Published : 06 Jun 2026, 02:33 AM
ঈদের ছুটি শেষে পোশাক কারখানা খোলার আগে যানবাহনের চাপের মধ্যে যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এরমধ্যে ছয়টি দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। কখনো সেতুর দুই লেন, কখনো এক লেন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সেতুর দুই পাড়েই।
সব মিলিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই সেতুর পশ্চিমপাড়ে সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে মানুষকে।
বিকেলের পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সবশেষ রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে দুই বাসের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে আবারো প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।

এবার কোরবানির ঈদ ঘিরে ২৫ থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি চাকুরেরা। তবে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়।
সেই ছুটি শেষে শনিবার থেকে পুরোদমে কাজে ফিরছে পোশাক কারখানাগুলো। তাই শুক্রবার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে।
তাতে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর মধ্যেই যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে একের পর এক যানবাহন।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত সময়ে সেতুর ওপরে ছোট বড় ২৪টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন তারা।
এর মধ্যে সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের যানবাহন পারাপার বন্ধ রেখে সেতুর প্রতিটি লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করা হয় বলে জানান ওসি।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যানবাহন বিকল হওয়া, একটার পিছনে আরেকটার ধাক্কাসহ নানা কারণে সেতুর ওপরে যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়। সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়।
“বর্তমান পরিস্থিতিতে সেতুর উভয় লেনেই যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যে কোনো একটি যানবাহন বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। আজ যানবাহনের চাপও অনেক বেশি, ফলে সংকট আরও বেড়েছে।”

সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ রাত ১১টার দিকে মোবাইলে বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার পর যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় পশ্চিমপাড়ে ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলেন তিনি।
“এখন কোনাবড়ি থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে যানজটে আটকে আছি। কখন সেতু পার হতে পারব বুঝতে পারছি না।”
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সার্বক্ষণিক সিসি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজে মহাসড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতির তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
যানবাহন ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই মহাসড়ক দিয়ে সাধারন সময়ে ১৭/১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজার অতিক্রম করে।