Published : 15 Jul 2026, 08:43 PM
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. ওমরাও খান দীপু।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাব্বির মিয়া (২১) উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
মামলার বরাতে পিপি ওমরাও খান বলেন, ওই গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সামিয়াকে অপহরণ করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যান সাব্বির।
“সেই সময় সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে পাশের একটি ধান ক্ষেতের ড্রেনে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।”
তিনি বলেন, পরে সাব্বির নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
ঘটনার পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পরদিন ধান ক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সাব্বির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সাব্বিরকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে বলে জানান পিপি ওমরাও খান।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে একটি ধারায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া অপহরণের দায়ে আসামিকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মুক্তিপণের উদ্দেশে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
সেইসঙ্গে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টাসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত পুড়িয়ে ফেলায় আসামিকে পাঁচবছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান তিনি।