Published : 29 Jun 2026, 05:23 PM
সুস্থ থাকার জন্য সেরা ব্যায়াম কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তরে বেশিরভাগ মানুষই বলবেন নিয়মিত হাঁটা কিংবা দৌড়ানোর কথা।
তবে কখনও কি ভেবে দেখেছেন, প্রতিদিনের করা যে কোনো ব্যায়াম কতটা ‘এনার্জি-এফিশিয়েন্ট’ বা কার্যকর?
যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ব্যায়াম ও দৌড় প্রশিক্ষক সিয়ারা লুকাস, এই বিষয়ে সেলফ ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “দৌড়ানোর তুলনায় সাইকেল চালানো অনেক বেশি মসৃণ ও নিয়ন্ত্রিত মনে হয়। পুষ্টি ও ফিটনেস বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, সাইক্লিং মূলত আমাদের শরীরের শক্তির অপচয় রোধ করে ব্যায়ামকে বহুগুণ বেশি কার্যকরী করে তোলে।”
দৌড়ানোর সময় যে কারণে শক্তির অপচয় হয়
দৌড়ালে, প্রতি পদক্ষেপে শরীরের পুরো ওজন পিচঢালা রাস্তা বা ট্রেডমিলের ওপর আছড়ে পড়ে। গতি বজায় রাখার জন্য হাত দোলাতে হয়, পা মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর কিছুটা ‘ব্রেক’ বা থমকে যায় এবং পরক্ষণেই আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।
এই যে বারবার থামা এবং গতি বাড়ানোর অবিরাম প্রক্রিয়া যাকে বলে ‘স্টপ অ্যান্ড গো মোশন’, এটি আমাদের শরীর থেকে প্রচুর শক্তি কেড়ে নেয়।
সাইক্লিং যেভাবে এনার্জি বা শক্তি বাঁচায়
সাইকেলের ওপর বসলে— সেটা ঘরের ভেতরের ‘ইনডোর স্পিন বাইক’ হোক কিংবা বাইরের সাধারণ সাইকেল, দৌড়ানোর সেই চেনা ক্লান্তি ও ঝক্কি একদম উধাও হয়ে যায়।
সাইকেলের প্যাডেল ঘোরানোর বৃত্তাকার গতি বা ‘সার্কুলার মোশন’ এনার্জি বা শক্তি খরচের মাত্রা সমান ও স্থিতিশীল রাখে। ফলে শরীরকে বারবার ‘মোমেন্টাম’ বা গতি হারাতে এবং ফিরে পেতে হয় না।
এই ব্যায়ামে ওপরের শরীর স্থির থাকে আর পায়ের পেশিগুলো মূল কাজটা করে।
অস্ট্রেলিয়ার বায়োমেকানিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ব্লেজেভিচ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “দৌড়ানোর চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি শক্তি সাশ্রয় হয় সাইকেল চালালে। প্রধান কারণ হল, এটি শরীরের জয়েন্ট বা হাড়ের জোড়গুলোর ওপর খুব কম চাপ বা প্রভাব ফেলে।"
তিনি আরও বলেন, “সাইক্লিং মূলত তিনটি বড় শক্তির অপচয়কে কমিয়ে দেয়— অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অতিরিক্ত নড়াচড়া, মাটিতে পায়ের তীব্র আঘাত এবং মাংসপেশির গতির সীমাবদ্ধতা।
সহজ মনে হলেও আসলে কিন্তু কার্যকর!
অনেকেই মনে করতে পারেন, সাইকেল চালানো যেহেতু আরামদায়ক বা সহজ, তাহলে মেদ ঝরাতে কম কার্যকর।
তবে সিয়ারা লুকাস বলেন, “এটি একদমই ভুল ধারণা। সাইকেলে যখন প্যাডেলের রেজিস্ট্যান্স বা চাকার চাপ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন এটি দৌড়ানোর মতোই সমান ক্যালোরি পোড়ায়।”
সাইক্লিংয়ের সুবিধা হল, এটি হাড়ের জোড়ে কোনো চোট বা স্ট্রেস না দিয়েই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বা ‘অ্যারোবিক ক্যাপাসিটি’ বাড়ায়। আর দীর্ঘক্ষণ ক্লান্তিহীনভাবে ব্যায়াম চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
তাই ব্যায়ামের একঘেয়ে রুটিন থেকে বাঁচাতে এবং কম পরিশ্রমে শরীরের দ্বিগুণ মেদ ঝরাতে সাইক্লিং হতে পারে প্রতিদিনের সঙ্গী।
আরও পড়ুন
ভালো ঘুমের জন্য ব্যায়ামের সেরা ও সবচেয়ে খারাপ সময়