেখা যায়। এমন হলে শুধু সাধারণ ধোয়াই যথেষ্ট নয়।

এক্ষেত্রে আক্রান্ত জিনিস ফেলে না দিয়ে, ব্যবহারযোগ্য রাখতে চাইলে গরম পানিতে ধোয়া খুবই জরুরি। প্রয়োজনে উপযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করে একাধিকবারও ধোয়া যেতে পারে।

বিছানার চাদর ও বালিশের খোল

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় শরীর থেকে ঘাম, তেল এবং মৃত ত্বক বিছানার চাদর ও বালিশের খোলে জমা হয়। বাইরে থেকে পরিষ্কার দেখালেও কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কাপড়ে অদৃশ্য ময়লার স্তর তৈরি হয়।

গরম পানি কাপড়ে জমা তেল সহজে তুলে ফেলতে পারে এবং ধুলিকণা-জাত অ্যালার্জির উপাদানও কমাতে সহায়ক।

চিকিৎসক কামরুল হাসান বলেন, “অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় থাকলে নিয়মিত গরম পানিতে বিছানার চাদর পরিষ্কার করা বিশেষ উপকারী হতে পারে।”

সাবধনতা

কাপড়ের ধরন বাছাই করা

উলের কাপড়: গরম পানিতে উলের কাপড় ধোয়া যাবে না, এতে কাপড় কুঁচকে ছোট হয়ে যায়।

সিল্ক এবং রেয়ন: এই কাপড়গুলো গরম পানিতে ধুলে নরম ভাব নষ্ট হয় এবং সুতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

সুতি কাপড়: নতুন সুতি কাপড় গরম পানিতে ধুলে তা প্রথমবার কিছুটা সংকুচিত বা খাটো হতে পারে।

রংয়ের সুরক্ষা

রঙিন কাপড়: গরম পানি কাপড়ের রং দ্রুত ফিকে বা হালকা করে দেয়।

আলাদা করা: রঙিন কাপড় এবং সাদা কাপড় কখনও একসাথে গরম পানিতে ভেজানো যাবে না। এতে এক কাপড়ের রং অন্য কাপড়ে লেগে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

কাপড় ধোয়ার সাধারণ ভুল ও সমাধান

কাপড় ধোয়াতে সাদা ভিনেগারের ব্যবহার

কাপড় ছাড়াও যা ধোয়া যায় ওয়াশিং মেশিনে