Published : 15 Jul 2026, 06:29 PM
সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেকোনো মেয়েই হয়ত চান, তার সঙ্গী যেন একটু শান্ত স্বভাবের বা ‘ইজিগোয়িং’ হন। যিনি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করবেন না, জেদ ধরবেন না, বরং সঙ্গিনীর ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেবেন।
তবে সমাজবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের নতুন এক ধারা বলছে ভিন্ন কথা।
নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘প্লাস্টিক ব্যাগ থিওরি’ দাবি করছে, অতিরিক্ত শান্ত কিংবা সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলা পুরুষরাই আসলে সম্পর্কের জন্য ক্লান্তিকর হতে পারেন!
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, সম্পর্কবিষয়ক মোটিভেশনাল স্পিকার, স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপ নিবাসী আলেসান্দ্রো ফ্রোসালি, প্রথম এই তত্ত্ব সামনে আনেন। তিনি এই ধরনের পুরুষকে নদীর পানিতে ভেসে যাওয়া একটি ‘প্লাস্টিক ব্যাগ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যাদের নিজস্ব কোনো গতি বা দিক নেই।
তারা নিজেরা কোনো উদ্যোগ নেন না, কোনো পরিকল্পনা করেন না। শুধু স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে সঙ্গিনীর সব সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করেন।
নিউইয়র্কের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. সাব্রিনা রোমানফ সেল্ফ ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “কোনো ঝড়-ঝাপটাময় বা বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার পর, এমন শান্ত ছেলেকে শুরুতে নিরাপদ আশ্রয় মনে হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ‘শান্ত’ ভাবটি আসলে দায়িত্ব এড়ানোর একটি মোড়ক মাত্র।”
এই বিশেষজ্ঞের মতে, একজন পুরুষ কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছাড়া শান্ত হতেই পারেন। তার মানে এই নয় যে তিনি সম্পর্কে নিষ্ক্রিয় থাকবেন।
একজন ‘প্লাস্টিক ব্যাগ’ পুরুষের প্রধান ৩টি লক্ষণ নিচে দেওয়া হল।
নিজের থেকে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া
ডা. রোমানফ বলেন, “সম্পর্কে ভালো সঙ্গী হওয়ার অর্থ হল, নিজের থেকে আগ্রহ দেখানো। তিনি নিজেই আগে টেক্সট করবেন, সঙ্গিনীর মন খারাপ হলে নিজে থেকে কথা বলবেন।
তবে প্লাস্টিক ব্যাগ স্বভাবের ছেলেরা সবসময় পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। ‘তুমি কী করতে চাও?’- এটি তাদের কাছে কোনো বিবেচনাবোধের প্রশ্ন নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক চাপ সঙ্গিনীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার একটি সহজ উপায় মাত্র।
নিজস্ব কোনো মতামত না থাকা
সম্পর্ক-বিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ কেইশা স্যান্ডার্স-ওয়াল্ড্রন একই প্রতিবেদনে বলেন, “সুস্থ মানসিকতার শান্ত ছেলেরাও ছোটখাটো বিষয়ে নিজের পছন্দ প্রকাশ করে। যেমন, কোন রেস্তোরাঁর খাবার ভালো বা কোন খেলার দল তার প্রিয়।
এমনকি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা ক্যারিয়ার নিয়েও তাদের নিজস্ব মেরুদণ্ড বা চিন্তাভাবনা থাকে।
তবে প্লাস্টিক ব্যাগ পুরুষদের নিজস্ব কোনো ব্যক্তিত্ব থাকে না। সঙ্গিনী অখুশি হতে পারে ভেবে তারা মুহূর্তেই নিজের অবস্থান বদলে ফেলে এবং সবকিছুতেই অন্ধের মতো সম্মতি দেয়।
মুখে রাজি হওয়া তবে কাজে প্রমাণ না দেওয়া
বিয়ের কথা বলা, ঘুরতে যাওয়া বা বাসা পরিবর্তনের মতো যেকোনো গুরুতর বিষয়ে তারা সহজেই ‘হ্যাঁ’ বলে দেয়। তবে বাস্তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা বিন্দুমাত্র নড়াচড়া করে না।
সঙ্গিনী বারবার মনে করিয়ে না দিলে বা নিজে থেকে সব বুকিং না করলে সেই কাজ আর কখনই আলোর মুখ দেখে না।
স্যান্ডার্স-ওয়াল্ড্রন বলেন, “এই মৌখিক সম্মতিগুলো আসলে ক্ষণিকের জন্য পরিস্থিতি শান্ত রাখার ফাঁপা অজুহাত মাত্র।”
আসল ‘ইজিগোয়িং’ সঙ্গী যেমন হন
এই বিশেষজ্ঞদের মতে, সত্যিকারের শান্ত বা পরিণত সঙ্গী তিনিই, যিনি জীবন পরিকল্পনা অনুযায়ী না চললেও পরিস্থিতিকে সুন্দরভাবে, নমনীয়তা ও হাসিমুখে মেনে নিতে পারেন। পাশাপাশি সম্পর্কে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আগ্রহ থাকা জরুরি।
কারণ সম্পর্ক চলে দুজনের সমান প্রচেষ্টায়, একজনকে অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে অন্যজনকে টেনে নিয়ে যাওয়ার নাম সংসার নয়।
আরও পড়ুন