Published : 21 Apr 2026, 11:02 PM
শুটিংয়ের সময় পানিতে ডুবে কলকাতার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকেই 'মানসিক চাপে আছেন' আছেন বলে জানিয়েছেন ওই ধারাবাহিকে তার সহশিল্পী অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র।
তিনি বলেছেন, ওই ঘটনার পর থেকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে স্বাভাবিক জীবনযাপনে তিনি ‘ফিরতে পারছেন না’।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ লিখেছে, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় পাওয়া ধাক্কা এখনও ‘কাটিয়ে উঠতে’ পারেননি শ্বেতা।
সম্প্রতি ফেইসবুকে শ্বেতা মিশ্র নামের একটি প্রোফাইল থেকে অভিনেত্রীর কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়। এ নিয়ে শ্বেতা নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।
তবে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ফেইসবুকে তার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।
শ্বেতা বলেন, “আমি কোথাও কিছু পোস্ট করিনি। সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করা তো দূরের কথা। ইনস্টাগ্রামে আমার প্রোফাইল রয়েছে। অন্য কোনও প্ল্যাটফর্মে আমার কোনও প্রোফাইল নেই। আর কোথাও কিছু পোস্ট হয়ে থাকলে, সেটা হয়তো আমার ফ্যান পেইজ থেকে করা হয়েছে। তার দায়ও কি আমার? আমি গত ২৯ মার্চের পর থেকে সোশাল মিডিয়ায়া কোথাও কিছু লিখিনি বা বলিনি।"

নিজের ‘অসহায়ত্বের’ কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও রাস্তায় বের হতে দেখা যায়নি। কেউ আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। সবাই আমাকে অস্থির করে তুলছেন। একজনকে এভাবে সবাই দোষারোপ করে গেলে আমি কবে আবার স্বাভাবিক হতে পারব জানি না। কিন্তু এই দুর্ঘটনায় আমার অপরাধটা কোথায়? আমি তো ক্রিমিনাল নই।”
২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে মারা যান রাহুল। রাহুলের মৃত্যুর দিন ফেইসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে হাসপাতালের বাইরে ভীত সুরে কথা বলতে শোনা গিয়েছিল শ্বেতাকে।
সেসময় শ্বেতা বলেছিলেন, "রাহুলদা ঠিক আছে তো? আমি আর রাহুলদা তো আধ ঘণ্টা আগেও শুটিং করছিলাম। আমিও জলে পড়ে গেলাম। আমি তো ঠিক আছি। রাহুলদা ঠিক আছে তো? আমি কথা বলব, আমাকে যেতে দিচ্ছে না।"
এই ভিডিও নিয়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনাও হয়েছিল। তবে এরপর আর দেখা যায়নি শ্বেতাকে। এমনকি রাহুলের শেষকৃত্যেও আসেনি তিনি।
শ্বেতা বলেন, “আমি এখনও খুব অসুস্থ। জানি, আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে। কিন্তু সেটা হয়ে উঠছে না। বুঝতে পারছি, এই ঘটনা থেকে বেরিয়ে আসতে আমার অনেকটা সময় লাগবে। এভাবে বিষয়গুলো চলতে থাকলে হয়ত কয়েক দিনের মধ্যে আমাকে শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে। ক্রমাগত আক্রমণে পুরো বিষয়টা আমার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।”
রাহুলের মৃত্যুর পর প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ ওঠে।
রাহুলের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তমলুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, পানিতে ডুবেই রাহুলের মৃত্যু হলেও তার ফুসফুসের ভেতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে বালি পাওয়া গেছে। তার খাদ্যনালী, শ্বাসনালী, পাকস্থলীর ভেতরেও বালি ঢুকে যায়। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ময়নাতদন্তকারী দলের পর্যবেক্ষণ হল, অল্প সময় নয়, বরং দীর্ঘক্ষণ ধরে পানির নিচে ডুবে থাকলে এমন হয়।
রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় হয় পুরো টালিগঞ্জে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী-কুশলীরা কর্মবিরতিতে নামেন।
সে সময় প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টসের’ বিরুদ্ধে ‘আর্টিস্ট ফোরামের’ পক্ষ থেকে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় মামলা করা হয়। এছাড়া রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও ঘটনাস্থল তালসারি থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এসব মমলার তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন:
রাহুলের মৃত্যু: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী-কুশলীদের কর্মবিরতি উঠল
রাহুলের মৃত্যু: প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা
রাহুলের মৃত্যু: প্রতক্ষ্যদর্শীদের সঙ্গে শুটিং টিমের কথা 'মিলছে না
রাহুলের মৃত্যুর আগে-পরে কী ঘটেছিল
ময়নাতদন্ত: দীর্ঘক্ষণ 'পানিতে ডুবে থাকায়' রাহুলের মৃত্যু হয়