Published : 17 Jul 2026, 12:44 AM
কানাডায় অভিবাসীদের বাবা-মা ও দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে চালু থাকা ‘প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস স্পনসরশিপ প্রোগ্রাম’- এ নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে সরকার।
বুধবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ বিভাগ (আইআরসিসি)।
আইআরসিসি জানিয়েছে, নতুন অভিবাসী ও নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ব্যবস্থাকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামে’ আবেদনের সংখ্যা নির্ধারিত আসনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ স্থগিত থাকবে। তবে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া চলবে।
কানাডা সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে থাকা বহু অভিবাসী পরিবার নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়ল। বিশেষ করে যারা বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে স্থায়ীভাবে কানাডায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তারা আপাতত আবেদন করার সুযোগ পাবেন না।
২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর ‘প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস’ কর্মসূচির আওতায় ১৫ হাজার মানুষকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ রাখলে পুরোনো আবেদনগুলোর জট কমবে এবং সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই কর্মসূচিতে আবেদনকারীদের সংখ্যা এত বেশি যে অনেক পরিবারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার ৫০০টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন বা 'ব্যাকলগ' অবস্থায় রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তি হতে সাধারণত প্রায় ৩৩ মাস সময় লাগছে, যা কেবেক প্রদেশের ক্ষেত্রে ৬৬ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
২০২০ সালে এই প্রোগ্রামটি চালুর সময় ২ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকে স্পন্সর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেখান থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হত।
কানাডা সরকারের সামগ্রিক অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ২০২৬ সালে অস্থায়ী কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) এবং স্টুডেন্ট ভিসার সংখ্যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্থবির থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিবিসি নিউজ