Published : 10 Aug 2025, 06:18 PM
দূরপাল্লার ভ্রমণ অনেক সময় স্বপ্নের মতো মনে হয়। তবে সময় ও অঞ্চলের পরিবর্তনের কারণে শরীরের জৈবিক ঘড়ি বিঘ্নিত হলে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। এ অবস্থাকেই বলা হয় ‘জেট ল্যাগ’।
এর ফলে ক্লান্তি, রাতের ঘুমের সমস্যা, দিনের বেলায় অবসাদ কাজ করে। সব মিলিয়ে ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট হতে পারে।
তবে ঘুম-বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সঠিক প্রস্তুতি ও কৌশল মেনে চললে খুব দ্রুতই জেট ল্যাগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
এই বিষয়ে রিয়েল সিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মতামত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন শীর্ষস্থানীয় ঘুম বিশেষজ্ঞ।
জেট ল্যাগ কী এবং কেন হয়?
ঘুম বিশেষজ্ঞ ও লেখক অলিভিয়া আরেজোলো বলেন, “ভ্রমণের ফলে যখন ভিন্ন সময় অঞ্চলে পৌঁছে যাই, তখন শরীরের প্রাকৃতিক ঘুম-জাগরণের চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বিঘ্নিত হয়। বিশেষ করে পূর্ব দিকে ভ্রমণ (যেখানে সময় এগিয়ে যায়) বেশি কঠিন।”
নারীদের সামগ্রিক ঘুম স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. সারা সিলভারম্যান বলেন, “একাধিক সময় অঞ্চল অতিক্রম করলে জেট ল্যাগ হওয়া স্বাভাবিক। আর এটি ভ্রমণের অংশ হিসেবেই ধরা যেতে পারে।”
“সাধারণ নিয়ম হলো যতগুলো সময় অঞ্চল পেরিয়েছেন, শরীরের স্থানীয় সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে প্রায় ততদিন সময় লাগতে পারে”- বলেন ড. সারা।
তবে সবাই সমানভাবে প্রভাবিত হয় না; কেউ কেউ দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন। আবার কেউ আগমনের পর বা ফেরার পথে বেশি প্রভাব অনুভব করেন।
জেট ল্যাগের লক্ষণ
অলিভিয়া আরেজোলো বলেন, “কিছু উপসর্গ থাকলে আপনার জেট ল্যাগ কাজ করছে বুঝতে হবে। যেমন- দিনের বেলায় চরম ক্লান্তি, রাতে অতিরিক্ত সজাগ থাকা, ঘুম ধরে রাখতে অসুবিধা, ‘ব্রেইন ফগ’ বা মাথা ফাঁকা লাগা বা স্মৃতিভ্রংশের অনুভূতি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া ও উদ্বেগ, কর্মউদ্যম কমে যাওয়া।”
জেট ল্যাগ দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ৪টি উপায়
আলোকে কাজে লাগান
ক্লিনিক্যাল স্লিপ কোচ এবং বক্তা টেরেসা পাওয়ার বলেন, "আলো হল শরীরের জৈবিক ঘড়ির প্রধান ‘জাইটগিবার’ বা সময় জানানোর প্রাকৃতিক উপায়। ভ্রমণের কয়েকদিন আগে ও গন্তব্যে পৌঁছে আলো এবং অন্ধকারের সঠিক ব্যবহার ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সকালে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ করুন, আর সন্ধ্যায় আলো কমিয়ে ফেলুন।”
অলিভিয়া আরেজোলো যোগ করেন, “দিনের বেলায় জেগে থাকা ও রাতের বেলায় ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে ধীরে ধীরে নতুন সময় অঞ্চলের সাথে খাপ খাওয়ানো যেতে পারে। ভ্রমণের আগে নির্দিষ্ট সময়ে আলো থেরাপি চশমা ব্যবহার এবং রাতের সময় নীল আলো রোধকারী চশমা পরা উপকারী হতে পারে।”
ভ্রমণের সময় ঘুমের পরিকল্পনা
অলিভিয়া আরেজোলো পরামর্শ দেন, “অপ্রয়োজনীয় জটিলতা না বাড়িয়ে এমন কৌশল ব্যবহার করতে হবে যা দ্রুত প্রভাব ফেলবে। বিমানে ওঠার পরই গন্তব্যের সময় অঞ্চলে ঘড়ি সেট করুন।”
ড. সিলভারম্যান বলেন, “বিমানে ঘুমানো বা না ঘুমানো নির্ভর করবে ফ্লাইটের সময়সূচির ওপর। কখনও ফ্লাইটে একেবারেই না ঘুমিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে ঘুমানো (স্লিপ ডিপ্রাইভেইশন পদ্ধতি) উপকারী হতে পারে।”
“আবার কখনও অবতরণের দুয়েক ঘণ্টা আগে ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের কৌশলগত ঘুম (স্ট্র্যাটেজিক ন্যাপ) কার্যকর হতে পারে। খুব ভোরে ছাড়ে এমন বা রাতভর চলা ফ্লাইটে সময়ের সাথে খাপ খাওয়ানো তুলনামূলক কঠিন হতে পারে” বলেন এই বিশেষজ্ঞ।
পর্যাপ্ত পানি পান ও খাবারের সময় মেনে চলা
ড. সিলভারম্যানের মতে, “ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি। এটি শরীরকে নতুন সময় অঞ্চলের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।”
টেরেসা পাওয়ার বলেন, “নতুন সময় অঞ্চলে কফির ব্যবহার সচেতনভাবে করতে হবে। সকালে শক্তি বাড়াতে কফি গ্রহণ ঠিক আছে। তবে সন্ধ্যার পর পান করলে ঘুম ব্যাহত হতে পারে। খাবারের সময়সূচিও যতটা সম্ভব নতুন সময় অঞ্চলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।”
জেট ল্যাগ ক্যালকুলেটর ব্যবহার
ড. সিলভারম্যান, ভ্রমণের সময় ‘জেট ল্যাগ ক্যালকুলেটর’ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং সঠিক ফ্লাইট সময় অনুযায়ী ঘুমের সময়সূচি সামঞ্জস্য করার পরামর্শ দেয়।
তিনি আরও বলেন, “টাইমশিফটার জেট ল্যাগ অ্যাপ’ও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক, তবে প্রথম ‘জেট ল্যাগ পরিকল্পনা’ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এতে ঘুম, খাবার, আলো গ্রহণ ও ক্যাফেইন ব্যবহারের সঠিক সময় জানিয়ে দেওয়া হয়, যা একাধিক সময় অঞ্চল পেরোনোর সময় খুবই কার্যকর।”
আরও পড়ুন
প্রথমবার একা ভ্রমণের আগে যা করবেন