Published : 07 Jul 2026, 01:55 PM
হয়তো বেশ ফুরফুরে মেজাজে বেশ কিছুক্ষণ দৌড়েছেনে বা হেঁটেছেন। তারপর হঠাৎ করেই বুকের খাঁচার ঠিক নিচে পেটের একপাশে তীব্র, ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা শুরু হলো। বাধ্য হয়েই হাঁটা দৌড়ের গতি কমিয়ে দিতে হলো।
শরীরচর্চা বা দৌড়ানোর সময় এই যে হঠাৎ পেটে তীব্র মোচড় বা সুই ফোটার মতো ব্যথা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়, ব্যায়াম-সংশ্লিষ্ট সাময়িক পেটের ব্যথা। উদরশূল’ (ইটিএপি), যা ‘সাইড স্টিচ’ নামে পরিচিত।
‘সাইড স্টিচ’ বলতে যা বোঝায়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ‘হসপিটাল ফর স্পেশাল সার্জারি’র শরীরতত্ত্ববিদ হান্টার কার্টার এই বিষয়ে সেল্ফ ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “এটি হল ব্যায়ামের সময় পেটের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশে (সাধারণত ডান পাশে এবং পাঁজরের নিচে) হঠাৎ তৈরি হওয়া তীব্র ব্যথা। এটি সাধারণ মাংসপেশির টান (ক্র্যাম্প) বা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা (যেমন: পেট ফাঁপা বা বমি ভাব) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”
এই ব্যথা হওয়ার কারণ
কার্টারের মতে, এই ব্যথার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনও শতভাগ নিশ্চিত নয়। তবে প্রধান কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ হল:
পেটের ভেতরের আবরণে ঘর্ষণ: দৌড়ানোর সময় যারা শরীর বেশি ওঠানামা (বাউন্স) করান বা সাঁতার কাটার সময় যাদের শরীর বেশি মোচড় খায়, তাদের পেটের ভেতরের পাতলা আবরণটিতে (পেরিটোনিয়াম) বারবার ঘর্ষণ লেগে এই ব্যথার সৃষ্টি হয়।
মধ্যচ্ছদা পেশিতে রক্তসঞ্চালন হ্রাস: ব্যায়ামের সময় শরীর সচল রাখতে রক্ত পেটের কেন্দ্রভাগ থেকে হাত ও পায়ের কার্যক্ষম পেশির দিকে বেশি প্রবাহিত হয়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্যকারী ‘মধ্যচ্ছদা’ (ডায়াফ্রাম) পেশিতে সাময়িক রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা ব্যথার সৃষ্টি করে।
ভরা পেটে ব্যায়াম: ব্যায়ামের ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়া বা একসঙ্গে প্রচুর তরল পান করলেও হজমে বিঘ্ন ঘটে। সেই খাবার ও তরল পেটের ভেতরে নড়াচড়া করার ফলে ভেতরের আবরণে চাপ পড়ে এই সমস্যা তৈরি হয়।
তাৎক্ষণিক মুক্তির কিছু সহজ উপায়
ব্যায়ামের মাঝে হঠাৎ এই ব্যথা শুরু হলে সান ফ্রান্সিসকোর স্টোন ক্লিনিকের ক্রীড়া প্রশিক্ষক সিডনি লোপেজ নিচের কয়েকটি উপায় অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন:
গতি কমিয়ে দেওয়া: তীব্র দৌড় থামিয়ে আস্তে আস্তে হাঁটতে বা হালকা জগিং করতে হবে করুন। এতে পেটের ওপর চাপ কমে যায়।
পেট ভরে গভীর শ্বাস নেওয়া: বুক ফুলিয়ে শ্বাস না নিয়ে পেট ফুলিয়ে দীর্ঘ ও গভীর শ্বাস নিতে হবে। এটি মধ্যচ্ছদা পেশির ক্লান্তি দূর করে পেটকে শিথিল হতে সাহায্য করে।
আঙুল দিয়ে চাপুন: ব্যথার জায়গায় আঙুল দিয়ে হালকা চেপে ধরে সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে দাঁড়ালে, সাময়িকভাবে ব্যথা কমে আসে।
প্রতিরোধ করার উপায়
খাবারের নিয়ম: দৌড়ানো বা উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম শুরু করার অন্তত এক থেকে তিন ঘণ্টা আগে কোনো ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
একটানা পানি না পান: শরীরচর্চার ঠিক আগে বেশি পানি না গ্রহণ করে, সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে।
পেটের পেশি শক্ত করা: পেটের পেশির শক্তি ও স্থায়িত্ব বাড়াতে ‘প্ল্যাংক’ বা ‘সাইড প্ল্যাংক’-এর মতো ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করা উপকারী। পেটের কেন্দ্রীয় পেশি (কোর মাসল) শক্তিশালী হলে এই ব্যথার প্রবণতা কমে যায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
এই বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে, ‘সাইড স্টিচ’ সাধারণত বিপজ্জনক নয় এবং বিশ্রাম নিলে দ্রুত ঠিক হয়ে যায়।
তবে ব্যায়াম ছাড়াও যদি পেটে দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা থাকে, সময়ের সঙ্গে ব্যথা বাড়তে থাকে কিংবা ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরানো বা বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
যে ব্যায়ামে মিলবে দ্বিগুণ শক্তি