Published : 15 Jul 2026, 08:59 PM
রিচার্ড এনগারাভার শিকার হয়ে যখন ফিরছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, ধারাভাষ্যে সিকান্দার বাখত বললেন, “দিনজুড়ে বারবার একই কথা বলছি, আরও এক ব্যাটার শর্ট বলে আউট!” এনগারাভার সেটি ছিল চতুর্থ উইকেট এবং সবকটিই শর্ট বলে! চার উইকেট শিকার করলেন তার পেস সঙ্গী ব্লেসিং মুজারাবানিও। জিম্বাবুয়েতে আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং।
জিম্বাবুয়ে একমাত্র টেস্টে বড় পরাজয়, ওয়ানডে সিরিজের হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও হেরে শুরু করল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ৩২ রানের জয়ে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।
বুলাওয়ায়োতে বুধবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের কেউ ফিফটি করতে পারেননি। তবে সম্মিলিত অবদানে ২০ ওভারে ১৭০ রান তোলে তাড়া। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ওই লক্ষ্য ছিল তাড়া করার মতোই। কিন্তু বাংলাদেশ পারেনি ধারেকাছে যেতেও।
সাড়ে তিন বছরের পর জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ফিরে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করেছেন ইয়াসির আলি চৌধুরি। ম্যাচের প্রথম ভাগে চার উইকেট নিয়েছেন চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামা নাহিদ রানা। কিন্তু ব্যাটে-বলে সতীর্থদের সহায়তা খুব একটা পাননি তারা।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিং স্পর্শ করে ১৭ রানে ৪ উইকেট নেন মুজারাবানি। গত ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং গুঁড়িয়ে ১৭ রানেই ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। শুরুতে ছোবল দিয়ে ম্যাচের সেরা অবশ্য ২৬ রানে ৪ উইকেট নেওয়া এনগারাভা।
টস জিতে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তটি নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু ম্যাচে আগে বোলিং নেন লিটন দাসের পরিবর্তে নেতৃত্ব পাওয়া তাওহিদ হৃদয়। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, তারা আগে ব্যাট করতেই আগ্রহী ছিলেন।
জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল আগ্রাসী। প্রথম তিন ওভারেই ৩৬ রান তুলে ফেলেন ব্রায়ান বেনেট ও টাডিওয়ানাশে মারুমানি। চতুর্থ ওভারে নাহিদ রানা আক্রমণে এসে টেনে ধরেন রাশ। মারুমানিকে (৯ বলে ১৪) ফেরানোর পাশাপাশি ওভারে রান দেন কেবল একটি।
এরপর বেশ আঁটসাঁট বোলিংয়ে রানের গতি আটকে রাখে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ফেরান ২০ বলে ২০ রান করা ডিওন মায়ার্সকে। নাহিদ দ্বিতীয় ওভারে ফিরে বিদায় করেন দারুণ খেলতে থাকা বেনেটকে (৩০ বলে ৪৪)।
পেসাররা ভালো করলেও দুই স্পিার নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদি হাসান ছিলেন খরুচে। রায়ার্ন বার্লের রান পর্যায়ে ছিল ৮ বলে ১। পরে হাত খোলেন তিনি শেখ মেহেদিকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে। সিকান্দার রাজা ফেরেন ১৩ বলে ২০ করে।
১৫ থেকে ১৯, এই ৫ ওভারে রান আসে মাত্র ৩০। তবে শেষ ওভারে নাহিদকে পেয়ে বসেন ব্র্যাড ইভান্স।
অষ্টাদশ ওভারে যখন পরপর দুই বলে দুটি শিকার ধরলেন নাহিদ, তার বোলিং বিশ্লেষণ তখন ২.৩-০-৩-৪!
তবে তার শেষ ওভারে চারটি চার মারেন ইভান্স। ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে ভোগানোর পর এই ম্যাচে ১০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। বার্ল অপরাচিত ২৫ বলে ২৩ রানে।

বাংলাদেশের রান তাড়ার শুরুতে আশার ঝিলিক দেখা গেলেও তা উবে যায় দ্রুতই। দুই ওপেনার সাইফ হাসান (১৫ বলে ১২) ও তানজিদ হাসানকে (৮ বলে ১৬) এক ওভারেই ফেরান এনগারাভা। পরের ওভারে মুজরাবানিকে উইকেট উপহার দেন পারভেজ হোসেন ইমন (৫ বলে ৫)।
সেখানেই পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আর সেভাবে সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি। আড়াই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মিল্টন শুম্বাকে স্লগ করে সীমানায় ধরা পড়েন হৃদয় (১৩ বলে ১৪)। নুরুল হাসান সোহান যেন মনে হলো, রান আউট হলেন স্বেচ্ছায়।
আরেকপ্রান্তে ইয়াসির তখন ভালোই খেলতে শুরু করেছেন। তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন শেখ মেহেদি। তবে দ্রুত রানের দাবি মেটতে পারেননি তিনি। ৩৭ বলে ৫২ রানের জুটিতে তার অবদান ১৮ বলে ১৯!
লক্ষ্য ক্রমে কঠিন হতেই থাকে। বড় শটের চেষ্টায় ইয়াসির অষ্টাদশ ওভারে ফিরতেই দলের সব আশার সমাপ্তি। ৩৮ বলে ৫৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ৮ রানের মধ্যে পতন হয় শেষ ৫ উইকেটের।
ইয়র্কারে নাহিদের স্টাম্প ভূপাতিত করে যখন ম্যাচ শেষ করলেন মুজারাবানি, ধারাভাষ্যে সেই সিকান্দার বাখ্ত বললেন, "৩২ রানে ব্যবধান মানে এই সংস্করণে বড় জয়।"
সিরিজের পরের ম্যাচ একই মাঠে শুক্রবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৭০/৬ (বেনেট ৪৪, মারুমানি ১৪, মায়ার্স ২০, রাজা ২০, বার্ল ৩০*, শুম্বা ১১, মুসেকিউয়া ০, ইভান্স ১৯*; তাসকিন ৪-০-২২-০, নাসুম ৩-০-৩২-০, শেখ মেহেদি ৪-০-৪১-০, নাহিদ ৪-০-২৬-৪, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩৫-২, সাইফ হাসান ১-০-১০-০)
বাংলাদেশ: ১৯ ওভারে ১৩৮ (সাইফ হাসান ১২, তানজিদ ১৬, পারভেজ ৫, হৃদয় ১৪, ইয়াসির ৫৪, নুরুল ৩, শেখ মেহেদি ১৯, সাইফ উদ্দিন ১, নাসুম ২, তাসকিন ৪*, নাহিদ ০; রাজা ৪-০-৩৩-০, এনগারাভা ৪-০-২৬-৪, মুজারাবানি ৪-১-১৭-৪, বার্ল ২-০-২০-০, ইভান্স , মায়ার্স ১-০-১০-০, শুম্বা ১-০-৪-১ )।
ফল: জিম্বাবুয়ে ৩২ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে জিম্বাবুয়ে ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: রিচার্ড এনগারাভা।