Published : 07 Jul 2026, 02:55 PM
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই প্রয়োজন প্রকৃতির সান্নিধ্য। অথচ ব্যস্ত নাগরিক জীবনে বেশিরভাগ সময়টাই কাটে চার দেয়ালের ভেতর।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটালে মস্তিষ্কে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটে।
গবেষণায়ে যে তথ্য মিলেছে
পরিবেশ ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’-এ, “অ্যাসোসিয়েশনস বিটুইন নেচার এক্সপোজার, বডি ইমেজ অ্যান্ড লাইফ স্যাটিসফ্যাকশন: এ মাল্টিন্যাশনাল স্টাডি”, নামে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি-এর সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ভিরেন সোয়ামি’র নেতৃত্বে বিশ্বের ৫৮টি দেশের ১৮ থেকে ৯৯ বছর বয়সি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের ওপর এই জরিপ ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে— বয়স, লিঙ্গ কিংবা ভৌগোলিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, যারা নিয়মিত প্রকৃতির সান্নিধ্যে যান, তাদের নিজেদের প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি বা ভালোবাসা তৈরি হয়।
আর এই আত্ম-সহানুভূতি মানুষকে নিজের শরীর নিয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবতে শেখায়, যা দিনশেষে জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য গ্রোভ রিকভারি কমিউনিটি’-র বোর্ড-প্রত্যয়িত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্লিন্ট সালো রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, "প্রকৃতি মানুষের শরীরের বাহ্যিক গঠন পরিবর্তন করে না; বরং এটি আমাদের নিজেদের নিয়ে ভাবনার ধরন বদলে দেয়। খোলা আকাশের নিচে থাকলে মানুষ বাহ্যিক রূপের চেয়ে চারপাশের অভিজ্ঞতায় বেশি মগ্ন থাকে, যা নিজের প্রতি সদয় হতে সাহায্য করে।"
কানাডার ক্যালগেরির ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রড মিচেল, তার রোগীদের নিয়ে নিয়মিত প্রকৃতির মাঝে কাউন্সেলিং সেশন করেন।
একই প্রতিবেদনে অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, “যারা নিজেদের শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তারা নিজের প্রতি খুব কঠোর হন। অথচ প্রকৃতি এমন এক মুক্ত পরিবেশ, যেখানে কেউ কাউকে বিচার করতে আসে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিলভিয়া ব্রাফম্যান মেন্টাল হেলথ সেন্টার’-এর মেডিকেল পরিচালক ডা. লিন্ডা ডোলিনের মতে, “প্রকৃতির শান্ত উদ্দীপনা আমাদের মস্তিস্ককে কোনো রকম চাপ ছাড়াই আটকে রাখে, যা মনকে ধ্যানের মতো শান্ত অবস্থায় নিয়ে যায়।”
এটি শহরের কোলাহলের মতো মস্তিস্কের দ্রুত মনোযোগ দাবি করে না, ফলে মস্তিস্ক এক ধরনের পরম বিশ্রাম পায়।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের ৫টি উপকারিতা
গবেষণা ও এই বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতিতে সময় কাটালে আরও কিছু মানসিক পরিবর্তন ঘটে:
দুশ্চিন্তার পুনরাবৃত্তি কমায়: বিষণ্ণতার একটি লক্ষণ হর, একই নেতিবাচক চিন্তা বারবার করা।
মনোবিদ রড মিচেল বলেন, “ফোন পরখ না করে প্রকৃতির মাঝে মাত্র ১০ মিনিট কাটালে এই চক্র ভেঙে ফেলা সম্ভব।”
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাস: সবুজের স্পর্শে শরীরের ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে যায়।
বিস্ময় ও আত্ম-গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিদ ডা. ডাকারি কুইম্বি মনে করেন, “প্রকৃতির বিশালতা দেখে মানুষের মনে ‘বিস্ময়’ তৈরি হয়, যা নিজের ক্ষুদ্র ত্রুটিগুলোকে ভুলে নিজেকে ভালোবাসতে শেখায়।”
সচেতনতা বা মাইন্ডফুলনেস: পাখির ডাক, বাতাসের স্পর্শ বা গাছের সুগন্ধ, ইন্দ্রিয়গুলোকে সজাগ করে বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে সাহায্য করে।
স্ক্রিন থেকে মুক্তি: প্রতিদিনের ডিজিটাল স্ক্রিনের ‘মেকি’ দুনিয়া থেকে প্রকৃতি এক পশলা স্বস্তি দিতে পারে।
আরও পড়ুন