Published : 15 Jul 2026, 05:33 PM
ঠান্ডা লাগা, অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যায় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। অনেক সময় জোর করে নাক ঝাড়ার চেষ্টা করলেও ভেতরের জমাট বাঁধা শ্লেষ্মা বা সর্দি বের হতে চায় না।
উল্টো নাকের ভেতরের নরম চামড়া ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়, নাক বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ কেবল অতিরিক্ত সর্দি জমাই নয়, বরং নাকের ভেতরের রক্তনালীগুলো ফুলে যাওয়া বা ‘ইনফ্লামেইশনের কারণেও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কেক স্কুল অফ মেডিসিন’-এর ‘ওটোল্যারিঙ্গোলজি’ (নাক, কান, গলা রোগ) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কেভিন হুর এবং সেডার্স-সিনাই মেডিকেল গ্রুপের বিশেষজ্ঞ ডা. টেলর কার্ল সেল্ফ ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন, জীবনযাত্রায় ছোট কিছু পরিবর্তন এবং ঘরোয়া উপায়ে কোনো ওষুধ ছাড়াই বন্ধ নাক দ্রুত সচল করা সম্ভব।
নিচে এমন ৩টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হল।
গরম ভাপ বা স্টিম থেরাপি
বন্ধ নাক খোলার সহজ ও প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ উপায় হল, গরম পানির ভাপ নেওয়া। গরম ভাপ নাকের ভেতরের জমাট বেঁধে থাকা শক্ত সর্দিকে নরম ও তরল করে দেয়, যা খুব সহজেই বের হয়ে আসে।
যেভাবে করতে হবে: বাথরুমের দরজা বন্ধ করে গরম পানির ঝরনা বা শাওয়ার ছেড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভেতরের বাষ্পযুক্ত বাতাসে শ্বাস নিন। ঝরনা না থাকলে একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে মাথা ও পাত্রটি একটি তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ৫-১০ মিনিট লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে হবে।
এমনকি এক কাপ গরম চা বা কফির গরম ধোঁয়া গভীরভাবে টেনে নিলেও সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলেও নাকের শুষ্কতা দূর হয়।
সঠিক নেসাল স্প্রে নির্বাচন
নাকের ভেতরের ফোলাভাব ও অস্বস্তি কমাতে ওষুধের দোকানে নানান ধরনের নেসাল স্প্রে পাওয়া যায়। তবে এগুলো ব্যবহারের কিছু নিয়ম রয়েছে।
স্যালাইন ও স্টেরয়েড স্প্রে: সাধারণ ওষুধের দোকানে স্যালাইন স্প্রে বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন স্প্রে ব্যবহারে নাকের ভেতরের প্রদাহ কমায়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।
ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে নিয়ে সতর্কতা: দ্রুত নাক খোলার জন্য কিছু ‘ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে’ পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এগুলো কোনোভাবেই টানা ২ থেকে ৩ দিনের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বেশিদিন ব্যবহারে ‘রিবউন্ড ইফেক্ট’ হয়, ফলে স্প্রে করা বন্ধ করলেই নাক আগের চেয়েও বেশি মারাত্মকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘুমানোর ভঙ্গি পরিবর্তন
অনেকেরই দিনের বেলা নাক কিছুটা সচল থাকলেও, রাতে বিছানায় পিঠ ঠেকানোর সঙ্গে সঙ্গেই নাক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর কারণ হল, মাধ্যাকর্ষণ এবং রক্ত সঞ্চালন।
চিত হয়ে শুয়ে থাকলে মাথার রক্তনালীগুলোতে রক্ত জমা হয়, যা নাকের ভেতরের টিস্যু বা কোষকলাকে আরও ফুলিয়ে দেয়।
যেভাবে করতে হবে: ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটির বদলে দুটি নরম বালিশ ব্যবহার করতে হবে, যেন মাথার অবস্থান হৃদযন্ত্র বা হার্টের চেয়ে কিছুটা উঁচুতে থাকে।
এতে রক্ত ও সর্দি নিচের দিকে নেমে যায় এবং বন্ধ নাক অনেকটাই হালকা বোধ হয়।
বাড়তি পরামর্শ
ডা. কেভিন হুর বলেন, “নাক বন্ধের সময় শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার বা পানি পান করুন।”
তবে কোনো ঘরোয়া উপায়েই দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নাক বন্ধ থাকলে, ঘরে বসে না থেকে অবশ্যই একজন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এর পেছনে নাকের হাড় বাঁকা বা পলিপাসের মতো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
বৃষ্টিতে ভিজে ফেরা: ঝটপট ৫ কাজ না করলে ধরতে পারে সর্দি-জ্বরে!