থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীর্থযাত্রায় থাকা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভিড়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
থাইল্যান্ডে মা-বাবার পিকআপ ভ্যান নিয়ে এক ১১ বছর বয়সী বালকের চালানো গাড়ির ধাক্কায় অন্তত ৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত হয়েছেন।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীর্থযাত্রায় থাকা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভিড়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় একটি উদ্ধারকারী দলের শেয়ার করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গেরুয়া রঙের পোশাক পরা ভিক্ষুরা যখন সড়ক ধরে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই গাড়িটি তাদের ওপর উঠে যায়।
‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার কিছু আগে এই ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ৪০০ মাইল বা ৬৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মুকদাহান শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মুকদাহান প্রদেশের গভর্নর ভোরায়ান বুনারাত জানিয়েছেন, ৩৪ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং ৫ জন অনুসারীর একটি দল ওই প্রদেশের একটি মন্দির থেকে প্রতিবেশী উবোন রাতচাথানি প্রদেশের আরেকটি মন্দিরে তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, আহত মানুষজন রাস্তায় পড়ে আছেন এবং ভিক্ষুদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৯৩ শতাংশের বেশি মানুষ এই ধর্মের অনুসারী। ভিক্ষুরা প্রায়ই জনসম্মুখে এমন শোভাযাত্রা করে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দান ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।
এমনকি দেশটির গণপরিবহনেও প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের পাশাপাশি ভিক্ষুদের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড থাকে।
গভর্নর বুনারাত জানান, ৫ জন ভিক্ষু দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং ৩ জন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
পরে মুকদাহান প্রাদেশিক কার্যালয় থেকে নবম ভিক্ষুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া অন্তত ৩ জন ভিক্ষু গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বালক তার মা-বাবার পিকআপ ভ্যানটি অনুমতি ছাড়া নিয়ে বের হয়েছিল। প্রায় ৬ মাইল বা ১০ কিলোমিটার গাড়ি চালানোর পর সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভিক্ষুদের ওপর গাড়িটি তুলে দেয়।
ওই প্রদেশের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুত্রা জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন, তাই এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বালকটি চরম মানসিক শকের মধ্যে থাকায় এবং কোনো জবানবন্দি দিতে না পারায় পুলিশ এখনো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি।
‘দ্য গার্ডিয়ান’ লিখেছে, থাইল্যান্ডে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ সড়ক নিরাপত্তা রেকর্ডের দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড অন্যতম।
অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের মতো বিষয়গুলো এসব দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করে।
গভর্নর বুনারাত বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এই ঘটনাটি কেবল আমাদের প্রদেশের জন্যই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও একটি বড় শিক্ষা হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি এর সাথে জড়িত প্রত্যেকে, বিশেষ করে বাবা-মায়েদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কারণ কেউই চায় না যে এই ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটুক।”
