০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

মুখের ব্যায়ামে চেহারায় উজ্জ্বলভাব

‘ফেইস ইয়োগা’র মাধ্যমে মুখের ত্বক ঝুলে পড়া অনেকটাই রোধ করা যায়।

মুখের ব্যায়ামে চেহারায় উজ্জ্বলভাব
ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jun 2025, 06:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:16 PM

পাউট বা ঠোঁট চোখা করা, ফুলানো গাল, ভ্রু কুঁচকানো— এসব অদ্ভুত মুখভঙ্গি দেখলে প্রথমে মনে হতে পারে কেউ হয়ত মজা করছেন।

তবে এই মুখভঙ্গি এখন রীতিমতো একটি ‘ট্রেন্ড’। যার নাম ‘ফেইস ইয়োগা’ অর্থাৎ মুখের ব্যায়াম।

কেউ বলছেন এটি প্রাকৃতিক ‘ফেইসলিফট’, কেউ বলছেন এটি বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।

তবে প্রশ্ন হল, এই দাবিগুলোর পেছনে সত্যি কি কিছু আছে? নাকি সবটাই ‘সোশ্যাল মিডিয়া’র বাহুল্য?

কী এই ফেইস ইয়োগা?

ফেইস ইয়োগা মানে হচ্ছে মুখের বিভিন্ন পেশির জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়াম।

যেভাবে শরীরচর্চায় মাংসপেশি সুগঠিত হয়, ঠিক তেমনি মুখের পেশিরও ব্যায়াম করা যায়— এই বিশ্বাস থেকেই পদ্ধতিটির জন্ম।

এতে কোনো প্রসাধনী বা ব্যয়বহুল পণ্য লাগে না। শুধু সময়, ধৈর্য আর প্রতিদিনকার কিছু অভ্যাস বদলালেই হয়।

মুখের গঠন ও বয়সের ছাপ

সিএনএন ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ত্বক বিশেষজ্ঞ ও ‘ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজ’-এর ক্লিনিক্যাল সহকারী প্রফেসর ডা. আনেত্তা রেস্কো ব্যাখ্যা করেছেন, “আমাদের মুখে চামড়ার নিচে স্তরে স্তরে চর্বি ও মাংসপেশি থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পেশিগুলো যদি ব্যবহার না করা হয় (যেমন- বোটক্স নেওয়ার কারণে) তবে সেগুলো সংকুচিত হয়ে যায় বা শুকিয়ে যায়। তখন ওপরের চর্বির স্তর নিচে নেমে আসে এবং মুখে ঝুলে পড়ার ভাব তৈরি হয়।”

ফেইস ইয়োগার মূল উদ্দেশ্য হল এই মাংসপেশিগুলো সক্রিয় রাখা ও তাদের শক্তি বাড়ানো।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কী বলছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ‘নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি’র ‘ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিন’য়ের চর্মরোগ বিভাগের সহ-সভাপতি ও অধ্যাপক ডা. মুরাদ আলাম এই বিষয়ে একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

২০১৮ সালে ১৬ জন মধ্যবয়সী অংশগ্রহণকারীর ওপর ২০ সপ্তাহ ধরে দৈনিক ৩০ মিনিট করে মুখের ব্যায়াম করানো হয়। গবেষণায় দেখা যায়, বিশেষ করে গালের পেশিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। মুখে পূর্ণতা এসেছে এবং কিছুটা তরুণ দেখাচ্ছে।

ডা. আলাম বলেন, “গালে সবচেয়ে বড় পেশিগুলো থাকে, তাই সেগুলো ব্যায়ামের মাধ্যমে সহজে উন্নত করা যায়।”

যদিও গবেষণার নমুনা সংখ্যা ছিল কম এবং সরাসরি পরিমাপের সুযোগ ছিল না, তবে এই ফলাফল উৎসাহজনক।

তবে তিনি সতর্ক করে দেন, “এটি কসমেটিক চিকিৎসার বিকল্প নয়, কারণ পরিবর্তনটা অতটা বড় নয়। তবে যারা প্রসাধনী চিকিৎসা করতে চান না খরচ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অস্বস্তির কারণে, তাদের জন্য এটি একটি নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে।”

আর কী উপকার হয়?

ডা. আনেত্তা রেস্কো আরও বলেন, “ফেইস ইয়োগা প্রতিদিন করলে মুখে রক্ত চলাচল ও লসিকা প্রবাহ বাড়ে। ঘুমের পর অনেক সময় মুখ ফুলে থাকে। এটি কমাতে ফেইস ইয়োগা সাহায্য করতে পারে। যাদের অ্যালার্জি আছে বা সম্প্রতি কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন, তাদের জন্যও এটি উপকারী।”

তিনি বলেন, “প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট মুখে হালকা মালিশ বা ব্যায়াম করলে মুখের ফোলাভাব কমে যায়।”

রক্ত চলাচল বাড়লে সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল ও আর্দ্র দেখায়। তবে এই প্রভাব স্থায়ী নয় বলে তিনি জানান।

মানসিক শান্তির দিকেও গুরুত্ব

ফেইস ইয়োগার একজন প্রশিক্ষক এবং ‘দ্য ইয়োগা ফেইস’ বইয়ের লেখিকা অ্যানেলিস হেইগেন বলেন, “ফেইস ইয়োগা শুধু মুখের পেশি টোন করার জন্য নয়, বরং এটি নিজেকে জানার ও মানসিক চাপ কমানোর একটি উপায়।”

তার মতে, “অনেক সময় নিজেদের অজান্তেই মুখে চাপ দিয়ে থাকি। ভ্রু কুঁচকানো, চোয়াল শক্ত করে রাখা, কপাল কুঁচকে রাখা ইত্যাদি। এই অভ্যাসগুলো আমাদের চেহারায় বয়সের ছাপ ফেলে। ফেইস ইয়োগার মাধ্যমে এসব মাংসপেশিকে আরাম দেওয়া সম্ভব।”

তিনি বলেন, “আমি আমার ক্লাসে অনেক সময় ‘স্মাইলিং বুদ্ধ মুখ’ করতে বলি— অর্থাৎ নিরপেক্ষ মুখাবস্থায় হালকা হাসি। অথবা ‘সিংহের নিঃশ্বাস’ ব্যায়াম— যেখানে মুখ বড় করে খোলা হয়, জিভ বার করা হয়, চোখ ঘুরিয়ে শ্বাস ছাড়া হয়।”

তার মতে, “এই চর্চাগুলো মুখের অভিব্যক্তির প্রতি সচেতন করে তোলে। ফলে নিজেকে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখবেন।”

কোনো ক্ষতি হয় কি?

ডা. মুরাদ আলাম বলেন, “সাধারণভাবে ফেইস ইয়োগা খুবই নিরীহ ধরনের ব্যায়াম। এতে মুখে চোট বা ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম। তবে যদি কেউ অত্যধিক জোর প্রয়োগ করে বা ভুলভাবে করে, তবে সামান্য ক্ষতি হতে পারে।”

ডা. রেস্কো পরামর্শ দেন, “চোখের নিচের পাতলা চামড়ায় চাপে বা ঘষা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এই অংশটি খুবই সংবেদনশীল। আর অতিরিক্ত টান বা ঘষায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

আরও পড়ুন

মুখের যত্নে তেল

বক্ষবন্ধনী টেকসই রাখার পন্থা

সহজ কয়েকটি মুখের ইয়োগা