Published : 14 Jul 2026, 05:12 PM
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে দলীয় পদ হারিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলার সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার।
তিনি দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজের শিক্ষক।
সোমবার রাতে জেলা কর্মপরিষদের এক বৈঠকে তাকে জেলার সেক্রেটারি পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন।
জেলার নতুন সেক্রেটারির দায়িত্ব পেয়েছেন কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক।
পরে রাতে দলীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, “দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো পুরুষ সদস্য কোনোভাবেই নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে পারবেন না। তারই অংশ হিসেবে সুজা উদ্দিনকে অব্যহতি দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এনামুল হককে।”
এ বিষয়ে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, “কেন্দ্রীয় কমিটির নেওয়া এই সিদ্ধান্ত সারা দেশের রুকনদের জন্যই প্রযোজ্য। এ কারণে আমাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে আমার মনে কোনো ক্ষোভ বা অসন্তোষ নেই।”
তিনি বলেন, “এই সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার অনেক আগে থেকেই আমি ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এতোদিন দলের মধ্যে বিষয়টি মেনে চলার শর্ত শিথিল ছিল বলেই আমি দুই পদে বহাল থেকে কাজ করেছি।”
তবে চাকরি ছেড়ে দিলেই আবার স্বপদে ফিরে যেতে পারবেন বলে জানান তিনি।
জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী মহিলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে দলের সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই। এই শর্তের বাধ্যবাধকতা থাকায় সারা দেশে এই রকম সাতজন নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়াতেও সর্বসম্মতিক্রমে জেলার নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হককে।”
সদ্য জেলা সেক্রেটারির দায়িত্ব পাওয়া এনামুল হক বলেন, “সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে জেলার নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনেকটা আকস্মিক ভাবে। সবার সহযোগিতা পেলে সাধ্যমতো সাংগঠনিক কার্যক্রম সফলতার সাথে চালিয়ে নিতে পারব।”