Published : 06 Jul 2026, 04:30 PM
স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে গ্লুটেনমুক্ত খাবারের প্রবণতা বাড়ছে। মনে করা হয়, গ্লুটেনমুক্ত রুটি অন্ত্রের জন্য উপকারী।
তবে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, গ্লুটেনমুক্ত লেখা থাকলেই কোনো খাবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না।
বরং অনেক গ্লুটেনমুক্ত রুটিতে আঁশ কম থাকে, অতিরিক্ত পরিশোধিত উপাদান ও বিভিন্ন সংযোজক ব্যবহার করা হয়, যা সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে।
গ্লুটেনমুক্ত মানেই স্বাস্থ্যকর নয়
অনেকের ধারণা, গমের তৈরি রুটির তুলনায় গ্লুটেনমুক্ত রুটি স্বাস্থ্যকর। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ সাবিতা শ্রীবাস্তব রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “গ্লুটেনমুক্ত অনেক রুটি তৈরি হয় পরিশোধিত চাল, ভুট্টা বা ‘ট্যাপিওকার’ মাড় দিয়ে। এসব উপাদানে প্রাকৃতিক আঁশের পরিমাণ কম থাকে। ফলে অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ হয় না।”
ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে অবস্থিত ‘সিনাট্রা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট স্পেশালিস্ট’-এ কর্মরত এ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “একই সঙ্গে এসব রুটিতে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি, সংরক্ষণকারী উপাদান এবং বিভিন্ন সংযোজক ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক নয়।”
তার কাথায়, “যাদের সিলিয়াক রোগ নেই, তাদের জন্য শুধু গ্লুটেনমুক্ত খাবার খাওয়া বিশেষ কোনো বাড়তি উপকার দেয়, এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।”
যারা উপকার পাবেন
সাবিতার মতে, “দুটি ধরনের শারীরিক গঠনের জন্য গ্লুটেনমুক্ত রুটি প্রয়োজনীয় হতে পারে।”
প্রথমত, যাদের সিলিয়াক রোগ রয়েছে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধব্যবস্থাজনিত রোগ, যেখানে গ্লুটেন শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং অন্ত্রের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে পুষ্টি শোষণে সমস্যা দেখা দেয়।
দ্বিতীয়ত, কিছু মানুষের গ্লুটেন সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। এদের ক্ষেত্রে গ্লুটেন খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়, যদিও তাদের সিলিয়াক রোগ থাকে না।
গ্লুটেন সংবেদনশীলতা বলতে যা বোঝায়
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফিড ইওর ইনটেনশন’-এর নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ স্টেফানি ডান, একই প্রতিবেদনে বলেন, “শরীর গ্লুটেনের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে গ্লুটেন বাদ দিলে হজমের সমস্যা কমে যেতে পারে।”
তবে তিনি সতর্ক করেন, “শুধু নিজের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গ্লুটেন বাদ দেওয়া উচিত নয়। কারণ একই ধরনের উপসর্গ আরও অনেক পরিপাকজনিত রোগেও দেখা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করা ঠিক নয়।”
অন্ত্রের সুরক্ষায় আঁশের গুরুত্ব
অন্ত্র সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি হল, খাদ্যআঁশ। আঁশ অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং নিয়মিত মলত্যাগেও সহায়তা করে।
সমস্যা হল, বাজারের পাওয়া যায় এমন অনেক গ্লুটেনমুক্ত রুটিতে আঁশের পরিমাণ খুবই কম। ফলে শুধু গ্লুটেন এড়িয়ে চললেও অন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায় না।
এই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, রুটি যেটাই হোক না কেন, প্রতি টুকরাতে পর্যাপ্ত আঁশ থাকা উচিত। পাশাপাশি সম্পূর্ণ শস্য দিয়ে তৈরি রুটি বেছে নেওয়া ভালো।
লেবেল পড়া জরুরি
স্টেফানি ডান বলেন, “অনেক গ্লুটেনমুক্ত রুটিতে অপ্রয়োজনীয় চিনি ও অতিরিক্ত লবণ থাকতে পারে। তাই উপাদানের তালিকা ও পুষ্টিগুণ দেখে কেনা উচিত।”
অন্যদিকে সাবিতা শ্রীবাস্তব বলেন, “যদি উপাদানের তালিকায় সম্পূর্ণ শস্যের পরিবর্তে, শুধু মাড় বা পরিশোধিত আটা লেখা থাকে, তাহলে সেই রুটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।”
যখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত
গ্লুটেনযুক্ত খাবার খাওয়ার পর যদি নিয়মিত পেটব্যথা, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত গ্যাস, ওজন কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নিজে থেকে খাদ্য পরিবর্তনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রয়োজনে সিলিয়াক রোগ বা অন্যান্য পরিপাকজনিত রোগের পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
পেট খারাপ হলে আরাম মিলবে যেসব খাবারে