০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে কমানো যায় ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা

শুধু গরমে যত না কষ্ট, তারচেয়ে বেশি অস্বস্তি হয় আর্দ্রতার বৃদ্ধিতে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2025, 03:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

গরম না, ‘হিউমিডিটি’র জন্য অস্বস্তি হয় বেশি- এটি নিছক কথার কথা নয়— বরং সত্যি। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হলে শরীর ঘাম ঝরিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঠাণ্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

ঘাম ত্বক থেকে সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না, ফলে শরীরে অস্বস্তি, ক্লান্তি এবং ভারীভাব তৈরি হয়।

ঘরের ভেতরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুধু অস্বস্তিই তৈরি করে না, পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ছত্রাক জন্মাতে পারে, আসবাব নষ্ট হতে পারে, এমনকি শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

তাই ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে কার্যকর কিছু সমাধান দিয়েছেন, যা ঘরকে রাখবে শুষ্ক, আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর।

এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার

গোসল করা বা রান্নার সময় এগজন্স ফ্যান চালানো অনেক সময় বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তবে এটি ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি।

‘প্যানাসনিক ইকো সিস্টেমস’-এর ভেন্টিলেইশন বিভাগের দলীয় বিক্রয় ব্যবস্থাপক কেইন নেলসন রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “শুধু ব্যবহার চলাকালীন নয়, গোসল বা রান্না শেষ হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পর পর্যন্ত এগজস্ট ফ্যান চালিয়ে রাখতে হবে। কারণ গোসল থেকে আসা আর্দ্রতা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ঘরে থেকে যেতে পারে, যদি সক্রিয়ভাবে তা বের না করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “স্বয়ংক্রিয় সেন্সর যুক্ত এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করা ভালো, যা আর্দ্রতা বেড়ে গেলে নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়।”

‘আইডিয়াল পার্টনার্স’ নামের একটি মার্কিন বাণিজ্যিক ও আবাসিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্টনি পল একই প্রতিবেদেনে বলেন, “যদিও আর্দ্রতা মূলত আবহাওয়ার কারণে হয়। তবে সিলিং ফ্যান বা রুম ফ্যান চালিয়ে ঘরে বাতাস চলাচল বজায় রাখা খুবই কার্যকর।”

দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ করা

ঘরের আর্দ্রতা শুধু রান্না বা গোসলের ফলে হয় না, বাইরের আবহাওয়া থেকেও তা ঘরে ঢুকে পড়ে।

‘বেটার প্লেস ডিজাইন অ্যান্ড বিল্ড’-এর প্রধান নির্বাহী বার জাখাইম বলেন, “যত বেশি ফাঁকফোকর থাকবে, তত বেশি বাইরের আর্দ্রতা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করবে।”

‘রাইট হোম সার্ভিসেস’-এর সহ-কর্ণধার বেন হাবার যোগ করেন, “যদি জানালা বা দরজার সিল ঠিকমতো না থাকে, কিংবা অ্যাটিক বা বেসমেন্টে ফাঁক থাকে, তবে আর্দ্র বাতাস সহজেই ঢুকে পড়বে। দরজা ও জানালার চারপাশের সব ফাঁকফোকর ভালোভাবে সিল করা আর্দ্রতা ঠেকানোর অন্যতম উপায়।”

যদি নিশ্চিত না হন ঘর ঠিকমতো সিল করা আছে কিনা, তবে পেশাদার কারিগর দিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার

ডিহিউমিডিফায়ার আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের একটি সহজ ও প্রচলিত উপায়।

বার জাখাইম বলেন, “যেসব জায়গায় নিয়মিত স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকে, যেমন- বেইসমেন্ট, অথবা গরমের সময় আর্দ্রতা বেশি থাকে, সেখানে ডিহিউমিডিফায়ার বেশ কার্যকর।”

ক্যান্টার কনস্ট্রাকশন-এর কর্ণধার জন ক্যান্টার মন্তব্য করেন, “গুরুতর আর্দ্রতার সমস্যায় ঘরের জন্য পূর্ণাঙ্গ সমাধান দরকার হতে পারে। যেমন- সাম্প পাম্প, ড্রেন এবং ডিহিউমিডিফায়ারসহ সম্পূর্ণ ‘হোম এনক্যাপসুইলেশন।”

তবে কোন পদ্ধতিটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে বাড়ির গঠন ও প্রয়োজনের ওপর। এজন্য একজন এইচভিএসি (হিটিং, ভেন্টিলেশন, এয়ার কন্ডিশনিং) বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো।

এইচভিএসি সিস্টেমের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ

একটি সঠিকভাবে কার্যকর এইচভিএসি সিস্টেম শুধু আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণই করে না, বরং ঘরের বাতাসের মান উন্নত করে এবং আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখে।

যদিও বাংলাদেশের বাসাবাড়ির থেকে অফিস, হাসপাতাল ও কারখানায় এইচভিএসি সিস্টেম বেশি ব্যবহার হয়।

কর্টনি পল পরামর্শ দেন, “গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগে বছরে অন্তত একবার এইচভিএসি সিস্টেম পরীক্ষা করানো উচিত।”

তবে শুধু এসির তাপমাত্রা কমিয়ে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বেন হাবার বলেন, “অনেকেই মনে করেন তাপমাত্রা কমিয়ে দিলে আর্দ্রতার সমস্যা মিটে যাবে। তবে এতে এসি শুধু দীর্ঘক্ষণ চলে। আর মূল সমস্যার সমাধান হয় না।”

আরও পড়ুন

এসি ছাড়াও ঘর ঠাণ্ডা রাখার উপায়

প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে

গরমে এসির যত্নে বড় ভুল

গরমে ঘরে ঠাণ্ডা ভাব আনতে

তাপপ্রবাহ: কতটা গরম শরীরে সয়