Published : 22 Jun 2026, 04:53 PM
পর্যাপ্ত ঘুম, সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়- এটা আর নতুন তথ্য নয়।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রতিদিন ঘুমের সময় সামান্য বাড়ালেও হৃদ-স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নিয়মিত ঘুমের সময় কিছুটা বাড়ানো, পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখলে, হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নতুন গবেষণায় যা জানা গেল
ইউকে বায়োব্যাংক প্রজেক্টের তথ্য ব্যবহার করে, যুক্তরাজ্যের ৫৩ হাজার ২৪২ জন মধ্যবয়সী প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়া, চিলি এবং ব্রাজিলের একদল আন্তর্জাতিক গবেষক এই গবেষণার মাধ্যমে ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম ও খাদ্যাভ্যাসে ছোট পরিবর্তন কীভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে তা বিশ্লেষণ করেছেন।
‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি’তে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণমূলক এই গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়, যারা প্রতিদিন গড়ে ১১ মিনিট বেশি ঘুমিয়েছেন এবং একই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তায় ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন, তাদের মধ্যে হৃদ্সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ কম ছিল।
ঘুম ও হৃদন্ত্রের সম্পর্ক কতটা গভীর?
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম বিশেষজ্ঞ এবং বক্ষরোগ চিকিৎসক সাইমা তাহির রিয়েলসিম্পল ডটকমকে বলেন, “হৃদ্-স্বাস্থ্যের অনেক ভিত্তির একটি হল, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম। তবে শুধু কম ঘুম নয়, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ঘুমও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।”
তার মতে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রক্তচাপ বাড়তে পারে, শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
এসব পরিবর্তন হৃদ্-রোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, “ঘুমের অভাব শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে। ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার শক্তিও কমে যায়।”
শুধু ১১ মিনিট নয়, প্রয়োজন সামগ্রিক পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞরা বলেন, গবেষণার ১১ মিনিটকে আলাদাভাবে দেখলে ভুল হবে। এটি কোনো জাদুকরি সংখ্যা নয়। বরং গবেষণার মূল বার্তা হল ঘুম, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যক্রমে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন একসঙ্গে করলে হৃদ্-স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।
কত ঘণ্টা ঘুম সবচেয়ে উপকারী?
অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতি রাতে, সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম সবচেয়ে উপযোগী।
এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন আট থেকে সাড়ে নয় ঘণ্টা ঘুম, নিয়মিত মাঝারি থেকে তুলনামূলক বেশি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস একসঙ্গে অনুসরণ করলে হৃদ্-রোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো বড় ধরনের জটিলতার ঝুঁকি প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
ঘুম কম হলে শরীরে যা ঘটে
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর বিশ্রাম ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয় সময় পায় না। ফলে রক্তচাপ, দীর্ঘ সময় পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না।
গবেষকদের মতে, ঘুমের সময় শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, কোষ মেরামত এবং বিপাকীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে এই প্রক্রিয়াগুলো ব্যাহত হয় এবং হৃদ্-যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
একই সঙ্গে মানসিক চাপও বাড়তে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্-রোগের অন্যতম ঝুঁকির কারণ।
আরও পড়ুন