১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধে পারমাণবিক হামলা ঠেকিয়েছিলেন মোদী: দাবি পোল্যান্ডের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের এমন হাতেগোনা কয়েকজন নেতার একজন, যার মতামতকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন খুবই গুরুত্ব সহকারে নেন- বলেছেন পোল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধে পারমাণবিক হামলা ঠেকিয়েছিলেন মোদী: দাবি পোল্যান্ডের
নরেন্দ্র মোদী ও ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jul 2026, 09:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:40 PM

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়া থেকে ঠেকাতে ভারতের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে পোল্যান্ড।

দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভালদিস্লভ তেওফিল বার্তোসেভস্কির দাবি, ২০২২ সালের শেষদিকে ইউক্রেইনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা ঠেকাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা রেখেছিলেন।

বার্তোসেভস্কির মতে, মোদী বিশ্বের এমন হাতেগোনা কয়েকজন নেতার একজন, যার মতামতকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেন। তাছাড়া, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্কও কূটনৈতিক প্রভাব তৈরিতে সাহায্য করেছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোলিশ এই মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের কয়েক দশকের পুরোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়াদিল্লিকে এক অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যা শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ করে তুলেছে।

বার্তোসেভস্কির বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং সম্মানিত একজন রাষ্ট্রনায়ক। জোটনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বর্তমান রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন আসলে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে কী বলছেন, সেটির ওপর যথেষ্ট মনোযোগ দেন।"

পোলিশ মন্ত্রী আরও বলেন, মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ যখন ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, তখন পুতিনের ওপর প্রভাব খাটানোর মতো অল্প কয়েকজন নেতার মধ্যে মোদী অন্যতম।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই অল্প কয়েকজন মানুষের একজন, যিনি আসলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর কিছুটা চাপ ও প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেন। এই যুদ্ধ থামাতে ভারত নিশ্চিতভাবেই এই প্রভাব কাজে লাগাতে পারে।”

তার মতে, রাশিয়া যেসব দেশকে শত্রু মনে করে না, তাদের কাছ থেকে সংযত থাকার আহ্বান আসলে বেশি গুরুত্ব পায়। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নামও উল্লেখ করে বলেন যে, তারা কেউই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি চান না।

পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থানের প্রশংসা:

কেবল ইউক্রেইন যুদ্ধই নয়, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনা নিয়েও ভারতের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন বার্তোসেভস্কি। তার বক্তব্য, বড় অর্থনীতি হিসেবে ভারতের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ভারতের অন্যতম লক্ষ্য।

ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে পোল্যান্ড সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টার ফল সীমিত।

তেল আমদানি নিয়ে দ্বিমত দূর হয়েছে:

বার্তোসেভস্কি আরও জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের সস্তা দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা নিয়ে পোল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন কেটে গেছে। তিনি স্বীকার করেন যে, আগে ওয়ারশ ভারতের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিল, কারণ এই অর্থ পরোক্ষভাবে রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছিল।

তবে বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম দামে তেল কেনার পেছনে ভারতের অর্থনৈতিক কারণটি তারা এখন বুঝতে পেরেছেন। দুই দেশই এখন একে অপরের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট, তাই বিষয়টি নিয়ে এখন আর কোনো বড় মতবিরোধ নেই।

মোদীর প্রশংসায় পুতিন:

পোলিশ মন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যার কিছুদিন আগেই পুতিন নিজে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করেছিলেন। সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার যে কোনও চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

পুতিন বলেন, “সবাই বুঝতে পেরেছে যে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ ভারত এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। এই চাপ যেখান থেকেই আসুক না কেন, আমরা এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব দেখছি না। ভারত তাদের জাতীয় স্বার্থে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছে দেখে আমরা আনন্দিত।”

সূত্র: এনডিটিভি