Published : 21 Jul 2025, 03:38 PM
তীব্র গরমে ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে শীতলতার পরশ নেওয়ার ইচ্ছে হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এই স্বস্তির খোঁজেই অনেক সময় এমন কিছু কাজ করা হয়, যা এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় ভালো কিছু করার ইচ্ছা থেকেই বড় ভুল হয়ে যায়। ফল হয় বড় ধরনের মেরামতের খরচ ও ভোগান্তি।
কানাডাভিত্তিক ভবন নির্মাণ বিশেষজ্ঞ অরল্যান্ডো পেনার রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “এসি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বেশিরভাগ ঘটনা ভালো কিছু করার চেষ্টার ফল, যা পরে গিয়ে বড় মেরামতের বিল তৈরি করে।”
এই প্রেক্ষাপটে এইচভিএসি (তাপ, বায়ু চলাচল ও শীতলীকরণ) বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে এসির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কিছু প্রচলিত ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি। যা এড়িয়ে চললে এসির আয়ু বাড়বে এবং বিদ্যুৎ বিলও কম আসবে।
এসির তাপমাত্রা অত্যন্ত কমিয়ে দেওয়া
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘পে-লেস পাওয়ার’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যান্ডন ইয়াং একই প্রতিবেদনে বলেন, “সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে, মানুষ মনে করে এসির তাপমাত্রা খুব কমিয়ে দিলে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হবে।”
তবে বাস্তবতা হল, এসি একটি নির্দিষ্ট গতিতেই ঠাণ্ডা করে। সেটা ২৫ ডিগ্রি রাখুন বা ১৬ ডিগ্রি।
অর্থাৎ, ১৬ ডিগ্রি রাখলে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হবে না। বরং যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়বে। বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে। আর যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
ইয়াং পরামর্শ দেন, “সাধারণ তাপমাত্রার তুলনায় কয়েক ডিগ্রি বেশি রাখা এবং ছাদে লাগানো ফ্যান চালিয়ে ঘরের বাতাস ঘোরানো অনেক কার্যকর ও কম চাপের পদ্ধতি।”
ফিল্টার পরিষ্কার না রাখা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘প্রো-টেক হিটিং অ্যান্ড কুলিং’-এর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও সহ-সভাপতি লিসা পারভিস বলেন, “ফিল্টার দেখা যায় না বলে মানুষ তা ভুলে যায়। তবে এটি পরিষ্কার না থাকলে পুরো সিস্টেমে সমস্যা হতে পারে।”
ফিল্টারে ময়লা জমে গেলে বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ফলে এসি আরও পরিশ্রম করে এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। এমনকি এসির আয়ু কমে যেতে পারে বা পুরো যন্ত্র অকেজো হয়ে যেতে পারে।
পারভিসের মতে, “প্রতি মাসে ফিল্টার পরীক্ষা করা উচিত। আর অন্তত তিন মাস পরপর পরিবর্তন করতে হবে। তবে গরমকালে বেশি ব্যবহার হলে ১৫ দিন পরপর ফিল্টার দেখা উচিত।”
অরল্যান্ডো পেনার বলেন, “৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি তাপমাত্রায় এসি দিনরাত চলে, ফলে ফিল্টার দ্রুত ব্লক হয়ে যায়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করাই সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি।”
দরজা বন্ধ রাখা ও ভেন্ট ব্লক করা
অনেকেই মনে করেন, ঘরের দরজা বন্ধ রাখলে বা অপ্রয়োজনীয় রুমের ভেন্ট বন্ধ করে দিলে ঠাণ্ডা বেশি থাকবে। তবে এইচভিএসি বিশেষজ্ঞরা একমত, এটি এসির জন্য ক্ষতিকর।
লিসা পারভিস ব্যাখ্যা করেন, “ভেন্ট বন্ধ করলে এসি সিস্টেমের মধ্যে চাপ তৈরি হয়, যা বাতাসের সঞ্চালনে বাধা দেয় এবং ‘ডাক্টে লিক’ তৈরি করতে পারে। এতে এসির দক্ষতা কমে যায় এবং যন্ত্র দ্রুত নষ্ট হয়।”
এই সমস্যার সমাধান হল– প্রতিটি ভেন্ট খোলা রাখা, ঘরের ভেতরের দরজা খোলা রাখা এবং যন্ত্রনির্ভর অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট’ ব্যবহার করা। এতে এসির ওপর চাপ না বাড়িয়ে সঠিকভাবে ঠাণ্ডা পাওয়া সম্ভব হয়।
ভুল টেপ দিয়ে পাইপ সিল করা
এসির ‘ডাক্ট’ বা পানি ও বাতাস সঞ্চালনের পাইপ থেকে ঠাণ্ডা বাতাস বের হয়ে যাওয়ার সমস্যায় অনেকে নিজের মতো করে ফোম বা টেপ ব্যবহার করেন বা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
লিসা পারভিস বলেন, “অনেকেই এমন টেপ বা ফোম ব্যবহার করেন, যা এইচভিএসি ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়। ফলে কিছুদিন পর সেগুলো নষ্ট হয়ে বাতাস লিক করে, এসির কার্যকারিতা নষ্ট করে ফেলে।”
তাই কোনো সমস্যা মনে হলে বিশেষজ্ঞ ডেকে ‘ডাক্ট’ পরীক্ষা ও সঠিকভাবে সিল করানো উচিত। এটি এককালীন ব্যয় হলেও ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
সমস্যা দেখা দিলেও তা উপেক্ষা করা
একটি সাধারণ ভুল হল- এসি থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, গন্ধ, গরম বাতাস বা বেশি বিল এলেও গুরুত্ব না দেওয়া।
লিসা পারভিস বলেন, “ছোট সমস্যাগুলো অবহেলা করলে একসময় তা বড় ধরনের যান্ত্রিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।”
এসির মধ্যে শব্দ, ঠাণ্ডা কমে যাওয়া, ঘন ঘন বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎ খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া- এসব সমস্যাকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
ব্র্যান্ডন ইয়াং বলেন, “গ্রীষ্মকাল শুরুর আগে বা শীতের আগে এইচভিএসি পরিদর্শন করানো উচিত। এতে করে কম খরচে সমস্যাগুলো আগেই ধরা পড়ে এবং বড় বিপদ এড়ানো যায়।”
আরও পড়ুন
এসি ছাড়াও ঘর ঠাণ্ডা রাখার উপায়