Published : 18 Jan 2026, 12:09 PM
শীতের সময়টা যেন বইয়ের জন্যই তৈরি। বাইরে কুয়াশা আর ঠাণ্ডার এই সময়ে একটি ভালো বই হাতে নিলে মন নিজেই ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।
কেউ উপন্যাসে ডুবে যেতে ভালোবাসেন, কেউ আবার ইতিহাস বা জীবনভিত্তিক লেখা পড়েন।
তবে বই পড়া বা শোনা শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এর গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী উপকারিতা রয়েছে।
বই পড়া ও মস্তিষ্কের সুস্থতা
বই পড়ার সময় মস্তিষ্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করে। নতুন তথ্য গ্রহণ, কল্পনা, বিশ্লেষণ সব মিলিয়ে মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ও স্নায়ুবিজ্ঞানী লিসা জেনোভা রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “নিয়মিত নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। এতে ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। কারণ বই পড়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কে নতুন স্নায়বিক পথ তৈরি হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।”
মনোযোগ বাড়াতে বই যা করে
অল্প সময়ের ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে বারবার মনোযোগ বদলাতে বদলাতে নিজের মধ্যে একাগ্রতা এখন অনেকটাই কমে যাচ্ছে। বই পড়ার এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার কার্যকর উপায়।
লিসা জেনোভার ভাষায়, “দীর্ঘ লেখা পড়ার অভ্যাস মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। এতে কাজের সময় ভুল কম হয়, চিন্তা পরিষ্কার থাকে এবং একটি বিষয়ের ওপর দীর্ঘ সময় মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।”
স্ক্রল নয়, বই বেশি উপকারী
অনেকে মনে করেন, ফোনে সময় কাটানো মানে বিশ্রাম নেওয়া। তবে অতিরিক্ত ‘স্ক্রল’ করা মস্তিষ্ককে আরও উত্তেজিত করে তোলে।
সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের অ্যালগরিদম এমনভাবে কাজ করে, যাতে আবেগ বারবার প্রবল হয়ে ওঠে। বই পড়া এর ঠিক বিপরীত।
এটি ধীর, গভীর এবং স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। একটি বই শেষ করতে সময় লাগে, চিন্তা লাগে, অনুভবও লাগে। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং আত্মতৃপ্তিও তৈরি হয়।
সহমর্মিতা শেখায় বই
বিশেষ করে গল্প বা উপন্যাস পড়লে অন্য মানুষের জীবন, অনুভূতি ও বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। এতে সহমর্মিতা বাড়ে।
লিসা জেনোভা বলেন, “গল্প পড়ার সময় মস্তিষ্কে এমন স্নায়ুকোষ সক্রিয় হয়, যা অন্যের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে চরিত্রের আনন্দ, ভয় বা দুঃখ নিজের মতো করে অনুভব করা সম্ভব হয়। এটি বাস্তব জীবনেও অন্যকে বুঝতে ও সহানুভূতিশীল হতে অনেকটাই সাহায্য করে।
‘অডিও বুক’ ও শ্রবণ ক্ষমতা
পড়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারলে ‘অডিও বই’ ভালো বিকল্প। যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় এই অভ্যাস এখন ধীরে ধীরে আমাদের দেশেও জনপ্রিয়।
লিসা জেনোভার মতে, অডিও বা শোনা বই পড়ার সমানই কার্যকর। বরং এটি শ্রবণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মন দিয়ে শোনার অভ্যাস তৈরি করে, প্রতিদিনের কথোপকথনেও এটি কাজে আসে।
ব্যস্ত জীবনে বই পড়ার সময় বাড়ানোর উপায়
পড়ার জন্য আলাদা জায়গা
যেখানে বসে সাধারণত ফোন ব্যবহার করা হয়, সেখানে বই পড়তে গেলে মনোযোগ ভাঙে। তাই বাসার ভেতর একটি নির্দিষ্ট কোণ ঠিক করা ভালো, যেখানে শুধু বই পড়া হবে।
লিসা জেনোভা বলেন, “আলাদা পড়ার জায়গা তৈরি করলে মস্তিষ্কও বুঝে নেয় এখন বিশ্রাম ও মনোযোগের সময়।”
শোনা বইকে কাজে লাগান
হাঁটাহাঁটি, বাসার কাজ বা যাতায়াতের সময় অডিও বা শোনা বই চালু রাখা যায়। এতে আলাদা সময় বের না করেও বইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্ভব।
বই হাতের কাছে রাখা
অপেক্ষার সময়, লাইনে দাঁড়িয়ে বা অল্প অবসরে কয়েক পৃষ্ঠা পড়লেও তা বড় অভ্যাসে পরিণত হয়। প্রতিদিন সামান্য পড়াও বছরে অনেক বই শেষ করতে সাহায্য করে।
বই নিয়ে আলোচনা
বই পড়া একা একা হলেও, তা নিয়ে আলোচনা করলে অভিজ্ঞতা আরও গভীর হয়। বই নিয়ে কথা বললে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায় এবং পড়ার আগ্রহও বাড়ে।
ঘুমের আগে বই
ঘুমের আগে ফোনের পর্দা থেকে দূরে থাকতে বই সবচেয়ে ভালো সঙ্গী।
লিসা জেনোভার মতে, “বৈদ্যুতিক পর্দার আলো ঘুমের হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে বাধা দেয়। বই পড়া বা শোনা মন শান্ত করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে।”
আরও পড়ুন
আনন্দোচ্ছলে দুশ্চিন্তা কমানোর পন্থা
রাতে বই পড়ার অভ্যাসে ঘুম হবে জম্পেশ