Published : 07 Oct 2025, 06:04 PM
বেইকিং সোডা রান্নাঘরের পরিচিত একটি নাম। কেক, বিস্কুট বা পিঠা বানাতে যেমন এটি অপরিহার্য, ঠিক তেমনই এটি ঘরের পরিচ্ছন্নতায়ও সহায়ক উপাদান।
এই এক উপাদান দিয়েই ঘরের তিনটি সাধারণ ও বিরক্তিকর দাগ সহজেই দূর করা যায়।
বেইকিং সোডা শুধু সাশ্রয়ী নয়, এটি পরিবেশবান্ধবও। এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক নেই। তাই নিরাপদে ব্যবহার করা যায় বাড়ির বিভিন্ন জিনিসে।
দেয়ালের দাগ দূর করতে বেইকিং সোডা
ঘরের দেয়াল ও বেজবোর্ডে দাগ পড়া খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে যেসব জায়গায় চলাফেরা বেশি হয়, যেমন- ড্রয়িংরুম, করিডর বা প্রবেশপথ।
অনেকেই এই দাগ তুলতে শক্ত স্পঞ্জ বা রুক্ষ কাপড় ব্যবহার করেন। তবে এতে রংয়ের ক্ষতি হয়ে যায়।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘আর্ম অ্যান্ড হ্যামার’–এর বিশেষজ্ঞরা রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পরামর্শ দিয়েছেন, “এই ক্ষেত্রে বেইকিং সোডা ব্যবহার করলে রং নষ্ট না করেই দাগ তুলতে পারবেন।”
এক চা-চামচ বেইকিং সোডার সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ কাপ গরম পানি মিশিয়ে একটি হালকা দ্রবণ তৈরি করতে হবে। তারপর নরম স্পঞ্জ সেই মিশ্রণে ভিজিয়ে, পানি ঝরিয়ে হালকা হাতে দাগের জায়গায় ঘষতে হবে।
যদি শেষে সাদা পাউডারের মতো আস্তরণ থেকে যায়, তবে শুধু পরিষ্কার পানি দিয়ে আবার মুছে ফেলতে হবে। এতে রং অক্ষত থাকবে এবং দাগও পুরোপুরি মিলিয়ে যাবে।
মেঝের স্ক্র্যাচ বা জুতার দাগ তুলতে
টাইলস বা কাঠের মেঝেতে জুতার দাগ বা হালকা আঁচড় খুবই সাধারণ সমস্যা। এগুলো দেখতে যেমন খারাপ লাগে, তেমনি তুলতেও ঝামেলা হয়।
‘আর্ম অ্যান্ড হ্যামার’–এর পরামর্শ অনুযায়ী, বেইকিং সোডা এই ধরনের দাগ দূর করতে খুব কার্যকর।
কারণ, এটি হালকা ঘষণজাতীয় হওয়ায় মেঝের আসল পালিশ বা রং নষ্ট না করেই দাগ তুলে ফেলে।
ব্যবহারের নিয়মও সহজ—
দাগের জায়গায় সামান্য বেইকিং সোডা ছিটিয়ে দিন।
তারপর একটি ভেজা, নরম স্পঞ্জ দিয়ে হালকা বৃত্তাকারে ঘষুন।
শেষে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুছে নিন বা মোছা কাপড় দিয়ে শুকিয়ে ফেলুন।
এই প্রক্রিয়ায় মেঝে আবার আগের মতো চকচকে হয়ে উঠবে, কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করেছেন, মেঝেতে ব্যবহারের আগে অপ্রধান কোনো স্থানে একটু পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো। কারণ কিছু কাঠের পৃষ্ঠে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
সম্পর্কিত আরও প্রতিবেদন
বাসনের আঁচড় বা ধাতব দাগ তুলতে
প্রতিদিনের ব্যবহার করা প্লেট বা বাটিতে কখনও কখনও ধাতব চামচ বা কাঁটা-চামচের কারণে কালচে বা রুপালি আঁচড় পড়ে। দেখতে মনে হয়, যেন কেউ আঁকিবুঁকি করেছে। তবে এগুলো স্থায়ী দাগ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গৃহস্থালির টিপস বিশেষজ্ঞ লেসলি করোনা বলেন, “এই দাগ আসলে ধাতব জমাট পদার্থ, যা বেইকিং সোডার সাহায্যে সহজেই পরিষ্কার করা যায়।”
প্রথমে একটুখানি বেইকিং সোডা ও পানি মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। তারপর একটি নরম, অক্ষতিকর স্পঞ্জে নিয়ে বৃত্তাকারে ঘষে ঘষে দাগ তুলুন।
যদি দাগ বেশ পুরানো হয়, তাহলে পেস্টটি কিছুটা শুকনো ও দানাদার রাখলে এটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করে।
এই প্রক্রিয়ায় ধাতব জমাট অংশ মুছে যায়, তবে বাসনের চকচকে-ভাব বা রং অক্ষত থাকে। এভাবে প্লেট, কাপ, এমনকি কাচের পাত্রেও একইভাবে ব্যবহার করা যায়।
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সমাধান
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেইকিং সোডা শুধু ঘরের পরিচ্ছন্নতার সহজ উপায় নয়, বরং এটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প। এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক নেই। আর সহজলভ্য ও সস্তা।
ব্যবহারের পর ছোট যত্ন
বেইকিং সোডা ব্যবহারের পর প্রায়ই হালকা সাদা আস্তরণ দেখা যায়, কারণ এটি এক ধরনের পাউডারজাত উপাদান। তাই পরিষ্কারের পর অবশ্যই ভেজা কাপড় বা মপ দিয়ে জায়গাটি আবার মুছে নেওয়া উচিত।
এতে কোনো দাগ বা দানাদার-ভাব থেকে যাবে না। আর পৃষ্ঠ হবে একেবারে মসৃণ ও ঝকঝকে।
আরও পড়ুন