Published : 04 Jul 2026, 03:46 PM
মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় বলিউডের সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে গুলির ঘটনায় করা মামলায় নতুন মোড় এসেছে।
ওই গুলিবর্ষণ, সালমানকে মেরে ফেলা নিয়ে ইমেইল ও উড়ো চিঠিতে হুমকিসহ, এ সংক্রান্ত ঘটনায় যার নাম বারবার এসেছে, সেই গ্যাংস্টার আনমোল বিষ্ণোই এবার ওই মামলায় আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আনমোল হলেন লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই।
এনডিটিভি জানিয়েছে, আনমোল বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে বন্দি আছেন। আত্মসমর্পণের জন্য মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ আদালতে আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে লেখা হয়েছে, ‘একটি সুষ্ঠু বিচার ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ ২০২৪ সালে সালমান খানের বাসভবনে গুলি চালানোর মামলায় তিনি আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক। এ জন্য তিনি মুম্বাইয়ের বিশেষ মকোকা (এমসিওসিএ) আদালতে আবেদন করেছেন।
আনমোলকে গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। পরে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তাকে গ্রেপ্তার করে।
সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের মামলায় আনমোল অভিযুক্তদের মধ্যে একজন। এ ঘটনায় এত দিন তাকে মুম্বাই পুলিশের পলাতক আসামির তালিকায় রাখা হয়েছিল।
আবেদনে আনমোল আরও জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে এনআইএর একটি মামলায় আইনি হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশ ছাড়া তার পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং মামলার শুনানির মুখোমুখি হতে জান। তাই তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চান।
এ জন্য তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেছেন তিনি।
আনমোল বলেছেন, এতে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হবে এবং মামলার বিচার দ্রুত এগোবে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারও রোধ করা যাবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আনমোল আরও জানিয়েছেন, মামলার বিচার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতেই তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভোরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবনে গুলি করে পালিয়ে যায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি।
পরে ঘটনার দায় স্বীকার করে আলোচিত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই বলেন, “এরপর গুলি আর বাড়ির সামনে হবে না। এবং সালমান নিজেকে বাঁচাতে আর কোনো সুযোগও পাবেন না।”
পুলিশও জানিয়েছিল ২০২১ সাল থেকে জেলবন্দি বিষ্ণোই যে ১০ জনকে ‘খতমের তালিকায়’ রেখেছে, তাদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে সালমানের নাম। এরপর পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ভিকি কুমার গুপ্ত, সাগর শিরিযোগেন্দ্র কুমার পাল, সনু কুমার বিষ্ণোই, অনুজ কুমার থাপন, মুহম্মদ রফিক চৌধুরী ও হরপাল সিং।
এর মধ্যে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে আত্মহত্যা করেন অনুজ কুমার।
কারাবন্দী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ভাই অনমোল বিষ্ণোইকে এই মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনার সাড়ে তিন মাস পর পুলিশ এই মামলায় এক হাজার ৭৩৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেয় মুম্বাইয়ের বিশেষ আদালতে।
সালমানের ভাষ্য, ১৪ এপ্রিল ভোরে তার ঘুম ভাঙে আতশবাজির মত একটি শব্দ শুনে। যে শব্দে তিনি চমকে ওঠেন। অভিনেতার দেহরক্ষী ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে তাকে জানান যে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের দোতলার (সালমানের বাসভবন) ব্যালকনি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
“পরিবারের সদস্যদের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে ভেবে আমি অস্থির হয়ে যাই।”
সালমান আরো বলেছেন এর আগেও তার ও তার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও তার ভাই আনমোল বিষ্ণোই ফেইসবুক পোস্টে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
বহুল আলোচিত এই মামলায় সালমানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী শুনানিতে আদালতে দাঁড়িয়ে বলেন, গুলির উদ্দেশ্য ছিল অভিনেতাকে ‘পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি চেষ্টা’।
আরও পড়ুন
সালমানের বাসভবনে গুলি: সাক্ষ্যে যা বললেন দেহরক্ষী
রোহিতের বাড়িতে গুলি: সালমান ও বাবা সিদ্দিকীর ঘটনার সঙ্গে মিল কোথায়?
এবার হুমকি নয়, সালমানের বাড়ির সামনে গুলি
সালমানের বাড়ির সামনে গুলি, গ্রেপ্তার ২
সালমানকে 'হত্যাচেষ্টা': অভিনেতার জবানবন্দি ও অভিযোগপত্রে যা আছে
মুম্বাইয়ের তিনবারের এমএলএ বাবা সিদ্দিকী খুনে বিষ্ণোই গ্যাং?