Published : 15 Jun 2026, 05:31 PM
রাতে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কেউ মাঝরাতে বারবার জেগে ওঠেন। ভালো ঘুমের জন্য অনেকে ওষুধের ওপরও নির্ভর করেন।
তবে কিছু শান্ত ও ছন্দময় শব্দ স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্ককে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। সঠিক শব্দ শুধু বাইরের বিরক্তিকর আওয়াজ ঢেকে দেয় না, বরং মনকে শান্ত করে ঘুমের পরিবেশও তৈরি করে।
মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘কাম ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, নিবন্ধিত মার্কিন পুষ্টিবিদ ও আচরণ বিজ্ঞানী ডা. ক্রিস মোসুনিক, ঘুমের জন্য উপকারী কয়েকটি শব্দের কথা জানান।
সবার জন্য একই ধরনের শব্দ সমানভাবে কার্যকর না হলেও, নিজের জন্য আরামদায়ক শব্দটি খুঁজে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
শব্দ যে কারণে ঘুমে সাহায্য করে
শ্রবণশক্তি ঘুমের সময়ও পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। গভীর ঘুমের মধ্যেও হঠাৎ দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ, গাড়ির হর্ন কিংবা কুকুরের ডাকে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
শান্ত, স্থির ও নিয়মিত শব্দ এসব আকস্মিক আওয়াজকে আড়াল করে দেয়। ফলে মস্তিষ্ক বারবার চমকে ওঠে না এবং ঘুম দীর্ঘ ও আরামদায়ক হতে পারে।
একই ধরনের শব্দ নিয়মিত শোনার অভ্যাস তৈরি হলে, শরীরও ধীরে ধীরে সেটিকে ঘুমের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে।
ফলে প্রতিদিন একই সময়ে সেই শব্দ শুনলে শরীর ও মন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে।
রংয়ের নামে শব্দের জাদু
ঘুমের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে রয়েছে সাদা, গোলাপি, বাদামি ও সবুজ শব্দ।
সাদা শব্দ: এমন একটি সমানধারার শব্দ, যা বিভিন্ন মাত্রার শব্দকে একসঙ্গে ধারণ করে। এটি অনেকটা চলমান পাখা বা দূরের যন্ত্রের মৃদু আওয়াজের মতো শোনায়। বাইরের শব্দ ঢেকে রাখতে এটি বেশ কার্যকর।
গোলাপি শব্দ: তুলনামূলকভাবে কোমল। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ কিংবা বাতাসে পাতার মৃদু দোলার মতো অনুভূতি দেয়। অনেকের কাছে এটি সাদা শব্দের তুলনায় বেশি আরামদায়ক মনে হয়।
বাদামি শব্দ: আরও গভীর ও ভারী ধরনের। দূরের বজ্রধ্বনি বা বড় জলপ্রপাতের গর্জনের মতো অনুভূতি তৈরি করে। গভীর ও ভারী শব্দ পছন্দ করলে, এটি বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
সবুজ শব্দ: মূলত প্রকৃতির মাঝারি মাত্রার শব্দকে বোঝায়। বনভূমির পরিবেশ, ঝরনার ধারা কিংবা পাখির ডাকের মতো শব্দ এতে অন্তর্ভুক্ত।
সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ
সমুদ্রের ঢেউ নিয়মিত বিরতিতে তীরে আছড়ে পড়ে। এই ছন্দ স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের গতির সঙ্গে অনেকটাই মিল রাখে। ফলে ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে শ্বাস ধীরে আসে, শরীরের টান কমে এবং মন শান্ত হতে শুরু করে। অনেকের কাছে এই শব্দ নিরাপত্তা ও প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে।
বৃষ্টি ও প্রবাহমান পানির শব্দ
মৃদু বৃষ্টির শব্দ কিংবা ঝরনার পানির ধারা প্রশান্তির প্রতীক। একই ধরনের পুনরায় শোনা শব্দ মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে বিশ্রামের দিকে নিয়ে যায়। শহরের কোলাহলে থাকলে এই ধরনের শব্দ মানসিকভাবে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি এনে দিতে পারে।
প্রকৃতির শব্দে মানসিক প্রশান্তি
ভোরের পাখির ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ কিংবা বাতাসে পাতার মৃদু নড়াচড়া, মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রকৃতির সঙ্গে মানসিক সম্পর্ক গভীর হওয়ায় এসব শব্দ সহজেই স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে। দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শান্ত পরিবেশে ঘুমিয়ে পড়ার জন্য এসব শব্দ বেছে নেওয়া যায়।
ধীরলয়ের সুরও হতে পারে কার্যকর
শান্ত ও ধীর ছন্দের সুর মস্তিষ্কের কার্যকলাপে স্থিরতা আনতে সাহায্য করতে পারে। ধীর লয়ের সুর হৃদ্স্পন্দন কিছুটা কমিয়ে শরীরকে শিথিল হতে সহায়তা করে। তবে খুব দ্রুত বা উত্তেজনাপূর্ণ সুরের পরিবর্তে শান্ত ও কোমল সুর নির্বাচন করাই ভালো।
ধ্যানভিত্তিক শব্দ ও ঘুমের গল্প
ঘুমানোর আগে ধ্যান খুবই কার্যকর। ধ্যানের জন্য তৈরি কোমল শব্দ বা নির্দেশনামূলক শব্দ মনোযোগকে ধীরে ধীরে দিনের চিন্তা থেকে সরিয়ে বিশ্রামের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
স্লিপ স্টোরিজ বা ঘুমের গল্প
একইভাবে ঘুমের জন্য তৈরি বিশেষ গল্পও অনেকের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। এসব গল্পের ভাষা, কণ্ঠস্বর এবং উপস্থাপনা এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে শ্রোতার মন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে এবং সহজে ঘুম নেমে আসে।
কেন এগুলো কাজ করে?
ডা. ক্রিস মোসুনিক বলেন, নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট শব্দ শুনে ঘুমালে মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং ওই শব্দ শুনলেই শরীরকে ঘুমের সংকেত পাঠায়। এটি অনিদ্রা ও উদ্বেগে ভোগা মানুষের মানসিক অস্থিরতা দূর করতে একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
কার জন্য কোন শব্দ উপযুক্ত?
বাড়ির আশপাশে যানবাহনের শব্দ বেশি হলে, সাদা শব্দ উপকারী হতে পারে। তুলনামূলক কোমল শব্দ চাইলে গোলাপি বা বাদামি শব্দ ব্যবহার করে দেখা যায়।
প্রকৃতিপ্রেমী হলে বৃষ্টি, ঝরনা, পাখির ডাক কিংবা সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে বেশি স্বস্তি মিলতে পারে।
আবার রাতে অতিরিক্ত চিন্তা কাজ করলে ধ্যানভিত্তিক শব্দ বা ঘুমের গল্প বেশি কার্যকর হতে পারে।
আরও পড়ুন