Published : 07 Jul 2026, 05:09 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখলে যুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে সতর্ক করেছে ইরান।
মঙ্গলবার আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যদি হুমকি অব্যাহত থাকে তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ‘শুরু নাও হতে পারে’। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির (এমওইউ) ১৩ নং অনুচ্ছে উদ্ধৃত করেছেন।
আরাকচি আরও বলেছেন, ‘লাখ লাখ গর্বিত ইরানি’ নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে জড়ো হচ্ছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স এর পোস্টে তিনি বলেন, “তারা কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হুমকিতে টলবে না। আপনার (ট্রাম্প) স্বাক্ষরকে সম্মান করুন।”
সোমবার হোয়াইট হাউজের ওভাল দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ফের হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আরাকচি এসব মন্তব্য করলেন।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে অথবা ‘কাজ শেষ করবে’।
তিনি আরও বলেছেন, “আমরা ছাড় আদায় করেছি। এখন তাদের সেই ছাড়গুলো মেনে চলতে হবে আর সেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। যাকে আমি ধূলা বলেছি, ওই সমৃদ্ধ পদার্থ, আমি সেটিকে পারমাণবিক ধূলা বলেছি, আমরা পেতে যাচ্ছি।
“আমি একটা কারণে এর ভেতরে গিয়েছি, অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে, এটি হচ্ছে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আমি শাসন পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করছি না যদিও এটি শাসন পরিবর্তনই। প্রথম শাসন চলে গেছে। দ্বিতীয় শাসনও চলে গেছে। আর আমি মনে করি তৃতীয় শাসন আরও কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন কিন্তু আমাদের দেখতে হবে।
“আমাদের মহান নৌবাহিনী, যারা সর্বশ্রেষ্ঠ অবরোধ আরোপ করেছিল যা কেউ কখনো দেখেনি, দুই মাসের মধ্যে একটি জাহাজও এর ভেতর দিয়ে যেতে পারেনি আর তারপর আমরা সেই অবরোধ মুক্ত করেছি কারণ আমরা সম্ভবত একটি চুক্তি করার কাছাকাছি ছিলাম।
“দেখুন, আমরা একভাবে না একভাবে জয় পেতে যাচ্ছি। হয় আমরা একটি চুক্তি করবো অথবা আমরা কাজটি শেষ করবো, ওকে? আর কাজটি শেষ করা কঠিন হবে না।
“আমি বরং একটি চুক্তি করবো কারণ আমি ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সেতুগুলো ধ্বংস করে ফেলতে পারি। আমরা তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারি, তাদের সব বড় প্রকল্পগুলো যা তারা তৈরি করেছে।
“তাদের অনেক টাকা ছিল। এখন তাদের কোনো টাকা নেই। আমরা তাদের কোনো টাকা দেবো না। কিন্তু আমরা তাদের বিদুৎ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো আমি বলবো, এক বিকালের অল্প সময়ের মধ্যেই ধ্বংস করে দিতে পারি। প্রত্যেকটি প্রকল্প নাই হয়ে যাবে আর তারা তা জানে।”
আরও পড়ুন:
কোম নগরে খামেনির স্মরণে বিশাল শোকযাত্রা
হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলে ট্যাংকারে প্রজেক্টাইলের আঘাত, আগুন