Published : 12 Jun 2026, 11:15 AM
সর্বকালের বৃহত্তম আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ল ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স।
এই আইপিওর মাধ্যমে স্পেসএক্স ৫৫৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেয়ার বাজারে ছেড়ে ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। তাতে প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩৫ ডলার।
স্পেসএক্সের এই আইপিওর আকার ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর ২৯.৪ বিলিয়ন ডলারের আইপিওর দ্বিগুণেরও বেশি।
এই আইপিও যেমন স্পেসএক্সকে বৃহত্তম পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলোর শীর্ষ তালিকায় নিয়ে গেছে, তেমনি এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশন বা স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রির দায়িত্বে থাকা (আন্ডাররাইটিং) ব্যাংকগুলোকে তারা আইপিও মূল্যে আরও ৮৩.৩ মিলিয়ন শেয়ার কেনার একটি ‘ওভার-অ্যালটমেন্ট’ সুবিধা দিয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ডলারে।
ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, এই আইপিওতে যত শেয়ার ছাড়া হয়েছে, তার চার গুণেরও বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছিল।
আইপিও মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সের বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। কর্মীদের বোনাস শেয়ার এবং ভবিষ্যতে পাওয়ার মত সব শেয়ারের হিসাব যোগ করলে কোম্পানির মোট দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
এনডিটিভি লিখেছে, খুচরা বিনিয়োগকারীদের মাঝে ইলন মাস্কের যে ভক্তরা আছেন, তারা এই আইপিও সফল করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তারা এই শেয়ারের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্ডার করেছিলেন, যা তাদের জন্য সংরক্ষিত ২০ শতাংশ শেয়ারের চেয়ে অনেক বেশি।

অবশ্য সবাই এতটা উৎসাহী নন। অভিজ্ঞ শর্ট-সেলার জেমস চ্যানোস এ প্রাথমিক গণপ্রস্তাবকে বর্ণনা করেছেন ‘আশা ও স্বপ্ন নির্ভর আইপিও’ হিসেবে, যার পেছনে রয়েছে ইলন মাস্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে মানুষের আগ্রহ।
তার ভাষ্য, স্পেসএক্সের মৌলিক আর্থিক ভিত্তি এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে তারা কোনো লাভ দেখাতে পারছে।
তারপরও কিছু নিয়ম পরিবর্তনের কারণে এই সিকিউরিটিজ দ্রুত 'নাসডাক-১০০’ এর মত সূচকে জায়গা করে নিতে পারে। এক্ষেত্রে আইপিও মূল্যে শেয়ার কিনতে না পারা খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বড় ভূমিকা রেখেছে।
বোকেহ ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা কিম ফরেস্ট বলেন, “সম্ভবত এটাই সবচেয়ে আশাবাদ নির্ভর আইপিও।”
ফরেস্ট নিজে এই আইপিও থেকে শেয়ার কেনেননি। তবে তার মতে, স্পেসএক্স-এর ক্রেতারা “ভবিষ্যতের অংশ হতে চান। লোভ আর ভয়ের মাঝে দোদুল্যমান এই সময়ে এ এক অদ্ভুত আশাবাদের প্রতীক।”
এআই কোম্পানিগুলো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে তীব্র আগ্রহ রয়েছে, সেটাকে পুঁজি করে বাজারে আসতে চাওয়া তিন বড় আইপিওর প্রথমটি স্পেসএক্স। ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনীতির ক্ষতির পরও এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে ওই আশাবাদ আর আগ্রহের পালে ভর করেই।
এনডিটিভি লিখেছে, স্পেসএক্সের এআই প্রতিযোগী অ্যানথ্রোপিক পিবিসি এবং ওপেনএআইও এ বছরের মধ্যে শেয়ার বাজারে আসতে পারে। এ দুই কোম্পানিও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ভ্যালুয়েশন দাবি করতে পারে। এ কারণে সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এবং ওয়াল স্ট্রিটের ট্রেডাররা স্পেসএক্সের শেয়ারের পারফরম্যান্স খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।