১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বটতলার ‘যোজনগন্ধা মায়া’ নাটকের দুই প্রদর্শনী

নির্দিষ্ট কোনো সময়ের নয়, ‘যোজনগন্ধা মায়া’ আবহমানকালের গল্প।

বটতলার ‘যোজনগন্ধা মায়া’ নাটকের দুই প্রদর্শনী
‘যোজনগন্ধা মায়া’ নাটকের দৃশ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 07:37 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই আর হারানো সন্তানের জন্য এক মায়ের অন্তহীন অপেক্ষার গল্প নিয়ে নাট্যদল বটতলার ‘যোজনগন্ধা মায়া’ শিরোনামের নাটক মঞ্চে আসছে।

নাটকটির দুইটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

ফেইসবুকে এক পোস্টে ‘বটতলা’ জানিয়েছে, আগামী ২০ ও ২১ জুলাই রাজধানীর শিল্পকলার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটি দেখা যাবে। 

বদরুজ্জামান আলমগীরের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ইমরান খান মুন্না। দুইটি প্রদর্শনীই সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় দেখা যাবে। 

গেল বছরের নভেম্বরে নাটকটি প্রথম মঞ্চে আনে বটতলা। একটি গ্রামের পটভূমিতে গড়ে ওঠা এই নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে কুমিরপীরের মাজার ও সেখানকার প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে।

নাটকের গল্প নিয়ে নির্দেশক ইমরান খান বলেন, "কুমিরপীর কৃষকের ভাতের অধিকার ও মানুষকে নিজের অধিকার চিনে নিতে শেখান। মানুষের ‘চোখের ঠুলি’ খুলে দিতে চাওয়ার অপরাধে তাকে প্রাণ দিতে হয়। তবে মৃত্যুর পরও তিনি মানুষের সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে থাকেন। পীরের রেখে যাওয়া বাণীর বাহক হয়ে ওঠে কুরুমণি।"

তিনি জানিয়েছেন, জমির অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে কুরুমণি একসময় নিজের সন্তান জহরকে যুদ্ধে পাঠায়। এরপর থেকে হারানো সন্তানের অপেক্ষায় কাটতে থাকে তার জীবন। এই অপেক্ষার মধ্যেই এক সকালে গ্রামে হাজির হয় অধিকার ও মুক্তির প্রতীক হয়ে ওঠা চরিত্র আলফ্রেড পাহান। কুরুমণি ও গ্রামের মানুষের আশার প্রতীক হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জহরের মতই আর ফিরে আসে না পাহান। মানুষের আয়ুর শেষ থাকলেও অপেক্ষার শেষ নেই এই চিরন্তন উপলব্ধিই নাটকটির কেন্দ্রীয় ভাবনা।

ইমরান খান বলেন, নাটকের উপস্থাপনায় দেশীয় রীতির সঙ্গে কিছুটা মধ্য এশীয় ফর্মের সংমিশ্রণ করা হয়েছে। নাটকের ঘটনাপ্রবাহ মুক্তিযুদ্ধ, শূন্য দশক এবং তার প্রায় ১২০ বছর আগের অতীতের মধ্যে যাতায়াত করে। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের নয়, ‘যোজনগন্ধা মায়া’ এক আবহমান কালের গল্প।

বাঘ ও মহিষের অনন্ত লড়াইয়ের মতই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা মানুষের ভেতরে যুগে যুগে থেকে গেছে; সেই ট্র্যাজিক বাস্তবতারই মঞ্চরূপ এই নাটক।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সামিনা লুৎফা, মোহাম্মদ আলী হায়দার, কাজী রোকসানা, গোলাম মাহবুব, মনিরা খাতুন, মুন ইসলাম, নিরঞ্জন দাস, আশরাফুল ইসলাম, শাহাদত হোসেনসহ অনেকে। 

সুর ও সংগীত পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ নাথ ও চন্দ্রাবতী ইভা, পোশাক পরিকল্পনায় মহসিনা আক্তার এবং আলোক পরিকল্পনায় ধীমানচন্দ্র বর্মন। নাটকটির অগ্রিম টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বটতলার নিজস্ব ওয়েবসাইটে।